- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আমার বাবা কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

হোসেন তওফিক চৌধুরী
স্মৃতি আনন্দের। স্মৃতি বেদনার, স্মৃতি জাগরূক। স্মৃতি ইতিহাস। স্মৃতি কথা কয়। স্মৃতি রোমন্থন করে মানুষ পুলকিত হয়। ফেলে আসা অতীত জীবন্ত হয়ে আবির্ভূত হয়। আবার কোনো কোনো স্মৃতি বেদনার ও দুঃখেরÑসারাজীবন কাঁদায়। এই স্মৃতি দুঃখ ও আফসোস হয়েই থাকে।
মানুষের জীবনে বাবা-মায়ের স্মৃতি এক অমূল্য ও বিরল সম্পদ। কিন্তু যারা অত্যন্ত শৈশবে বাবা মাকে হারায় তাদের স্মৃতি কোথায়? আমি শৈশবেই বাবাকে হারিয়েছি। বাবার কিছু স্মৃতি আবছা আবছা আমার মনে আছে। ১৯৫৭ সালে বাবা যখন মারা যান, তখন আমি সুনামগঞ্জের সরকারি জুবিলী হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ছোট ভাই হাসান শাহরিয়ার তখন ঐ স্কুলেই ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। আমার বাবার নাম মকবুল হোসেন চৌধুরী। ১৯৫৭ সালে তিনি ‘সিলেট পত্রিকা’র সম্পাদক। সিলেটে থেকে বাবা পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। আমরা থাকতাম সুনামগঞ্জে। ‘সিলেট পত্রিকা’র জন্য আমরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম। পত্রিকা এলে ভাই-বোনদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যেতো। কে কার আগে পড়বে। যদিও পত্রিকার মান এবং সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপারে কোন ধারণাই আমাদের ছিল না। তবুও পত্রিকার মজার মজার কয়েকটি শিরোনাম এখনো আমার মনে আছে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও বাবা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ছিলেন। ভাসানী যখন আওয়ামী লীগ ছেড়ে দেন, তখন সিলেট পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে, আমি আর বাইতে পারলাম না’। একবার বেশ কিছুদিন ভাসানীর বক্তৃতা-বিবৃতি নেই, একেবারে চুপচাপ। সিলেট পত্রিকায় সংবাদ শিরোনাম হলো ‘মওলানা ভাসানী ভাসিতে ভাসিতে ডুবিয়া গেলেন’। আরও দুই একটি শিরোনাম এখনো আমার মনে আছে। যেমন-‘ঠেলার নাম বাবাজি’, ‘কেহ কারে নাহি পারে সমানে সমানে’। প্রায় প্রতি সংখ্যার পত্রিকায়ই এমনি সুন্দর সুন্দর অর্থবোধক শিরোনাম থাকতো। ১৯৫৭ সালের ২০ ডিসেম্বর সিলেটে বাবার ইন্তেকালের পর ‘সিলেট পত্রিকা’ বন্ধ হয়ে যায়।
বাবা সিলেট পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রায়ই সিলেটে যেতেন। আমরা তাঁর সঙ্গে সিলেটে যাওয়ার বায়না ধরতাম। তিনি কখনো আমাকে বা শাহরিয়ারকে সঙ্গে নিতেন। বাবার সঙ্গে সিলেট গিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছিল অত্যন্ত মজার। আজো ২য় পৃষ্ঠায় দেখুন
আমার মনে আছে তাঁর সঙ্গে রাজনীতিবিদ মোদাব্বের হোসেন চৌধুরী, বসন্ত কুমার দাস, আবদুল্লা প্রমুখের বাসায় গিয়েছি। বাবার সঙ্গেই আমি প্রথম মুসলিম সাহিত্য সংসদে যাই। মুহাম্মদ নুরুল হক সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীর বাবা আবদুল গফুর চৌধুরী সুনামগঞ্জের ডিআই ছিলেন। বাবার সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতা ছিল অত্যন্ত প্রবল। তাঁর রায়নগরের বাসায় বহুবার গিয়েছি। প্রফেসর গোলাম এহিয়া চৌধুরী এককালে সুনামগঞ্জে ফুড কন্ট্রোলার ছিলেন। পরে শিক্ষা বিভাগে যোগদান করে ডিডিপিআই হয়েছিলেন। তাঁর আম্বরখানা বাসায়ও গিয়েছি। একবার তাঁর বাসায় যাওয়ার সময় রিক্সা দুর্ঘটনায় বাবার বাম হাতের হাড় ভাঙ্গে এবং তিনি দীর্ঘদিন কষ্ট ভোগ করেন। তাঁর সঙ্গেই আমি ‘রশীদ মনজিল’ ও আইনজীবী আবদুল আহাদ চৌধুরীর বাসায়ও বেড়াতে গিয়েছি।
