- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আলমগীর জঙ্গি হলে বিচার চান বাবা-মাও

বিশেষ প্রতিনিধি
সাভারের আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চৌরাবালি এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’  থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চার ‘জঙ্গি’র একজন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়নের হুগলী কৃষ্ণনগর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আলমগীর হোসেন। আলমগীরের দাদা আব্দুল করিম মুক্তিযুদ্ধের সময় চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল হান্নান এলাকায় আদম ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আব্দুল হান্নানের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ২ নম্বর জঙ্গী আলমগীর হোসেন। আলমগীর শিক্ষাজীবনে কয়েকটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা শেষে আশুলিয়ায় একটি সুতার মিলে চাকুরি করে ওখান থেকেই সে জঙ্গিদের কার্যক্রমে যুক্ত হয়। আলমগীরের বাবা-মাসহ গ্রামবাসীও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী আলমগীরের বিচার চান।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রাম হুগলি কৃষ্ণনগর। গ্রামের আলমগীর হোসেন সিলেট মানিকপুর মাদ্রাসা থেকে কওমি মাদ্রাসার লাইনে ৮ম এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জামলাবাজ মাদ্রাসা থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা শেষে একই উপজেলার দরগাহ্পুর মাদ্রাসা থেকে দাখীল সম্পন্ন করে। এরপর ছাতকের হায়দরপুর মাদ্রাসা থেকে আলীম পাস করে সে। আলিম পাস করে পরিচিত আরেকজনের মাধ্যমে ঢাকার আশুলিয়ায় সুতা’র ফ্যাক্টরীতে কাজ নেয় সে। গত চৈত্র মাসে (মার্চ মাসে) সর্বশেষ বাড়ি আসে আলমগীর। বৈশাখ মাসেও তার বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে। জৈষ্ঠ মাসের পর আর যোগাযোগ নেই বাড়ি’র সঙ্গে তার। স্বজনসহ গ্রামবাসী বললেন, আলমগীর অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলে বিচার হোক চান তারা।
গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি ফয়জুন নূর বলেন,‘আলমগীরের দাদা আব্দুল করিম ১৯৭১ সালে এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। আলমগীরের বাবা আদম ব্যবসায়ী। সে কয়েকটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছে। গ্রামে তাকে খুবই কম দেখা যেত।’
গ্রামের জেবদ আলী বললেন,‘আলমগীরের আচরণ ভাল ছিল, সে এ ধরনের কোন অপরাধ কর্মে জড়িত থাকলে বিচার হোক চাই আমরা।’
আলমগীরের ছোট ভাই আশরাফ আহমদ জানালো, আলমগীর পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কম মিশলেও সে নিরীহ এবং শান্ত প্রকৃতির ছিল।
আলমগীরের বাবা আব্দুল হান্নান বললেন, ‘১ বছর আগে আশুলিয়ায় সুতার ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করতো আমার ছেলে। আমি তার কর্মস্থলে গিয়ে দেখে এসেছি। গত চৈত্র মাসে এলাকায় ওয়াজ মাহ্ফিলে এসেছিল সে। জ্যৈষ্ঠ (জুন মাসে) মাসেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ। তাকে যে নিয়ে চাকুরি দিয়েছিল (এলাকার রসুলপুরের রাসেল) তার মাধ্যমে খবর নিলাম। সে আশুলিয়ায়ই আছে। এখন শুনছি সে জঙ্গি। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার হোক চাই আমরাও। আলমগীরের সৎ মা আখলিমা বেগমও একই কথা বললেন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ্ খান জানালেন, আমরা খতিয়ে দেখছি আলমগীরের সঙ্গে জামালগঞ্জের ভীমখালী এলাকায় কারো যোগাযোগ আছে কী-না। কিংবা ঐ এলাকায় এই চক্রের হয়ে কেউ কাজ করে কী-না সেটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।

  • [১]