- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইউএনও’র গাড়ি বেপরোয়া চালানোয় উত্তেজনা বাড়ে

বিশেষ প্রতিনিধি
শান্তিগঞ্জে ‘পুলিশের মারপিটে’ উজির মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের করা ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্য নিয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে শান্তিগঞ্জের শত্রুমর্দন ও পাগলা এলাকার ওই দিনের প্রত্যক্ষদর্শী ১০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এসময় এলাকাবাসী বলেছেন, ঘটনার সময় ইউএনও’র গাড়ি সতর্কতার সঙ্গে চালালে ভালো হত। তাঁর গাড়ি (ইউএনও’র গাড়ি) উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এলাকাবাসী জানান, জেলা প্রশাসনের করা ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার-উল-হালিম, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সজীব কবীর ভুইয়া শাান্তিগঞ্জের শত্রুমর্দন ও পাগলাবাজার এলাকায় গিয়ে সকাল থেকেই প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। দুপুরে তারা প্রত্যক্ষদর্শী শান্তিগঞ্জের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দোলন রানী দে, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হেকিম, নিহত উজির মিয়ার চাচাতো ভাই শত্রুমর্দন গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা, উজির মিয়ার নিকট আত্মীয় বদরুল আলম টিপু, কামরুল ইসলাম, তেরাব আলী ও সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা’র সঙ্গে দীর্ঘ সময় শান্তিগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে বসে কথা বলেন তাঁরা (তদন্ত কমিটির সদস্যরা)।
উজির মিয়ার ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় তিনি সকলের কাছেই জানতে চেয়েছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুজ্জামানের গাড়ি ঘটনার সময় লাশের উপর দিয়ে গিয়েছে কি-না। আমরা জানিয়েছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি এইরকম একটি মুহূর্তে আরও সতর্ক অবস্থায় চালানো কাম্য ছিল। তিনি গাড়ি নিয়ে শত শত বিক্ষোভরত মানুষের ভেতরে দ্রুত বেগে ঢুকেছেন। তিনি ছিলেন এসিল্যান্ডের গাড়িতে, বিক্ষুব্ধ লোকজন মনে করেছেন এটি পুলিশের গাড়ি, কেউ কেউ গাড়ি দেখে উত্তেজিত হয়েছেন, পরে তিনি গাড়ি নিয়ে এমনভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন যা শোভনীয় মনে হয় নি অনেকের কাছে। তিনি অমানবিকভাবে বিক্ষোভরত মানুষের সামনে রাখা উজির মিয়ার লাশের মাথা ঘেষে গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সিলেটের দিকে দ্রুত চলে যান। এসময় লাশের উপরের কাপড় উড়িয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। তিনি জানতে চেয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি মরদেহকে চাপা দিয়েছিল কি-না, উপস্থিত সকলেই আমরা বলেছি, গাড়ি লাশ চাপা দেয় নি, কিন্তু আরো সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল তাঁর (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার)।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার-উল-হালিম বললেন, বুধবার দিনব্যাপি আমরা শান্তিগঞ্জের পাগলা ও শত্রুমর্দন এলাকায় সোমবার সড়ক অবরোধের সময় থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তদন্ত রিপোর্ট লিখিত আকারে জমা দেওয়া হবে।
এদিকে, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ, সহকারী পুলিশ সুপার শুভাশিষ ধর ও কোর্ট ইন্সপেক্টর বদরুল আলম তালুকদারকে দিয়ে গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটিও বুধবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত. গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ উজির মিয়াকে গরু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। অসুস্থ উজির মিয়াকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত থেকে জামিন নিয়ে ওইদিনই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন উজির মিয়া। কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরলেও সোমবার আবার অসুস্থতা বোধ করলে সকালে তাকে কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেই কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা। এরপর তার মরদেহ সড়কে রেখে অবরোধে নামেন স্বজনসহ হাজারো মানুষ। সোমবার তিনঘণ্টারও বেশি সময় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এ ঘটনায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়।

  • [১]