- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইউসুফের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

লিপসন আহমেদ
‘আমি আর পারছি না গো মা….হাতের ব্যথা সহ্য করতে।’ পৌর শহরের আবুল হোসেন মিলনায়তনের সামনে এভাবেই নিজের ভাঙা হাত দেখিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছিল একটি পথশিশু। গত ২৩ অক্টোবর সোমবার এই সময় রিক্সায় যাচ্ছিলেন জেলা প্রতিবন্দ্বী বিষয়ক কর্মকতা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। তিনি শিশুটিকে দেখে রিক্সা থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে ? শিশুটির হাত দেখে এবং কথা শুনে রিক্সায় করে শিশুটিকে তার সাথে নিয়ে যান জেলা প্রতিবন্ধী অফিসে। জেলা প্রতিবন্দ্বী অফিসের কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি) ড. মোহাম্মদ তানজিল হক শিশুটির হাত দেখার পর তার অবন্থা আশংকাজনক দেখে সিলেটে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বলেন। নয়তো  প্রতিবন্ধী হয়ে সারা জীবনে বেঁচে থাকতে হবে বলেও জানান।
এতক্ষণ যে শিশুটির কথা বলছিলাম সে শহরের বড়পাড়ার মৃত. রহমত আলী ও সেলিনা বেগমের একমাত্র ছেলে ইউসুফ আলী (১২)। বড়পাড়ার একটি কুঁড়ে ঘরে শিশুটিকে নিয়ে থাকেন সেলিনা বেগম।
জানা যায়, প্রায় দেড়মাস আগে বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে দেয়ালের উপর থেকে পড়ে বাম হাতের কবজি ভেঙ্গে যায় ইউসুফ আলীর। স্থানীয়রা তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউসুফকে সিলেট ওসমানি মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু টাকার অভাবে তার সন্তানকে চিকিৎসা করাতে পারেননি তার মা সেলিনা বেগম। সেই থেকে ভাঙ্গা হাত নিয়ে বাসায় কাতরাচ্ছে ইউসুফ।
ইউফুফের মা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার এই অবুঝ (ইউসুফ) ছাড়া এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। আমি পরের বাড়ি কাজ করে যে টাকা পাই সেটা দিয়ে অনেক কষ্টে আমাদের দুজনের সংসারে চালাই। এরপর তো আর চিকিৎসার জন্য কিছু থাকে না। সন্তানকে এখন খাওয়াবো না চিকিৎসা করাবো স্যার। আপনি একটা কিছু করেন।’
তখন জেলা প্রতিবন্দ্বী বিষয়ক কর্মকতা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী একটি দরখাস্ত লিখে জেলা প্রশাসকের বরাবরে পাঠান। জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম বুধবার সকালে ছেলেটির হাতে চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা তুলে দেন এবং ছেলেটিকে দ্রুত সিলেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইউসুফের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আরেকটি চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রতিবন্দ্বী বিষয়ক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী।  
ঠুনকো কারণে ইউসুফের মতো শিশুরা প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। শিশুটির ভবিষ্যত বিবেচনা করে চিকিৎসা সহায়তার জন্য আমাদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। যথা সাধ্য সহায়তা করা।

  • [১]