স্টাফ রিপোর্টার
ছাতকে সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে করা হামলা ও ছিনতাই মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্র নং ১৮৭, তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৭ ইং।
ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেলসহ এজহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম।
গত ১০ আগস্ট ছাতক উপজেলা পরিষদের গোল চত্বরে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৩ই আগস্ট রাতে ছাতক
থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ১ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাহেলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন একই উপজেলার উত্তর খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ।
ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের চাচাতো ভাই ও উপজেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল ছাতক পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালামের সমর্থিত হিসাবে পরিচিত।
চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট ছাতক উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা ছিল। সভা শেষে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেলের নেতৃত্বে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমেদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে সাড়ে ৫৫ হাজার টাকা ও মামলার সাক্ষী হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও তার কথাবার্তা, আচার, আচরণ উশৃঙ্খল প্রকৃতির এবং তার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র আছে। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল উশৃঙ্খল ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। যার ফলে মানুষের সাথে উশৃঙ্খল আচরণ ও আইন শৃংখলা পরিপন্থি কাজ করা তার নিত্য দিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেল ছাতক উপজেলার সরকারি কর্মচারিদের সাথে খারাপ আচরণ করাসহ প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সর্বদা চেষ্টা করে থাকেন। ফলে অনেকেই তার ভয়ে ও মান ইজ্জত রক্ষার চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান সাহেল ও তার সহযোগিদের নিয়ে ইতোপূর্বে সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্যকাজে বাধা, হামলা ও মারপিটের ঘটনার ইতিহাস রয়েছে এবং ওই ঘটনায় মামলাও রয়েছে। তার নিজের পরিষদের অনেক ইউপি সদস্য জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার আবেদন করেছেন।
ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান দ্রুত বিচার আইনের মামলাটির চার্জশিট প্রদানের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘ তদন্তে মামলার অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। মামলার একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’