সুনামগঞ্জের সভা সমিতিতে বাবা ও দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ যোগদান করতেন। হয়তো সভাপতি বা প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতেন। আমাদের সময়ে ঘটা করে ‘নজরুল জয়ন্তী’ উদযাপিত হতো। কবি নজরুল বাবার বন্ধু ছিলেন বলেই নজরুল জয়ন্তীতে অবশ্যই বাবার উপস্থিতি ও বক্তব্য প্রদান অনেকটা স্থিরকৃত ব্যাপার ছিলো। একবার নজরুল জয়ন্তীতে বাবার উপস্থিতিতে আমি নজরুলের ‘মোহরম’ কবিতা আবৃত্তি করে পুরস্কার পেয়েছিলাম। বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন সেদিন।
একবার মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কাজে সুনামগঞ্জে এলেন সাংবাদিকতার দিকপাল মাওলানা আকরাম খাঁ। তিনি বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করেন। ইসলামি একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা আবুল হাসিম একবার সুনামগঞ্জে এসে দীর্ঘদিন থেকেছেন। ঐ সময়ে প্রায়ই তিনি আমাদের হাসননগরের বাসায় আসতেন। এছাড়া, বিপ্লবী ও সাংবাদিক ফজলুল হক সেলবর্ষী, আব্দুর রহমান সিংকাপনী প্রমুখ নেতা আমাদের বাসায় আসতেন।
বাবা আমাদেরকে খুব ¯েœহ করতেন। কিন্তু তাঁর ¯েœহ ও অভিভাবকত্ব বেশিদিন আমার ভাগ্যে জুটলো না। নামাজ পড়া, সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গেই বাসায় ফেরা এবং সকলের সঙ্গে আদবের সাথে ব্যবহারের তাগিদ দিতেন তিনি। রীতিমতো কোরআন তেলাওয়াত করাতেন। নামাজ পড়াতেন। এসব স্মৃতিই আমার মনে আছে। বাবাকে সবাই সম্মান করতো। তাঁর জীবনের কোনো কিছুই তখন জানতাম না। তাঁর অতীত সম্বন্ধে কোন ধারণাই ছিলো না। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের জীবনের উপর দিয়ে অনেক ধকল গিছে। অনেক চড়াই-উতরাই ও ঘাত-প্রতিঘাত পার হয়ে বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি।
বাবা সম্পর্কে আমার জানার সুযোগ হয়েছে তাঁর মৃত্যুর পর। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বাবা সম্পর্কে লেখা বের হয়েছে। আজো হচ্ছে। যতই পড়ছি, জানছি, অবাক হচ্ছি আর শ্রদ্ধায় মন ভরে যাচ্ছে, পুলকিত হচ্ছে। বাবার জীবন মাত্র ৫৯ বছরের। এই জীবন ছিলো তাঁর কর্মময়। খেলাফত আন্দোলন করেছেন, জেল খেটেছেন, পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন, সিলেটে নজরুল সংবর্ধনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। সুনামগঞ্জের ঋণ সালিশ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তদানীন্তন আসাম ব্যবস্থাপক সভার একজন তুখোড় সদস্য ছিলেন এবং পরিষদের হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিলেটের সাপ্তাহিক ‘যুগবাণী’ এবং সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সম্পাদনা করেন। আবদুল মতিন চৌধুরী ও আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কাজ করেছেন। সিলেটের ঐতিহাসিক গণভোট আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ের সাহসী সন্তান হিসেবে বীরদর্পে ভূমিকা রেখেছেন। বাবা সম্পর্কে অনেক তথ্য আমরা জানি, আবার অনেক তথ্য জানি না, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। ১৯৬৯ সালে এমএ ফাইনাল