- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইউএনও’র নির্দেশও অমান্য করলো প্রভাবশালীরা

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়েও জামালগঞ্জের হালির হাওরের রাতলার স্লুইসগেটের খালের তিন স্থানে থাকা ঘন জালের বেরিকেড ও আড়কাঠি (বাঁশের চটি দিয়ে তৈরি করা) ওঠাতে পারেননি। যারা খালের তিন স্থানে ঘনজাল ও আড়কাঠি দিয়ে রেখেছে তাঁরা উল্টো ইউএনও’র সামনেই কৃষকদের হুমকি দিয়েছে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মিলে হালির হাওরের অবস্থান। হাওরে জমি রয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। এই হাওরের নিচু এলাকা মাছুমপুর গ্রামের রাতলার খাল স্লুইসগেট দিয়েই হাওরের পানি নামছে। রাতলারখাল স্লুইসগেট দিয়ে পানি বৌলাই হয়ে সুরমা নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে। বোরো চাষাবাদের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও হাওরের পানি না নামায় চিন্তিত কৃষকরা এই খালের পাড়েই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বসে থাকেন। রাতলার খালের মুখও ভরাট হয়ে গেছে। খালের তিনটি স্থানে ঘনজাল এবং বাঁশের আড়কাঠি দিয়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এই অবস্থায় শুক্রবার জামালগঞ্জ    
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রজব আলীসহ বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাতলার খালে যান।
ইউএনওকে দেখে সেখানকার কৃষকরা এসে অভিযোগ জানান, খালে বাঁশ দিয়ে আড়কাঠি ও তিনটি স্থানে জাল পুতে রাখায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এভাবে পানি নামলে দেড় মাসেও হাওর থেকে পানি নামবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক জাল পুতে রাখতে নেতৃত্বদানকারী হাওরপাড়ের লক্ষীপুর গ্রামের প্রভাবশালী সদর আলী, জুলহাস মিয়া ও ভুট্টু মিয়াকে ডেকে জাল তোলার নির্দেশ দেন। তারা কেউই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মানেননি এবং জাল তুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।jg-pic--2-1-12-17
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রজব আলী বললেন,‘‘হালির হাওরের পানি বৌলাই নদীর পানি দেড় থেকে ২ ফুট উঁচু। পানি নামার একমাত্র খাল রাতলায় কয়েক ধরনের প্রতিবন্ধকতা। সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা তিন স্থানে ঘনজাল পাতা এবং আড়কাঠি দেওয়া। আমি কয়েকবার এগুলো সরানোর জন্য বলেছি। তারা আমার কথা শুনেনি। যেভাবে পানি নামছে তাতে দেড় মাস লাগবে হাওর চাষাবাদের উপযোগী হতে। শুক্রবার জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে অবস্থা দেখে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ঘনজাল ও আড়কাঠি ওঠানোর জন্য নির্দেশ দিলেও শুনেনি তারা। কয়েক’শ কৃষক তখন ইউএনওকে বলতে থাকে তাঁদেরকে নির্দেশ দিলে তারাই জাল ও আড়কাঠি তুলে দেবে, এসময় জাল পুতে রাখার পক্ষাবলম্বনকারীরা এ ধরনের কাজ করতে চাইলে ‘খুন- খারাবি’ হবে বলেও হুমকি দেয়।’’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন,‘হালির হাওরের রাতলার খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধাদানকারীরা শুক্রবার আমার নির্দেশও মানেনি । আমরা এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘সকল হাওর থেকেই পানি নামানোর চেষ্টা করছেন ইউএনওরা। কোথাও কারো মাছের ঘের থাকলে তারা নেটের জাল দিয়ে মাছ আটকাতে পারেন। কিন্তু পানি নামতে বাধা দিতে পারেন না।’

  • [১]