আলহাজ্ব কাজী মাও.মো.শাহেদ আলী॥
হিজরী সনের নবম মাসের নাম রমজানুল মোবারক। পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত ও বরকত সম্বন্ধে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন শরীফের সুরায়ে আল বাকারাহ ১৮২ নং আয়াতে এরশাদ করেছেন, অর্থাৎ হে মমিনগণ! তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন রোজা ফরজ করা হয়েছিল। তদরূপ তোমাদের উপরও রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেন তোমরা মুক্তি লাভ করতে পার। প্রাত:কাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার প্রভৃতি হতে বিরত থাকার নাম রোজা। পবিত্র রমজান মাসের প্রথম হতে মাসের শেষ পর্যন্ত রোজা পালন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। রমজান শব্দের অর্থ পুড়িয়া যাওয়া বা ভষ্ম হওয়া। অর্থাৎ রমজান মাসের রোজা পালনকারীর গত জীবনের যাবতীয় পাপ রাশি ভষ্মীভুত হয়ে যায়। ইহার প্রধান উদ্দেশ্য হল, মানুষের কুপ্রবৃত্তি সমূহকে দমন করে আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত হওয়া কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, নিষ্ঠুরতা, পরস্ত্রীকাতরতা প্রভৃতি কুরিপুগুলিকে দমন করাই রোজার মুখ্য উদ্দেশ্য। এ মাস সম্বন্ধে রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেছেন যে, রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস। এই মাসে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর থাকায় সর্বাধিক মর্যাদাশীল।
হযরত নবী করীম (সা.) হাদিসে কুদ্দুসীতে ইরশাদ করেন আল্লাহতা’লা বলেন, অর্থাৎ রোজা আমার জন্য এবং আমিই তাহার পুরস্কার দান করব। স্বয়ং আল্লাহতা’লা নিজ হাতে পুরস্কার দেবার ওয়াদা করেছেন। সুবহানাল্লাহ।
হুজুরপাক (সা.) এরশাদ করেছেন, যে রোজাদার ব্যক্তি প্রত্যেকটি রোজা কিয়ামতের দিন এক একটি ফেরেস্তায় পরিণত হয়ে রোজাদারদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহপাকের নিকট প্রার্থনা করবেন। আবার কতগুলি লোকের রোজা রোজাদারদের বিরুদ্ধে আল্লাহপাকের নিকট নালিশ করবে এবং বলবে, হে খোদাতালা তোমার অমুক বান্দা আমাকে অপমান, অবহেলা, দুর্দশাগ্রস্ত করেছে। যাহারা রোজা রেখে হাতের দ্বারা কোন পাপকার্য করেছে। তাহাদের রোজা সেদিন লুলা হয়ে বোবা বাধর প্রভৃতি বিভিন্ন অঙ্গহীন রোজা এসে আল্লাহর দরবারে নালিশ জানাবে। (চলবে)