মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন
দু’সপ্তাহের মধ্যেই ইতালির মতো ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত হতে যাচ্ছ সমগ্র বৃটেন! গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৯৩ জন, যা এখন পর্যন্ত যেকোনও দেশের জন্যই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। অথচ দু’সপ্তাহ আগেও দেশটির পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল না। কিন্তু, জনগণের অসচেতনতা আর সরকারের গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে দ্রুতই পাল্টে গেছে চিত্র।
খুব শিগ্রই এমন পরিস্থিতি হতে পারে ব্রিটেনেও। -ডেইলি মেইল জানিয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে শনিবার পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জন, যা ঠিক ৭ মার্চ তারিখে ইতালিতে মৃত্যু সংখ্যার সমান। এ বিষয়টি উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘ইতালির মতো পরিস্থিতি থেকে আমরা মাত্র দুই কি তিন সপ্তাহ পেছনে আছি।’
তিনি বলেন, ইতালীয়দের চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্দান্ত। তারপরও তাদের চিকিৎসক-নার্সরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এরই মধ্যে ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক হাজার হয়েছে, যা আরও বাড়ছে। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ না করি, যদি (ভাইরাস) বিস্তারের গতি কমাতে নায়কোচিত জাতীয় ব্যবস্থা না নিই-তাহলে আমাদের এনএইচএস-ও (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) একইভাবে হিমশিম খাবে।
স্যার ভ্যালেন্সের মতে, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আসতে এখনও অন্তত ছয়মাস বাকি। সেই পর্যন্ত মহামারি ঠেকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ না মেনে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পাব, বার ও নাইটক্লাবে মানুষজন জমা হওয়ার প্রেক্ষিতে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্যার প্যাট্রিক ভ্যালেন্স। অবশ্য গত শুক্রবার করোনা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সব বার, পাব, নাইটক্লাব, রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল, জিম, পাবলিক বাথ বন্ধ ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।