মুফতি আবুবকর শাহ বারহালী
(পূর্ব প্রকাশের পর)
ইমামে আযম আবু হানিফা (রহ:) এরমধ্যে এক দিনের কম নাজায়েজ। ইমাম মোয়াজ্জেনদের মতে অল্প সময়ের জন্য ও ই’তিকাফ বৈধ। আর এ কথার উপরই বর্তমানে সকল উলামায়ে কিরামের ফতুয়া। এই জন্যই প্রত্যেক মুসলমানের উচিৎ মসজিদে প্রবেশ করলেই ই’তিকাফের নিয়ত করে নেয়া।
এখানে আমি একটি অতীব জরুরী একটি কথা বলতে চাইÑদাওয়াতে তাবলীগের ভাইয়েরা ই’তিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করেন বিধায় তাদের মসজিদে থাকা বৈধ। এতে আপত্তি করার কিছু নেই। আর বাধা দেয়াও যাবে না। বরং সার্বিক সহযোগিতা করাই শ্রেয়।
ই’তিকাফ অত্যন্ত ফজিলতের কাজ। মহানবী (সা.) সব সময় তা করতেন। তিনি জীবনে কখনও
ছাড়েননি ই’তিকাফ। এমনকি শেষ জীবনে বেশি বেশি করে ই’তিকাফ করতেন। মাহে রমজান হল কুরআন নাযিলের মাস। আর কুরআন নাযিল হয় ক্বদরের রাতে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন, ক্বদরের রাত হল হাজার মাস হতেও উত্তম রাত। অর্থাৎ একজন মানুষ তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করলে যে নেকী অর্জন করবে কেবল মাত্র ক্বদরের রাতে ইবাদত করলেই সে পরিমাণ নেকী অর্জন করতে সক্ষম হবে। কিন্তু শরিয়তে শবে ক্বদর কোন রাত্রে হবে, তা নির্দিষ্ট নেই। তবে এ কথা বলা হয়েছে যে রমজানের শেষ দশকের যে কোনো রজনীতে শবে ক্বদর হতে পারে।
বুখারী শরীফের হাদিসে আম্মাজান হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসে মহানবী (সা.) বলেন, রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় তারিখে তোমরা শবে ক্বদর তালাস করবে। উলামায়ে কেরামগণ বলেন, শেষ দশ দিন একুশ রজনী হতে শুরু হয়। এই হিসাব মতে ২১,২৩,২৫,২৭.২৯ তারিখের যেকোনো রজনীতে শবে ক্বদর হতে পারে। ইবনে হাজামের মতে চন্দ্র মাস ঊনত্রিশ দিনের হলে ২০ তারিখ হতে শুরু হয়। অর্থাৎ ২০,২২,২৪,২৬,২৮ তারিখে হয়।
শবে ক্বদর অনির্দিষ্ট হওয়ার কারণ সম্পর্কে মেশকাত শরীফের একটি হাদিসে আছে, হযরত ওবাদা (রা.) বলেন, একদা হুজুর (সা.) আমাদেরকে শবে ক্বদরের সঠিক তারিখ জানাবার জন্য বাইরে তাশরীফ আনেন। তিনি বলেন, তোমাদেরকে শবে ক্বদরের সম্পর্কে বলতে এসেছিলাম। কিন্তু দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হওয়ার কারণে এর তারিখ নির্দিষ্ট করা আর সম্ভব হল না। হতে পারে এতে কোনো মঙ্গল নিহিত রয়েছে। তোমরা এটা নবম, সপ্তম তারিখে তালাস করবে। যা হউক শবে ক্বদর অনির্দিষ্ট হওয়ার পেছনে অবশ্যই উম্মতের জন্য মঙ্গল রয়েছে। মানুষ যে অন্য রাতেও তা পাওয়ার আশায় ইবাদত করে নির্দিষ্ট হলে তা আর করতো না। আবার অনেক মানুষ গোনাহের কাজ করে ফেলে। এ মহিমান্বিত রজনীতে গোনাহ করলে নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যেতো গোনাগার। (চলবে)