শান্তিগঞ্জ অফিস
ইজারাদার জলমহালের মৎস্য আহরণ করলেও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শান্তিগঞ্জ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের উপ্তিরপাড় গ্রাম সংলগ্ন মরা মহাসিং নদী জলমহালে।
বুধবার সরেজমিন মরা মহাসিং নদীতে গিয়ে উপ্তিরপাড় গ্রামের ভূক্তভোগী জমসিদ মিয়া ও সাইফুল ইসলাম সহ গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, মরা মহাসিং নদী জলমহালটি ১৪২৫-১৪৩০ বাংলা সনের জন্য ইজারা নেয় শত্রুমর্দন ব্রাহ্মণগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি.। গত ৫ বছর মৎস্য আহরণ করলেও কারও উপর কোন অভিযোগ ছিল না তাদের। কিন্তু গত ১৩ ডিসেম্বর শান্তিগঞ্জ থানায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ নুর বাদী হয়ে উপ্তিরপাড় গ্রামের সাইফুল ইসলামসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে জলমহাল লুটপাট করে ৪ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির মামলা করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন সাইফুল ইসলাম সহ উপ্তিরপাড় গ্রামবাসী। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান ভূক্তভোগীরা।
গ্রামের পশ্চিম দিকে মরা মহাসিং নদীতে তাদের পূর্ব পুরুষ থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত ভোগ দখলে রয়েছেন। এই নদীতে গ্রামের পুরুষ, মহিলা, শিশু, কিশোরেরা গোসল সহ পারিবারিক কাজে পানি ব্যবহার করে থাকেন। মামলায় ৭ নং আসামী তৌহিদ মিয়া ২ বছর যাবৎ দুুবাই থাকা সত্ত্বেও তাকে আসামী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জলমহালে মৎস্য আহরণের ভাগীদার শাল্লা উপজেলার সুমন্ত দাশ, উপ্তিরপাড় গ্রামের ফারুক আহমদ ও উমেদনগর গ্রামের নুরুল আমিন জানান, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা জলমহালে কোন লুটপাট করেননি, শুধু জলমহালের উপ্তিরপাড় গ্রামের পশ্চিমের অংশে মৎস্য আহরণে বাধা দিয়েছেন।
ইজারাদার জাবেদ নুর জানান, জলমহালে কোন লুটপাট হয়নি। অভিযুক্তরা গ্রামের পশ্চিমের অংশে মৎস্য আহরণ করতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মামলা করতে গিয়ে কিছু মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।