- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ই’তিকাফ আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়ক

মুফতি আবুবকর শাহ বারহালী
(পূর্ব প্রকাশের পর)
শর্ত: ই’তিকাফকারীকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হতে হবে। পাগলের ই’তিকাফ হবে না। পবিত্র থাকতে হবে। মাসিক হতে পাক হতে হবে। নিয়ত থাকতে হবে। অবশ্যই মসজিদে অবস্থান করতে হবে।
ই’তিকাফের বর্জনীয় দিকগুলো হলো অযথা মসজিদ হতে বের হওয়া যাবে না। দুনীয়াবী কথা বার্তা বা অপ্রয়োজনীয় তা করা যাবে না। ফরজ গোসল বা একান্ত প্রয়োজনীয় গোসল ছাড়া গোসল করা যাবে না। ঝগড়া বিবাদ, মারামারি করা যাবে না, গীবত ছোগলখুরী করা যাবে না। সারা দিন রাত ঘুমিয়ে কাটানো যাবে না। এমন কোনো কাজ যা লোকের চোখে মন্দ তা করা যাবে না। সহবাস করা যাবে না।
করণীয় কাজগুলোর মধ্যে: যিকির বেশি বেশি করে করতে হবে। কুরআন  
 তেলাওয়াত করতে হবে। বেশি বেশি নামাজ আদায় করতে হবে। দোয়া প্রার্থনা করতে হবে। নিজের এবং সমস্ত উম্মতের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে হবে। কালেমা পড়তে হবে। সম্ভব হলে ওয়াজ নসীহত করতে হবে এবং শুনতে হবে।
উল্লেখিত শর্তগুলো মেনে ই’তিকাফ করতে পারলে অশেষ পুরস্কার লাভ করা যায়। যেমন হাদীস শরীফে আছে যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একদিন ই’তিকাফ করে আল্লাহ পাক তাঁর সকল গোনাহ মাফ করে দেন। আরেকটি হাদীসে আছে যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশ দিনে ই’তিকাফ করবে সে যেন দুটি হজ্ব ও দুটি ওমরা পালন করল। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য একদিন ই’তিকাফ করেন, আল্লাহতা’লা তাঁর এবং জাহান্নামের তিন খন্ডক দূরত্ব করে দেন। যার পরিমাণ আসমান ও জমীনের মধ্যবর্তী স্থানের চেয়েও বেশি। যে ব্যক্তি জামেয়া মসজিদে মাগরিব হতে ইশা পর্যন্ত ই’তিকাফ করে জিকির ও তেলাওয়াত করে তাঁর জন্য জান্নাতে একটি বালাখানা তৈরি করা হয়।
পরিশেষে এ কথা বলা যায় যে, ই’তিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। সময় সুযোগ থাকলেই সকল মুসলমানকেই তা করা উচিৎ। কারণ এর দ্বারা আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করা যায়। আবার শবে ক্বদরের মতো একটি মহিমান্বিত রজনী হাসিল করা যায়। আল্লাহপাক আমাদের সকলকে নে কাজের তৈৗফিক দান করুন। আমিন
লেখক : ইমাম, হাসনবসত জামে মসজিদ, কালীপুর, সুনামগঞ্জ।

  • [১]