পরীক্ষায় ফলের অপেক্ষায়। এমনি সময়ে ঢাকায় রাজনীতিবিদ হামিদুল হক চৌধুরী একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা বের করার উদ্যোগ নেন। আমি এই পত্রিকায় চাকুরীর জন্য হামিদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করি। তিনি আমার বাবার বন্ধু ছিলেন। এই পত্রিকাই পরে দৈনিক ‘পূর্বদেশ’ হিসেবে বের হয় এবং আমাকে এই পত্রিকায় সহ সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়। পরে আমাকে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭৫ সালে সরকারি নির্দেশে দুটো বাংলা ও দুটো ইংরেজি পত্রিকা বাদে দেশের সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে ‘পূর্বদেশ’ এর ভাগ্যেও তাই ঘটলো। পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করি।
১৯৬৮ সালে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অতীত দিনের স্মৃতি’ প্রকাশিত হয়। তাঁর বইয়ে বাবা সম্পর্কে একটি অধ্যায় রয়েছে। আবুল কালাম শামসুদ্দীন খ্যাতি লাভ করেছেন ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে। কলকাতায় তিনি যখন দৈনিক ‘সোলতান’ পত্রিকায় কাজ করতেন তখন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সিলেট থেকে গিয়ে আমার বাবা ঐ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালের এপ্রিল-মে মাসে যখন পত্রিকার অবস্থা খারাপের দিকে , তখন আবুল কালাম শামসুদ্দীন সাহেব ‘সোলতান’ ছেড়ে মাসিক ‘মোহাম্মদী’ তে যোগ দেন। তবে মূলতঃ অর্থাভাবে পত্রিকা বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত বাবা তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। আবুল কালাম শামসুদ্দীন তাঁর বইয়ে কলকাতার সাংবাদিক জীবনের অনেক তথ্য ও ঘটনা তুলে ধরেছেন। বইটি বাজারে আসার প্রায় বছরখানেক পর একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম দৈনিক ‘পাকিস্তান’ কার্যালয়ে। তাঁর কক্ষে ঢুকে পরিচয় দিতেই আমাকে বসতে বলে বাবার সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, ‘তাঁদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ। মকবুল হোসেন চৌধুরীর প্রশংসায় তিনি ছিলেন পঞ্চমুখ। ‘সোলতান’ বন্ধ হওয়ার পর মকবুল হোসেন কলকাতা থেকে গেলে আরো বড় মাপের সাংবাদিক হতেন, এই উক্তি করে তিনি বললেন, ‘তবে তিনি জীবনে সফলকাম হয়েছেন’। আমার বাবাকে কেন্দ্র করে কলকাতার অনেক ছোট ছোট ঘটনা সেদিন আমাকে শুনিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন। ‘আমার বড় মেয়ের নাম রেখেছিলেন তোমার বাবা, স্মৃতি রোমন্থন করলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন সাহেব। আমার অনুজ হাসান শাহরিয়ার ও আমি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি শুনে খুশি হলেন। বাবার মতো বড় ও সাহসী সাংবাদিক হওয়ার চেষ্টা করো, এই উপদেশ মাথায় নিয়ে সেদিন ‘দৈনিক পাকিস্তান’ অফিস ত্যাগ করেছিলাম।
