- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইউপি সচিবের প্রাণ নিতে চায় ইউপি সদস্য

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ভিজিডির অনলাইন তালিকায় কয়েকজন উপকারভোগীর নামের সাথে কার্ডে উল্লেখ থাকা নামের মিল নেই। ওইসব প্রকৃত কার্ডধারীরা এও জানেন না যে তাদের নামে কার্ড আছে। আবার সেইসব কার্ড সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে জমা থাকতো। আর চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীরা কার্ড সংগ্রহ করে চাল উত্তোলন করতো। চাল উত্তোলন শেষে আবারও সেই কার্ড জমা দিয়ে দিতে হতো। গেল শনিবার গত ফেব্রুয়ারি মাসের চাল বিতরণের সময় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রত্যেক কার্ডধারীর উপস্থিতিতে চাল বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। চাল বিতরণ শেষে কয়েকটি কার্ডের প্রকৃত উপকারভোগীকে পাওয়া যায়নি। অথচ ওইসব কার্ডের নাম পরিবর্তন করে গত ১৩ মাস ধরে চাল উত্তোলন হচ্ছে। এমনটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদে। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ওইসব কার্ড ইউপি সচিবের কাছে রেখে দেন। কিন্তু ওইদিন বিকেলে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আর্শাদ মিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ইউপি সচিবের কাছ থেকে ১২৩ নম্বর কার্ডটি নিতে চান। কিন্তু ইউপি সচিব রুহুল আমিন সেই কার্ডটি আর্শাদ মিয়াকে না দেওয়ায় আর্শাদ মিয়া চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে রুহুল আমিনকে প্রাণে মারার হুমকি দেন। তাই রুহুল আমিন নিরাপত্তাহীনতার কথা চিন্তা করে রোববার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সভা স্থগিত করা হয়।
অনলাইনে ১৬৪ নম্বর কার্ডধারী ৭ নং ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা স্বপন দত্তের স্ত্রী শিপ্রা রাণী দত্ত, ১৮৩ নম্বর কার্ডধারী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ দেবনাথের স্ত্রী অনিতা দেবী, অনলাইন ও মাস্টাররোলে ১২৩ নম্বর কার্ডধারী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কামাউড়া গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন তালুকদারের স্ত্রী লক্ষ্মী রাণী। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে শিপ্রা রাণীর কার্ডে নাম পরিবর্তন করে বনগাঁও গ্রামের লিটন তালুকদারের স্ত্রী রাজিয়া বেগম, অনিতা দেবীর পরিবর্তে তেলিপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফ খানের স্ত্রী ডলি আক্তার, লক্ষ্মী রাণী তালুকদারের পরিবর্তে বহিরাগত আমেনা আক্তার নামের একজন চাল উত্তোলন করা হয়েছে। যে বিষয়টি শিপ্রা রাণী, অনিতা দেবী, লক্ষ্মী রাণী তালুকদারের কাছে অজানা। এমনকি তাদের নামে কার্ড রয়েছে সেটিও অজানা তাদের কাছে। অপরদিকে ১৬৫ নম্বর কার্ড অনুযায়ী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীল দেবনাথের স্ত্রী অর্চনা দেবী। কিন্তু মাস্টাররোলে তিনি ১৬৭ নম্বর কার্ডধারী ও ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বপন দেবনাথের স্ত্রী। অর্চনা দেবী জানেন না তাঁর নামে ভিজিডি কার্ড রয়েছে। এতোদিন অর্চনা দেবীর চাল উত্তোলন করেছেন নোয়াগাঁও গ্রামের জীবনের স্ত্রী। এভাবে ওইসব কার্ডের বিপরীতে গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ মাসে ১ হাজার ৫৬০ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন, ‘শনিবার ভিজিডির চাল বিতরণের সময় জানতে পারি আমার গ্রামের অর্চনা দেবীর নামে ভিজিডি কার্ড রয়েছে। নোয়াগাঁও গ্রামের জীবনের স্ত্রী সেই চাল নিতে এলে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং তাকে (জীবনের স্ত্রী) চাল দেওয়া হয়নি।’
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আর্শাদ মিয়া বলেন, ‘ভিজিডি কার্ডগুলো ইউপি সচিবের কাছে থাকে। ইউপি সচিবের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে কোনো প্রকার হুমকি দেওয়া হয়নি। বিষয়টিকে ঘোলা করার জন্য অতিরঞ্জিত হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
মধ্যনগর ইউপি সচিব রুহুল আমিন বলেন, ‘কার্ডগুলো সাবেক চেয়ারম্যান ও আর্শাদ মিয়ার জিম্মায় থাকতো। যে কারণে আমি বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতাম না। ভিজিডির অসঙ্গতিপূর্ণ কয়েকটি কার্ড চেয়ারম্যান আমার হেফাজতে রাখার জন্য দেন। কিন্তু আশার্দ মিয়া ১২৩ নম্বর কার্ডটি নিতে চাইলে আমি না দেওয়ায় চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আর্শাদ মিয়া আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।’
মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন, ‘আমিসহ সবার উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য আশার্দ মিয়া সচিবকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি শেষ করার জন্য চেষ্টা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘ইউপি সচিব তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। প্রকৃত কার্ডধারীরা যদি তাদের কার্ড সম্পর্কে অবগত না থাকে এবং ভিজিডির চাল পেয়ে থাকে সেটি অন্যায়। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]