স্টাফ রিপোর্টার
৬ষ্ঠ ধাপে আগামী ৪ জুন জেলার ৪ উপজেলা জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই প্রথম দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হওয়ায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকে নির্বাচন করছেন চেয়ারম্যানগণ।
তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে নেমেছেন। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। নানাভাবে আলোচিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর সাথে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী।
স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের দাবি জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও বালীজুরী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীর সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিদ্রোহী প্রার্থীরাই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের চেয়ে কিছুটা এগিয়েও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটারগণ।
জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা ফেনারবাঁক ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে প্রথম প্রার্থী বাছাই হন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাধন তালুকদার। পরে আবারো প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন করে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয় ইউপি সদস্য নুরু মিয়াকে। উপজেলা কমিটি নুরু মিয়ার নাম জেলা কমিটিতে হস্তান্তর করেন। কিন্তু নুরু মিয়াকে সঠিকভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান। দলীয় মনোনয়ন পান সাধন তালুকদার। কিন্তু মনোনয়ন দাখিলের আগের দিন আবারো প্রার্থী বদল করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদারকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়। করুনা সিন্ধু তালুকদার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হন সাধন তালুকদার, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ও ইউপি সদস্য নুরু মিয়া।
আঞ্চলিকতা ও দলীয় আদর্শের বিপরীতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় করুনা সিন্ধু তালুকদার কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
ফেনারবাঁক দলীয় প্রার্থীর সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার সৈয়দনগর গ্রামের সাধারণ ভোটার মো. মোদাব্বির আলম। তিনি বলেন,‘ আমি দল করি না, কারো কর্মী-সমর্থক নই। বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান গত ৫ বছর ইউনিয়নে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।
তাই এবারের নির্বাচনে সব গ্রামেই তার ভোট আছে। তিনি এগিয়ে রয়েছেন, তার সাথেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে দলীয় প্রার্থীদের।’
তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন। এই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগ নেতা আপ্তাব উদ্দিন। আপ্তাব উদ্দিন নিজের ব্যক্তি ইমেজ ও তার বাবা একই ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মরহুম জয়নাল আবেদীনের ইমেজ কাজে লাগিয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে এসেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ভোটার।
বাদাঘাট বাজার পাশ্ববর্তী এলাকার রফিক মিয়া নামের এক ভোটার বলেন,‘আমরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করি না। তবে এবারের নির্বাচনে জয়নাল সাবের ছেলে আপ্তাব উদ্দিনকে ভোট দিমু। কারণ তার বাবা এই ইউনিয়নে অনেক উন্নয়ন কাজ করে গেছেন। বাবার আদর্শ নিয়ে তিনি কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কে পাশ করবেন আগে বলতে পারব না। তবে আমরার ধারনা আপ্তাব উদ্দিন এগিয়ে আছেন। তার সাথে কম্পিটিশন হবে সবার।’
বালীজুরী ইউনিয়নের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। তিনি তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এই ইউনিয়ন যাদুকাটা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এবারের নির্বাচনে নদীর পূর্ব তীর আতাউর রহমানের নিজ গ্রাম বালিজুরী থেকেই তিনিসহ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী ফেরদৌস আলম, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন আহমদ ও ছয়ফুল আলমসহ ৫ জন। অপরদিকে নদীর পশ্চিম তীর এলাকা থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন (আ.লীগের বিদ্রোহী) উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হাজী আব্দুল জহুর ও জাপার চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজির আহমদ।
আঞ্চলিকতার বিভক্তিতে নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীর এলাকার ভোটের হিসাবে আব্দুল জহুর এবারের নির্বাচনে এগিয়ে আছেন বলে দাবি নদীর পশ্চিম তীরের আনোয়ারপুর গ্রামের ভোটার সেরুজ্জামান সেরুর। তিনি বলেন,‘নদীর পূর্ব তীর থেকেই বারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। অথচ তাদের ভোট কম, তাদের ভোট সাড়ে ৫ হাজার আর আমাদের পশ্চিম তীরের ভোট সাড়ে ৭ হাজার। তাদের প্রার্থী ৫ জন ও আমাদের দুই। সব মিলিয়ে এবার হাজী আব্দুল জহুরের অবস্থান বেশ ভাল।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে এবারে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান শাহ। এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী শাহাব উদ্দিন সাবুল, জাপার প্রাথী জহিরুল ইসলাম। তিন দলের তিন প্রার্থীসহ মোট ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা যুবলীগ নেতা রনজিৎ চৌধুরী রাজন। রাজনের তারুণ্য ও মিষ্টভাষী রাজনৈতিক বক্তব্যকে কাজে লাগিয়ে ঝড়ো প্রচার-প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মনে কেড়েছেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীরা। বর্তমান চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দলীয় মনোনয়ন পেয়েও রাজন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাতগাঁও-বাগোয়া গ্রামের ভোটার আলিম উদ্দিন বলেন,‘ যুবলীগ নেতা রনজিৎ চৌধুরী রাজন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পায় নি ঠিক। কিন্তু তিনি দলের ভোটারসহ সাধারণ মানুষের সব ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন তিনি। আমাদের ধারণা রাজনই প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ এগিয়ে আছেন। তার সাথে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসতে পারবেন না।’