- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘‘আমারে দেইন স্যার, আমি মরিযাইরাম’’

স্টাফ রিপোর্টার
‘আমারে দেইন স্যার, আমি মরিযাইরাম (মরে যাচ্ছি), আমারে বাঁচাইন। আমার ঘরও খানি (খাবার) নাই স্যার, আমারে একটু খানি দেইন স্যার, আমারে বেটাইন্তে (পুরুষ) ঠেলাইয়া পানিত ফালাইদেরা।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের ছমিরুন পানিতে নেমে দু’হাত তুলে ত্রাণের জন্য আকুঁতি জানাচ্ছিলেন। তার এই আকুতি খেয়াল করছিলেন না ত্রাণ বিতরণকারী কোস্টগার্ডের সদস্যরা। পরে একজন গণমাধ্যম কর্মীর সহায়তায় ত্রাণ পান ছমিরুন বেগম।
রোববার সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। কিন্তু মানুষের তুলনায় ত্রাণ অপর্যাপ্ত ছিল। ত্রাণের আশায় বুক সমান পানি পর্যন্ত নেমেছিলেন শত শত শিশু ও বৃদ্ধরা। এমন ভিড় ঠেলে আসতে পারছিলেন না ছমিরুন। কেবল ছমিরুন নয়, ত্রাণের প্যাকেটের জন্য হাত তুলে আঁকুতি জানাচ্ছিলেন আরও অনেকেই।
ছমিরুন জানান, স্বামী রমজান আলী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন। বাবুর্চিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তিনি, অন্যদের পেঁয়াজ মশলা বেটে দিয়ে পান কিছু টাকা। সেই টাকা দিয়ে চলে সংসার। সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। বন্যায় চারিদিকে পানি থাকায় পাচ্ছেন না কোনো কাজ। কাজ না পেয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এই নারী। ত্রাণ দিতে নৌকা আসবে শুনে এসেছেন নদীর পাড়ে। বন্যার পানিতে ডুবার দশ দিন পর এই প্রথম পেয়েছেন এক প্যাকেট খাদ্য সহায়তা।
ত্রাণ বিতরণ কর্মকর্তা কোস্টগার্ডের লে. কাজী আকিব আরাফাত বললেন, আমাদের কাছে যথেষ্ট ত্রাণ আছে। সবাইকে দেওয়া সম্ভব। নৌকায় করে অনেক ত্রাণ নিয়ে এসেছি। কিন্তু মানুষের চাপে নাজেহাল অবস্থা। এজন্য সবাইকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে গেল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা বন্যা কবলিত হয়। শুক্রবার ভোর তিনটায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায় জেলার ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকা। তালা দেওয়া অনেক দুতলা গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের তালা ভেঙে জীবন বাঁচিয়েছেন লাখো মানুষ। ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে ঘরে থাকা ধান—চাল, গহপালিত পশু, জমিতে থাকা সবজী, পুকুরের মাছ সবই ভেসে গেছে। এখনো (রোববার পর্যন্ত) হাজারো মানুষের ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই, সিংহভাগ এলাকা বন্যা কবলিত।

  • [১]