স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। সুযোগ গ্রহণকারী এবং হুজুগ সৃষ্টিকারীরা এই কাজ করছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলীয় সভানেত্রীর কাছে সকলের আমলনামা আছে, আমলনামা অনুসারে ব্যবস্থা নেবেন নেত্রী। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নও সেভাবে দেওয়া হবে।
দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে নানক বলেন, সরকার, আওয়ামী লীগ ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। ভুলে গেলে চলবে না সামনে নির্বাচন, যদি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না আসতে পারে, তাহলে অতীতের মতো বাংলাদেশে দুর্যোগ নেমে আসবে।
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখার সময় তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, এই সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। একসময় মেয়েরা ৫ম শ্রেণির পর ঝরে যেতো, এখন ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করছে। উপবৃত্তি আরও বাড়ানো হলে মেয়েরা আরও এগিয়ে যাবে। তিনি দেশকে এগিয়ে নেবার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে বার বার ক্ষমতায় রাখা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে পরম মমতার চোখে দেখেন, চর, উপকূল, হাওর এবং বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের প্রতি তার ভালোবাসায় মোহিত হয়েছি আমি।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বললেন,করোনার দুই বছর পর বিশ্ব বাজার এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে নি। এরমধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের ঢেউ বাংলাদেশে লেগেছে। আর সেই সুযোগে বাংলাদেশের দ্রব্য মূল্য নিয়ে সি-িকেট চক্র বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যারাই বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ে সি-িকেট করছে, তাদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও প্রশাসনকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারী রাখার অনুরোধ জানান।
বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলার তারিখ ঘোষণা করেন। আহমেদ হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। নির্বাচন শতভাগ নিরপেক্ষ হবে। সকলে মিলে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। জেলা প্রতিনিধি সভা সফল করার জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভায় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও শামীমা শাহরিয়ার এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, আব্দুল হেকিম, আকমল হোসেন, ফজলুল রহমান, অমল কর, শামীম আহমদ বিলকিস, আজমল হোসেন সজল, সফিকুল রহমান, আবুল কালাম, মোবারক হোসেন, আল আমিন চৌধুরী, বেনজির আহমদ, নবী হোসেন, আব্দুল খালেক, গোলাম মোস্তফা, নূরে আলম সিদ্দিকী তপন, আব্দুল কদ্দুছ, আব্দুল কাদের, জগলুল হায়দার, ফখরুল ইসলাম, পাখি মিয়া, হোসেন আলী, আব্দুল কদ্দুছ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জেলা প্রতিনিধি সভায় ৮৮ ইউনিয়য়ের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও চার পৌরসভা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক, ১২ উপজেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক, যুগ্মসম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত দলীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা কার্যকরি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতা কর্মীর উপস্থিতি ছিল জেলা সদরে।