- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আ.লীগ ও স্বতন্ত্রে ভোট লড়াই, পিছিয়ে বিএনপি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
আগামীকাল শনিবার জগন্নাথপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের পাশাপাশি উত্তাপও ছড়াচ্ছে।
এবাবের নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামান হারুন (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার (চামচ), যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমজাদ আলী শফিক (মোবাইলফোন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিঞ্চু রায় (জগ)। এছাড়া ৩৯ জন কাউন্সিলর ও ৯ জন নারী কাউন্সিল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া ও বিএনপির থেকে সদ্য বহিস্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক মেয়র আক্তারুজ্জামান আক্তারের মধ্যে ভোটের মূল লড়াই হবে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ভোটের মাঠে পিছিয়ে আছেন দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হারুনুজ্জামান।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করে ২০০০ সালে প্রথম পৌর নির্বাচনে প্রয়াত হারুনুর রশীদ হিরণ মিয়া নির্বাচন হন। অল্প দিনে তিনি মৃত্যু বরণ করলে তাঁর ছেলে মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মনাফ মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্বপালন কালে গত বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মৃত্যুতে শূন্য পদে গত ১০ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন সেলিমকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হন। দেড় মাসের ব্যবধানে পৌরসভার মেয়াদপূর্তিতে জগন্নাথপুরে ১৬ জানুয়ায়ি ভোটের সিদ্ধান্ত হয়।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটছে এখন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ভোটের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান রয়েছেন। ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থিত আক্তারুজ্জামান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মনাফ কে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। ৫ বছর দায়িত্বপালনের পর গত নির্বাচনে এবং সম্প্রতিকালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। পৌর মেয়র থাকাকালে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্বপালনের জন্য আক্তারুজ্জামানের ভোটের মাঠে ইমেজ বেড়েছে। এদিকে গত ১১ জানুয়ারি বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা পরিপস্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুজ্জামানকে কেন্দ্রীয় বিএনপি বহিস্কার ঘোষণা করে। এতে করে দীর্ঘদিনের বিভক্ত বিএনপির মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠতে পারে। কারণ বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পথের কাঁটা হয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুজ্জামান।
অপরদিকে মেয়র পদটি নিজের দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলের কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি মিজানুর রশীদ ভুঁইয়ার গোষ্ঠির লোকজনও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনায় নেমেছেন। শেষ মুহুর্তে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দৃ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে ভোটযুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে ওঠতে পারে আওয়ামী লীগ প্রার্থী।  
স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, মানুষের ভালবাসায় প্রার্থী হয়েছি। মাঠে ব্যাপক সারাও পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ জয়ের ব্যাপারে আমিআশাবাদি।
বিএনপির প্রার্থী হারুনুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ ধানের শীষ প্রতিককে বিজয়ী করবে।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের জনগনের সরকার। কারণ এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগনের উন্নয়ন হয়। আমি বিশ্বাস করে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে নৌকাকে বিজয়ী করবেন সম্মানিত ভোটাররা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন সহকারি রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুুতি আমরা গ্রহণ করেছি। প্রথমবারের ইভিএম পদ্ধতিতে জগন্নাথপুরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মোট ভোটার ২৮ হাজার, ৬শ’ ৪২জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ৩শ’ ৯২ এবং নারী ভোটার ১৪, ২শ’৫০ জন।

  • [১]