- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইউএনও’র নির্দেশ অমান্য করে কাজ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান

এনামুল হক, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশ অমান্য করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মসৃজন কর্মসূচীর কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলে বিপদে পড়তে রাজী নয়। সেই সুযোগে অনিয়মকেই নিয়ম বানিয়ে শ্রমিকের পরিবর্তে মেশিন দিয়ে প্রকল্পের কাজ করছেন তিনি। আর এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি সড়কের পাশের বৃক্ষ বিনষ্ট করে চলেছেন।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে চলতি অর্থ বছরে কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ১৬ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ওই ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের পূর্বপাশ থেকে পশ্চিমপাশ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে ৪ লাখ ৮০ হাজার, বাসাউড়া ব্রীজ থেকে নোয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ৮ লাখ ৮ হাজার ও চাপাইতি বাজারের আরসিসি ঢালাই সড়ক থেকে মরতুজ আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে নির্ধারিত শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ খনন যন্ত্র ব্যবহার করছেন। সড়কের পাশ দিয়ে খনন যন্ত্র নেওয়ার জন্য তিনি নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করছেন।
গত সোমবার বিকেলে বাসাউড়া ব্রীজ থেকে নোয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের ভাতিজা বাছেদ খনন যন্ত্র দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে মুঠোফোনে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেন। তখন চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ রাখেন। এ সময় সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য শৈলেন সরকারসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ঘন্টা দুয়েক পরে চেয়ারম্যান আবারও খনন যন্ত্র দিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ করান। এমনকি মঙ্গলবার সকালেও কাজ করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে শ্রমিকের পরিবর্তে মেশিন দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। মেশিন আনা নেওয়ার সুবিধার্থে সড়কের পাশে থাকা আমাদের গাছগাছালিও নষ্ট করছেন। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার সকালেও মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, ‘মেশিন দিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছি। পরবর্তীতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হবে। ওইদিন রাতে বা আজ (মঙ্গলবার) সকালে মেশিন দিযে কোনো কাজ করাইনি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, ‘মেশিন দিয়ে কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার জন্য চেয়ারম্যানকে বলেছি। কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। যদি পুনরায় তিনি মেশিন দিয়ে কাজ করেন তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • [১]