ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর। মতের অমিল কিংবা তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায়ই নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা, বাড়ি ঘরে ভাঙচুরসহ নানানভাবে অত্যাচার করার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু চেয়ারম্যানের সাথেই নয় বরং চেয়ারম্যানের লোকজনের সাথেও যদি কারও কোনো বিরোধ তৈরি হয় তাহলেও মূল্য দিতে হয় সংশ্লিষ্ট নিরীহ লোকজনকে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আজিম মাহমুদ তার লোকজন নিয়ে মোবারক হোসেন (১৬) নামের এক রাজমিস্ত্রীর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোবারক হোসেন ওই ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামের রোজ আলীর ছেলে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় মোবারক হোসেনকে প্রথমে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে শুক্রবার বিকেলে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারে আজিম মাহমুদ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
মোবারক হোসেনের ফুফু সোনাবান খাতুন জানান, মোবারকের চাচা আনিছুল মহিষখলা বাজারে রাজমিস্ত্রী হিসেবে স্যানিটারী সামগ্রীসহ সিমেন্টের খুুঁটি নির্মাণের কাজ করে। এ কাজে মোবারক সহযোগী হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহ দুয়েক আগে আনিসুলের কর্মস্থল থেকে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের বড় ভাই আফছার উদ্দিন ওরফে আফছু কিছু না বলে ইট নিয়ে যায়। আফছার উদ্দিন মহিষখলা বাজারে এ ইট দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আনিছুলের সাথে আফছার উদ্দিনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আনিসুল আফছার উদ্দিনের বাবাকে বিষয়টি জানালে ক্ষিপ্ত হয় আফছার উদ্দিন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার আফছার উদ্দিন আনিছুলকে তার ঘরে ধরে নিয়ে মারধর করে। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ, আফছার উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মনির ভূইয়াসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে দেশীয় অস্ত্রসহ মহিষখলা বাজারে আনিসুলের ওপর হামলা করতে আসে। এ সময় তাকে না পেয়ে মোবারকের ওপর হামলা চালায় তারা। এতে মোবারক গুরুতর আহত হয়। মাস দেড়েক আগে আজিম মাহমুদের বিরুদ্ধে তার ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের নিরীহ ব্যক্তিদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল।
মোবারকের মা এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমার বড় ছেরাও (ছেলে) বাজারে ব্যবসা করে। রাইত বাড়ি যাইতো গেলে কোনদিন যে কেলা মাইরা হালায় এইডা লইয়া চিন্তায় আছি।’
একটি পক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করছে দাবি করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। আমার শরীর খারাপ থাকার কারণেই বাড়িতে আছি।’
মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল দেব বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’