স্টাফ রিপোর্টার
জেলার সর্বত্র প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা সংক্রমণের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। সিলেট বিভাগে সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুনামগঞ্জ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলাকে তিন জোনে ভাগ করা ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশাবলি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলায় এখন শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৭৮৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জে নতুন করে আরও ২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৪ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন আরও ১৭৫ জন। এদিকে শনিবার নতুন করে সুনামগঞ্জ জেলার ২ উপজেলার আরও ১৪ জন আরোগ্য লাভ করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩ জন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলা থেকে ২০ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৩ জন, শাল্লা উপজেলা থেকে ১১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ১৫ জন, দিরাই উপজেলা থেকে ৭ জন, ছাতক উপজেলার ২৭ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে ৭ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা থেকে ১২ জন, তাহিরপুর উপজেলা থেকে ১৪ জন, ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ১৬ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, শনিবার সুনামগঞ্জ জেলায় ২৫ জনকে হোম কেয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। ছাড়পত্র দেওয়া হয় ২৮ জনকে। বর্তমানে কেয়ারেন্টাইনে আছেন ২৭৮ জন। ২৯ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে। মোট আইসোলেসনে গেছেন ৭৮৬ জন। করোনা সন্দেহে এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৭০০১ জনের। ৬৮৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনার রিপের্টের অপেক্ষায় আছেন ১৫৫ জন।
এই পর্যন্ত জেলায় সবচেয়ে বেশী ২০৯ জন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ছাতক উপজেলায়। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৯৭ জন, দিরাই উপজেলায় ২১ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৬২ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৬২ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬৯ জন, শাল্লা উপজেলায় ৩২ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬১ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৭ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৮ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ২৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। অদ্যাবদি মোট কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫৯১১ জন। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন ৫৬৩৩ জন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৬২৯ জন।
উল্লেখ্য, করোনা চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা উপজেলায় ৩টি করে বেড এবং সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও আনিছা হেলথ কেয়ারে ২টি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় করোনা চিকিৎসার জন্য মোট ১৩১ টি বেড রয়েছে।