১৯৭৪ সাল। সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী তখন সরকারের সমবায় দফতরের প্রতিমন্ত্রী। একদিন তাঁর একান্ত সচিব এ কে মোমিন এসে আমাকে জানালেন, গাজী সাহেব টাঙ্গাইলের সন্তোষে যাবেন এবং আমাকে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার অনুরোধ করেছেন। গাজী সাহেবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিলো অত্যন্ত মধুর। তাঁর অনুরোধ রক্ষা না করে আমার উপায় নেই। পরদিন আমরা সন্তোষে গেলাম। সন্তোষ মানেই মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। সন্তোষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা না করে কোন রাজনীতিবিদ ফিরে আসেন না। গাজী সাহেবের বেলায়ও তার ব্যাতিক্রম হলো না। মওলানা সাহেবের বাড়িতে পৌঁছলে তিনি আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানান। অনুমান করলাম আগে থেকে খবর দেয়া হয়েছিলো। আমরা সবাই কদমবুসি করলাম। কেমন আছো? মওলানা সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, যেমনটি তিনি করেন যে কোন একজনকে। ‘ওকে আপনি চিনেন? প্রশ্ন করলেন গাজী সাহেব। ‘সে তো একজন সাংবাদিক’। আমি ‘পূর্বদেশ’ এর একজন রিপোর্টার এই পরিচয় দিয়ে গাজী সাহেব বললেন, ‘ওর বাড়ি সিলেটে। মকবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে।’ বাবার নাম শুনেই মওলানা সাহেব আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ‘তোমার বাবা আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলো’ এই মন্তব্য করে বললেন, ‘মকবুল হোসেন ও আমি একসঙ্গে পরিষদে ও বাইরে আন্দোলন করেছি, মুসলীম লীগ করেছি। তিনি সুনামগঞ্জের নেতাদের মধ্যে মুনাওয়ার আলী, আব্দুর বারী চৌধুরী ও দেওয়ান মোহাম্মদ আহবাবের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তাঁদের পরিবারের খবর জানতে চাইলেন। এরপর মওলানা সাহেব বললেন, ‘তোমার সঙ্গে করাচী দেখা হয়েছে।’ বললাম, ‘সে আমার ছোট ভাই হাসান শাহরিয়ার, করাচীর ‘ডন’ পত্রিকার রিপোর্টার এবং ‘ইত্তেফাক’ এর করাচি সংবাদদাতা ছিল। সে এখন ঢাকায় ‘ইত্তেফাক’ এর বিশেষ সংবাদদাতা। হয়তো তার সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে।’ মওলানা সাহেব বললেন, ‘তোমার বাবা নামকরা সাংবাদিক ছিলো। তোমরা দুই ভাই সাংবাদিক, এটা অত্যন্ত খুশির কথা।’ এই সফরের মূল ব্যক্তি আমি ছিলাম না, ছিলেন দেওয়ান ফরিদ গাজী। কিন্তু মওলানা সাহেব সেদিন ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর ফেলে আসা দিনগুলোতে। আসাম ব্যবস্থাপক পরিষদ, মুসলিম লীগ, বাঙ্গাল খেদাও বিরোধী আন্দোলন, লাইন প্রথা, ইংরেজ বিরোধী সংগ্রাম এবং সিলেটে গণভোট সেদিন প্রাধান্য পেয়েছিলো আমাদের আলোচনায়। দেওয়ান ফরিদ গাজী নিজেও গণভোট সহ বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। কাজেই মওলানা সাহেবের কথাগুলো তিনি শুনছিলেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো। তিনিও বোধ করি ভাবাবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
বাবার মৃত্যুর সময় আমরা একেবারে ছোট। তিনি মারাত্মক অসুস্থ। হয়তো টের পেয়েছেন, আর বাঁচবেন না। আত্মীয়-স্বজন তাঁকে দেখতে এলে তিনি বলতেন, ‘আমি আমার ছেলেদের মানুষ করতে পারলান না। না জানি, এদের ভাগ্যে কি আছে।’ তিনি আমাদের মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই অতৃপ্তি এবং আফসোস নিয়েই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দোয়া করি, আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন। তিনি ১৮৯৮ সালে তাহিরপুর থানার বিন্নাকুলী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আবুল হোসেন চৌধুরী এবং মাতার নাম আজিজুন্নেছা চৌধুরানী। তিনি ১৯৫৭ সালের ২০ শে ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন।
লেখক : আইনজীবী-কলামিষ্ট।

  • [১]