- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আয়েশা’র ঘর নির্মাণে সরকারি বেসরকারি সহায়তা প্রদান/ তবে প্রয়োজন আরো টাকার

গোলাম সরোয়ার লিটন
রাত পোহালেই ঈদ। কিন্তু তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরপারের জয়পুর গ্রামের আয়েশা বেগম ৩ সন্তান নিয়ে এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেন নি। গত ১৬ জুন রাতে বানের পানির সাথে হাওরের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়েছে তাঁর বসতঘর। ওইদিন রাত থেকেই ৩ সন্তানসহ আয়েশা বেগম অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে আছেন। ঈদের দিনও এভাবেই কাটবে পরিবারটির।
আয়েশা’কে ঘরে ফেরাতে ঘর নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগীতায় ১৯ হাজার চারশত টাকা ও এক বান ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৯ জুলাই) আয়েশা’র শুন্য ভিটায় উপস্থিত হয়ে ইউএনও ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন নোঙর ৫ হাজার চারশত টাকা দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম দিয়েছে ৪ হাজার টাকা এবং হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা দিয়েছে ১ বান ঢেউটিন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরপারের জয়পুর গ্রামটিতে ৭১টি পরিবার বাস করে। গ্রামটিতে কোনো স্বচ্ছল বাড়ি নেই। ৪ সদস্যের আয়েশার পরিবারকে গ্রামের একাধিক ঘরে ভাগ হয়ে রাত কাটাতে হয়। গত বৈশাখ মাসে আয়েশা বেগমের স্বামী লায়েছ মিয়া হঠাৎ করেই মারা যান। আয়েশা বেগমও অসুস্থ। তাঁর শরীরে জ¦র, পাও ফুলে আছে বন্যার আগে থেকেই। কিন্তু বানের পানি তাঁর ঘরের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ধান, চালসহ ঘরে থাকা সব জিনিসপত্র। এই বান তাঁর কষ্টের জীবনকে আরো কঠিন করে তুলেছে।
আয়েশা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি অভাগা। বৈশাখে স্বামী মারা গেছে। জ¦র আর পা ফোলার জন্য নিজেও ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। ২০ মণ ধান আর আসবাবপত্রসহ আমার থাকার ঘরটি ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়েছে। ইউএনও স্যার ও আরও লোকজন আমারে সাহায্য করছে। আমি খুব খুশি। তিনি জানান, ঢেউয়ে ভিটাও ভেঙেছে। এই দুঃসময়ে নিজের স্বজনরা যা করে না লোকজন তার চেয়েও বেশি করে। ভাঙা ভিটা মেরামত আর ঘর তৈরি করতে আরো টাকা লাগবে। কিন্ত আরো টাকার কথা বলতে লজ্জ্বাবোধ করেন আয়েশা।
টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ কবির বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরপারের সবচেয়ে অসহায় আয়েশা বেগমের পরিবার। স্বামী মারা যাওয়ায় গ্রামবাসী মিলে বৈশাখ মাসে তাঁকে ২০ মণ ধান দিয়েছিলাম। ঘরের সাথে তা-ও ভাসিয়ে নিয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরের ঢেউ। আয়েশার ঘর তৈরির জন্য আরো টাকার প্রয়োজন।
তাহিরপুর ইউএনও মো. রায়হান কবির বলেন, আয়েশা’র ঘর তৈরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। চেষ্টা করবো আরো কিভাবে তাঁকে সহযোগিতা করা যায়।

  • [১]