বিশেষ প্রতিনিধি
শহরের পল্লবী আবাসিক এলাকায় বুধবার ভোর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা ৪ তলা ভবনের তিনটি ফ্লাটে প্রায় দেড় ঘণ্টা তছনছ এবং প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়েছে। পুলিশ অবশ্য বলেছে,‘ঘটনার আলামত দেখে সরাসরি ডাকাতি বলা কঠিন’। ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী।
বাড়ির বাসিন্দারা জানান, পল্লবি আবাসিক এলাকার ৩১ নম্বর বাসায় বুধবার রাত সাড়ে ৩ টায় নিচ তলার ডান পাশের ফ্লাটের জানালার গ্রীল ভেঙে ৬ জন সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে এবং ঘরে থাকা উন্নয়ন কর্মী মেহেদী হাসানকে বেঁধে রেখে মারধর এবং তার স্ত্রী ফারহানা করিমকেও মারধর করে স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০ হাজার টাকাসহ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এসময় ভবনের সিড়ির নিচে বসা দারোয়ান রেজাউলকে ডাকাতরা বেঁধে রাখে। নিচতলায় এক ঘন্টা থাকার পর উপরের উন্নয়ন সংগঠন ডাস্ক’র অফিসসহ দুটি ফ্লাটে প্রবেশ করে ডাকাতির চেষ্টা চালায় ডাকাত দল। এসময় তৃতীয় তলা থেকে পুলিশকে ফোন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডাকাত পড়েছে বলে চিৎকার শুরু করেন উপরের বাসিন্দারা। ডাকাতরা তখন দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার ১০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের এলাকা ঘেরাও করে ডাকাতদের আটকের চেষ্টা করলেও এর আগেই ডাকাতরা এলাকা ছেড়ে যায়।
উন্নয়নকর্মী মেহেদী হাসান বলেন,‘রাত ৩ টায় আমার রান্নাঘরের দিকে শব্দ হচ্ছে শুনে, উঠে দেখি ঘরের ভেতরে ৬ জন লোক মুখ বাঁধা, হাতে রামদা। আমার ঘরের ভেতরে একটি কুকুর ছিল, কুকুরটিকে স্টোর রুমে ঢুকিয়ে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় তারা। আমাকে জিজ্ঞেস করে এই ভবনের কোন ফ্লাটে ভবনের মালিক থাকে, কোন ফ্লাটে ঢুকলে বেশি টাকা পয়সা পাওয়া যাবে, আমি না বলায় রামদার উল্টো পিঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এসময় ডাকাতরা নগদ ১০ হাজার টাকা, আমার স্ত্রী’র স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় এরা’।
ভবনের দারোয়ান কবির হোসেন মঙ্গলবার রাতে ছুটি নিয়ে বাড়ী গিয়েছিলেন, রাতে পাহাড়ায় ছিলেন তার ভাই রেজাউল। ডাকাতরা দারোয়ান রেজাউলকে বেঁধে নিচের ফ্লাটের মেহেদী হাসানের রুমে ঢুকিয়ে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
দারোয়ান রেজাউল বললো-‘রাত ৩ টায় বাড়ির চতুর্দিকে ঘুরে এসে মূল ফটক বন্ধ করে বসে থাকি আমি, হঠাৎ পেছন দিকে (ঘরের ভেতর দিয়ে) এসে আমার গলায় রামদা ধরে আমাকে বেঁধে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখে’।
দ্বিতীয় তলার বাম দিকের ফ্লাটের বাসিন্দা কেয়ারের কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন,‘আমাকে মামা মামা বলে প্রথমে দরজা খোলার কথা বলে, এক পর্যায়ে আমি বুঝতে পারি ডাকাত পড়েছে, ভেতর থেকে প্রথমে দরজা আটকানোর চেষ্টা করি, পরে ভয়ে খোলে দেই, ভেতরে ঢুকে আমার কাছ থেকে সকল মোবাইল নিয়ে যায়, তবে এরা যাওয়ার পর মোবাইলগুলো পাদানির নিচে পেয়েছি’।
দ্বিতীয় তলার ডান দিকের বাসিন্দা মো. আহসান হাবিব মল্লিক বলেন,‘শব্দ শুনে আমি নিচের তলায় যাচ্ছিলাম, রামদা হাতে নিয়ে একজন আমার দিকে তেড়ে আসে, আমি পরে একটি কক্ষে ঢুকে উপরের তলার আব্দুল হালিম ভাইকে ফোন দেই’।
আব্দুল হালিম বলেন,‘বাড়ির বিভিন্ন ফ্লাটে ডাকাত পড়েছে শুনে আমি থানায় ফোন দেই এবং ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করি ঐ সময় ( রাত প্রায় ৫ টা) ডাকাতরা বের হয়ে যায়’। তিনি জানান, ফোন দেবার ২০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ বাড়িতে এসেছে, কিন্তু এর আগেই ডাকাতরা পালিয়েছে’।
সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান,পুলিশ ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্দেহ ভাজনদের খোঁজা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোন ভাবেই বিষয়টি হালাকাভাবে দেখা হবে না, এই ঘটনার বিভিন্ন আলামত দেখে নানা সন্দেহও হচ্ছে’।