সু.খবর ডেস্ক
বাঁধ ভেঙে হাওয়ের ফসলহানির জন্য ইঁদুরকে দায়ী করে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাবেক মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর কবিরসহ চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দায়ী বাকি তিন কর্মকর্তা হলেন পাউবোর সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রথম তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুল হাই বাকী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির প্রধান মোসাদ্দেক হোসেন। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, দায়ী পাউবোর এই চার শীর্ষ কর্মকর্তা গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। হাওরের বাঁধ নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও তদন্ত করছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে- হাওর রক্ষাবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শত শত কোটি টাকার ফসল তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করতেই সময় নেয়া হয় ৬৪ দিন। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল হাই বাকী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এই বিলম্বের কারণে তারা যৌথভাবে দায়ী।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ৮ কর্মকর্তাকে দায়ী করে গত বছরের ৫ এপ্রিল দুদকে অভিযোগ দেয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। পরে ১৬ মে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় দুদক।
শেষ পর্যন্ত ২৩ জুন পাউবোর তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল হাই বাকী ও ডিজাইন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন পন্থায় কালক্ষেপণ এবং দীর্ঘ ৬৪ দিন তদন্ত করে কমিটি পাউবোর শৃঙ্খলা পরিদফতরে প্রতিবেদন দেয় ১ সেপ্টেম্বর। তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করতেই সময় নেয়া হয় ৩৯ দিন।
১০ অক্টোবর পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়। সেখানেও ফাইল পড়েছিল ১৫ দিন। ২৫ অক্টোবর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইল যায় মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীরের দফতরে। তিনিও এটি অনুমোদনে সময় নেন ৫৪ দিন।
২০ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি পাঠানো হয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে যেতে আরও ৬২ দিন সময় লাগে। অর্থাৎ গত ২০ ফেব্রুয়ারি তদন্ত রিপোর্টটি দুদকে পাঠানো হয়। এতে বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার জন্য ইঁদুরের গর্তকে দায়ী করা হয়। তদন্ত রিপোর্টে বড় কর্মকর্তাদের আড়াল করার চেষ্টার পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের জন্য ক্ষেপে যায় দুর্নীতি দমন কমিশন।
তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে দীর্ঘসময় ব্যয়ের কারণ উদ্ঘাটনে দ্বিতীয় দফা তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। শেষ পর্যন্ত গত ২ জুলাই পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মোসাদ্দেক হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তিনি তার তদন্ত রিপোর্টে রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে এক কর্মকর্তা ও তৃতীয় শ্রেণির তিন কর্মচারীকে দায়ী করেন। এমনকি তাদেরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়।
এরপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খানের নির্দেশে বাউবোর এই শীর্ষ চার কর্মকর্তাকে দায়ী করা হল।