- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আলতো ছোঁয়ার আক্ষেপ দিয়ে দিনের শেষ

সু.খবর ডেস্ক
ছক্কা মেরে ঋদ্ধিমান সাহার সেঞ্চুরির পরও ইনিংস ঘোষণা করেনি ভারত। মনে হচ্ছিল অন্তত ৭০০-এর আগে ইনিংস ঘোষণা করছে না স্বাগতিক দল। ইনিংস ঘোষণাটা চমক হয়েই এসেছে। ৬ উইকেটে ৬৮৭ রানেই থামল ভারত। হায়দরাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করেছে ১ উইকেটে ৪১ রান। মুশফিকেরা এখনো পিছিয়ে ৬৪৬ রানে।
তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে নিচ্ছিলেন। ৬৮৭ রানের পাহাড়টা দেখেও ধীর-স্থির থাকলেন, মাথা গরম করে চার-ছক্কা মারতে যাননি। দিনের সময়টা কাটিয়ে দেওয়াতেই মনোযোগ দিয়েছেন দুজন। সৌম্যের একটা পেরিস্কোপ শটেই শঙ্কা জেগেছিল, চার রানের জন্য ওরকম ঝুঁকি দিনের শেষ ঘণ্টায় না নিলেও পারতেন। সৌম্য হয়তো ড্রেসিংরুমে অভয়বার্তাও ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন ভয় কী! কিন্তু দিনের খেলা ৩ ওভার বাকি, এমন সময় ফিরলেন সৌম্য। ভাঙল ৩৮ রানের জুটি।
উমেশ যাদবের করা ওভারের দ্বিতীয় বলে আলতো ছোঁয়া লেগে বল গেল উইকেট রক্ষকের কাছে। ঋদ্ধিমান নিজেও নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু কোহলি রিভিউ নিয়ে নিলেন। স্নিকো নিশ্চিত করল, ব্যাটের কাণায় লেগেছে বল। বাকি ১৬ বল পার করে দিলেন তামিম ও মুমিনুল। ব্যাটে আলতো ছোঁয়াটা না লাগলে কাল দিনটা দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করতে পারত বাংলাদেশ! বাংলাদেশ দিন শেষ করল সৌম্যকে হারানোর আক্ষেপ দিয়েই।
দিনের শেষটা এই টেস্টের প্রতীক হয়ে রইল। আগের সময়টাও যে হতাশাতেই গেছে বাংলাদেশের। রান তোলার গতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়েছে ভারত। প্রথম সেশনে ১২১ রান তোলার পর, দ্বিতীয় সেশনেও উঠল ১৪৩ রান। তৃতীয় সেশনে যে পুরো ব্যাট করেনি সেটা আগেই বলা হয়েছে। সে সেশনে ১৩ ওভার খেলেই ৬৭ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা অবশ্য চা-বিরতির আগেই হয়ে গেছে ভারতের। ঢাকায় ২০০৭ সালে প্রথম চার ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে ৬১০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত।
হায়দরাবাদে সেঞ্চুরি করেছেন তিনজন। কাল মুরালি বিজয়ের পর সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। সেটাকে আজ নিজের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েই থেমেছেন ভারত অধিনায়ক। তাও আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাসের ভুল সিদ্ধান্তে আউট হয়েছেন কোহলি। তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগেই নিশ্চিত করেছেন, রানের বন্যায় বাংলাদেশকে ভাসাচ্ছে ভারত। কোহলির পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন ঋদ্ধিমানও।
চোটের কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ অংশটা খেলতে না ফেরা ঋদ্ধিমানের প্রত্যাবর্তনটা চারেই শেষ হতে পারত। যদি প্রথম সেশনেই স্টাম্পিংয়ের সুযোগটা কাজে লাগাতে পারতেন মুশফিকুর রহিম। তাইজুলের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বল মিস করলেন ঋদ্ধিমান। এতটা সময় পেলেন মুশফিক, দুবার চেষ্টা করেও গ্লাভস দিয়ে উইকেট ভাঙতে পারেননি। পারলেও হতো। তৃতীয়বারে যখন পারলেন, ততক্ষণে বেঁচে গেছেন ঋদ্ধিমান! সেই তিনিই শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশের পক্ষে তিন উইকেট পেয়ে সবচেয়ে সফল তাইজুল, রানটা যদিও দেড় শরও বেশি খরচ হয়েছে তাঁর। চারজন বোলার ১০০ রানের বেশি রান দিয়ে নতুন বাংলাদেশি রেকর্ড গড়েছেন বোলাররা।
 

  • [১]