- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আ.লীগের মনোনয়ন তদবিরে পাঁচ নেতা

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সুনামগঞ্জে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। বুধবার থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ স্বশরীরেও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। কেউবা আবার ফোনে দোয়া চেয়ে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন। দেশের বাইরে অবস্থান করেও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ। আগামী ১৭ অক্টোবর ৬১ জেলা পরিষদে ভোট। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় নি। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা মনোনয়ন তদবিরে নেমেছেন।
আয়তন ও জনসংখ্যায় হাওরাঞ্চলের বড় জেলা সুনামগঞ্জ। জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার ৮৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, চার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ১১ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা ভোট দেবেন। মোট ভোটার ১২২৯ জন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি।
বিগত মেয়াদে এই জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বয়োজ্যেষ্ট রাজনীতিক নুরুল হুদা মুকুট। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক।
জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুকুট প্রায় ২০ বছর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনকে বিগত নির্বাচনে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত নির্বাচনে মুকুট পেয়েছিলেন ৭৮২ ভোট এবং ব্যারিস্টার ইমন ৪২০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার ইমনেরও জেলাজুড়ে সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী রয়েছেন। ইমন এর আগে জেলা পরিষদের প্রশাসকও ছিলেন।
জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই রাজনীতিক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসক থাকায় জেলাব্যাপী জেলা পরিষদের ভিন্ন ইমেজ রয়েছে।
এবার জেলা পরিষদের নির্বাচন ঘোষণা হতেই দলীয় মনোনয়ন তদবিরে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
এরা হলেন বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক নুরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. শামছুন্নাহার বেগম শাহানা, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন পিপি, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তারিখ হাসান দাউদ।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্টজন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুনামগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার গোলাম সাবেরীন সাবু জানালেন, দলের জেলা সভাপতি মতিউর রহমানের জেলা পরিষদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, এমন কোন সিদ্ধান্তও মতিউর রহমান নেবেন না।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামছুন্নার বেগম শাহানা যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।
তাঁর ছেলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বাী স্মরণ জানালেন, তাঁর মা শামছুন্নাহার বেগম শাহানা মনোনয়ন চাইবেন। দলীয় প্রধান বা মনোনয়ন বোর্ড তাঁকেই প্রার্থী করবেন এমনটাই আশা করছেন ফজলে রাব্বী স্মরণ।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বললেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তারিখ হাসান দাউদ বিগত নির্বাচনে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে সদস্যদের ভোটে প্যানেল চেয়ারম্যান হন তিনি। দাউদ বললেন, দলীয় মনোনয়ন চাইবো, যোগাযোগও শুরু করেছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই আমার।
নুরুল হুদা মুকুট বললেন, বিগত নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত সদস্যরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন আমাকে। আমার বিগত সময়ের কাজে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি সকলের কাছে উজ্জ্বল হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হবার জন্য স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যের চাপ রয়েছে আমার উপর। আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো। আশা করছি দলীয় প্রধান আমাদের প্রিয় নেত্রী এবং মনোনয়ন বোর্ড আমাকে বঞ্চিত করবেন না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন বললেন, আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। সেই লক্ষেই কাজ করছি। জেলা পরিষদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ কেউ নির্বাচন করবেন। দলীয় নেতা কর্মীরা তাঁকে সহয়তা করবেন, এই প্রত্যাশা করছি।
জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বরকত বললেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ফোনে যোগযোগ শুরু করেছেন। বুধবার থেকে কেউ কেউ স্বশরীরেও এসে দেখা করা শুরু করেছেন। স্থানীয় সরকার সদস্যরা একসঙ্গে হলে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আলোচনাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • [১]