- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইউপি সদস্যকে ফাঁসাতে শিক্ষকের অপচেষ্টা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাছ মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নাম সর্বস্ব এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল। বছরখানেক আগে জলিলের বড় ভাই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে জলিল কৌশলে এখলাছের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগত্রে অভিযোগকারী হিসেবে যার নাম রয়েছে তিনি এ অভিযোগের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাই এ লিখিত অভিযোগের কপি জলিল কাউকে দেখাতে না চাইলেও এ প্রতিবেদক সেই অভিযোগপত্র সংগ্রহ করেছে।
লিখিত অভিযোগে দেখা যায়, একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পনারকুড়ি গ্রামের জামাল বাদশা নামের এক ব্যক্তি এখলাছের বিরুদ্ধে জামালের বাবা আব্দুল হালিম ও তার চাচাতো বোন রাবেয়া খাতুনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে আশ্রয়ণের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু জামাল জানিয়েছেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। আর তিনি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরও করেননি। তাহলে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করলো কে? অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার জলিল মধ্যনগর বাজারে স্বপ্না স্টুডিওতে অভিযোগপত্রটি কম্পিউটারে টাইপ করতে যায়। কিন্তু ওই দোকানে ভীড় থাকায় জলিল অন্য কোনো দোকান থেকে অভিযোগপত্র প্রিন্ট করে। পরে পুনরায় স্বপ্না স্টুডিওতে গিয়ে মানিক মিয়া নামের একজনকে অভিযোগকারীর স্থানে জামাল বাদশার নাম হাতে লিখে দিতে অনুরোধ করেন। মানিক মিয়া সেই অনুরোধ রক্ষার্থে জামাল বাদশার স্বাক্ষর করে দেয়। এ বিষয়টি মানিক মিয়া স্বীকার করে বলেন, ‘জলিলের কথায় আমি স্বাক্ষর করেছি। দোকানে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় অনেকের ফরম পূরণ করে দিতে হয়। আমি ভেবেছিলাম এটি সে রকম কিছু। এটি যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তা বুঝতে পারিনি। এটি আমি যে কোনো জায়গায় বলতে পারবো।’
এদিকে রাবেয়া খাতুনও অভিযোগের ব্যাপারে অবগত নয় বলে স্বীকার করেছেন। তিনিও ইউপি সদস্যকে ঘরের জন্য কোনো টাকা দেননি বলে জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, জলিল কৌশলে তার বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী (অন্য বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনকৃত) জুয়েল মিয়াকে কাজে লাগিয়ে জুয়েলের বোন জামাই লিটন মিয়াকে দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে ফোন করিয়ে ইউপি সদস্য ঘরের জন্য টাকা নিয়েছে এমনটি প্রচার দেওয়ায়। শুধু তাই নয় জলিল কৌশলে লিটনের এমন বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করেন এবং তা ছড়িয়ে দেন। লিটন জুয়েলের বাড়িতেই বসবাস করেন। লিটন কাজের সন্ধানে উজানে অবস্থান করছেন। গত বুধবার দুপুরে লিটনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে লিটনের শশুর মরম আলী, শাশুড়ি মালেকা খাতুন, স্ত্রী মর্জিনা জানায়, লিটন ওই ইউপি সদস্যকে কোনো টাকা দেয়নি। শুধু তাই নয়, এখলাছের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের বক্তব্য দেওয়ার জন্য একই গ্রামের শুক্কুর আলীকে লোক মারফত বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও মারধরের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে জলিল। শুক্কুর আলী জানিয়েছেন, তিনি জলিলের ভয়ে স্থানীয় বাজারে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। বাজারে গেলেই তাকে মারধর করা হতে পারে।
কিন্তু জামাল বাদশার বৃদ্ধ বাবা আব্দুল হালিম তাঁর মেয়ের জন্য ঘর পাওয়ার আশায় এখলাছকে নিজ থেকে (এখলাছ টাকা চায়নি) ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য বলেছেন, ‘জলিল আব্দুল হালিমের এক ছেলেকে জলমহালে ব্যবসায়ীক অংশীদার বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলিয়ে তা ফেসবুকে ছড়িয়েছে। বছরখানেক আগে জলিলের বড় ভাই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেছিলাম। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সেই থেকে জলিল ও তার পরিবার আমার পিছু লেগে আছে। জলিল তার নিজের লোকজন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
আব্দুল জলিল বলেন, ‘মানিককে দিয়ে জামালের স্বাক্ষর করা অভিযোগের কপি ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়নি। অন্য একটি অভিযোগের কপি জমা দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু জামালের হয়ে মানিকের স্বাক্ষরিত অভিযোগের কপিই ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে— এমনটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। যার কপি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]