- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আ.লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনেকেই ভোটে লড়বেন

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারার ১৯ ইউনিয়নের বেশিরভাগ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন। সোমবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ১৯ ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীতা ঘোষণার পর বিদ্রোহীরাও জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন। এদিকে, তৃতীয় ধাপে জেলার জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার এই তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে নির্বাচন অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই ইউনিয়নগুলোর আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করার কাজও শুরু হয়েছে তৃণমূলে।
দলীয় একাধিক নেতা জানান, ছাতক সদর ইউনিয়নে রঞ্জন কুমার দাসকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে লড়বেন। গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁওয়ে দলীয় মনোনয়ন সুন্দর আলী পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়বেন বর্তমান চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান, উত্তর খুরমা ইউনিয়নে বিল্লাল আহমদ মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী আরশ আলী ভাসানিও মাঠে আছেন। জাউয়াবাজার ইউনিয়নে নুরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও বর্তমান চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজা মিয়া তালুকদারও প্রার্থী হতে পারেন।
দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ইউনিয়নে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলীয় প্রার্থী আব্দুল কাদিরের বিপক্ষে মাঠে আছেন তিন বারের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল হক, সুরমা ইউনিয়নে এমএ হালিম বীরপ্রতীক দলীয় মনোনয়ন পেলেও বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দোকার মামুনুর রশিদ নির্বাচন করবেন।
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার টিকিট পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক আবদুল হামিদ (সাবেক মেম্বার)। এ নিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক যুগ্ম আহবায়ক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। ২০০৫ সালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রয়াত আবদুস ছোবহান, বাংলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ’এর নেতৃত্বাধীন উপজেলা বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে তিনি অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনবার অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেছেন তিনি কখনই বিএনপি করেননি। তার প্রতিপক্ষ সব সময়ই পেছনে লেগে থাকেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন জানালেন, আব্দুল হামিদ একসময় বিএনপিতে ছিলেন এমন তথ্য দলের নেতারা তাদের কাছেও জমা দিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ করা সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আব্দুল হামিদের নাম ছিল না।
বাংলাবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়নের বড়খাল গ্রামের মানিক মিয়া। তাতে সুবিধা হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন আহমেদের। মানিক মিয়া আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হলেও আঞ্চলিকতাসহ নানা ইস্যু কাজে লাগিয়ে জসিম উদ্দিন আহমেদ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। তিনি মঙ্গলবারই স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হবার ঘোষণা দিয়েছেন।
ছাতক ও দোয়রাবাজার আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিধাবিভক্ত। একাংশের নেতা স্থানীয় সংসদ মুহিবুর রহমান মানিক এবং অপরাংশের নেতা ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও তার ভাই শামীম চৌধুরী। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির দৌঁড়ে মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থকরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও হাল ছাড়বে না দলের অপরাংশ।
এই দুই উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন, দুই বলয়ের পাল্টাপাল্টি অবস্থান থাকে সব সময়ই। স্থানীয় নির্বাচনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই হয় বিদ্রোহী প্রার্থীর। আগামী ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনেও দুইপক্ষ মরিয়া হয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বললেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে ছাতকের ৫ টি ইউনিয়নে অনিয়ম হয়েছে। এই ইউনিয়গুলোতে বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বি থাকবে।
ছাতক – দোয়ারা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী বললেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। নৌকার পক্ষেই আমাকে থাকতে হবে। আমি সেটাই করবো।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, দলের নেতা কর্মীদের নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্যই কাজ করতে হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল ব্যবস্থা নেবে। দলের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

  • [১]