জেলা জুরে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে জগন্নাথপুর উপজেলায় গ্রামীণ ফোন নেটওয়ার্কের দুর্বল সিগনাল নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। নি¤œ ইন্টারনেট গতির কারণে ওখানকার ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীহ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়। শুধু জগন্নাথপুর উপজেলা কেন, সারা জেলায়ই ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে অনলাইন নির্ভর নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে ভীষণভাবে। আর এক্ষেত্রে শুধু গ্রামীণ ফোনই নয় সবগুলো ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থার অবস্থাও একইরকম। খোদ বিটিসিএল ও ব্রডব্যান্ড সেবাদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার হালও একইরকমের হতাশাজনক। যেসময়ে বাংলাদেশে ৫জি ইন্টারনেট সেবা চালুর কথা শোনানো হচ্ছে সেই সময়ে একটি জেলা শহরে এমন শম্বুকগতির ইন্টারনেট ওই কথাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জানা যায়, সরকারি অফিসগুলোতে যারা ইন্টারনেট সেবা দেন তাদের অবস্থাও এখন একইরকমের। ইন্টারনেট গতির অভাবে ই-ফাইল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার খবরও শোনা যায়।
দেশের সকল মানুষকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং সরকারের সকল সেবা কার্যক্রম এর আওতায় পরিচালনা করা সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের যে শ্লোগান তুলেছে সেটি সকল মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কার্যত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জায়গায় অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখন ইন্টারনেট বিষয়ে ওয়াকিবহাল। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যাও জনসংখ্যার তুলনায় আশাব্যঞ্জক। ইন্টারনেট নির্ভর সেবাগুলোকে অর্থবহ ও কার্যকর করে তুলতে হলে অবশ্যই এর গতি একটি বড় উপকরণ। গতিহীন কিংবা ধীর গতির ইন্টারনেট মানুষের অসীম বিরক্তির কারণ হয়। আমাদের দেশে ইন্টারনেট সেবা দানকারীদের মধ্যে বেসরকারি খাতই প্রধান ভূমিকা রাখছে। বলাবাহুল্য তারা বিজ্ঞাপনে নিজেদের সেবা নিয়ে যেসব চমৎকার কথাবার্তা শোনান কার্যক্ষেত্রে তার ছিটেফোটারও দেখা পান না ব্যবহারকারীরা। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ সবচাইতে বেশি। প্রোভাইডাররা নানা কিসিমের যে অদ্ভূত সব প্যাকেজ গ্রাহকদের সামনে নিয়ে আসছে তার অধিকাংশই গ্রাহক ঠকানোর কৌশল মাত্র। অধিক মূল্য নিলেও তারা সুব্যবসায়ীসুলভ ভাল সেবা দানের ক্ষেত্রে একেবারেই অনাগ্রহী তারা। বরং সেবার মান কমানোর বিষয়ে যেন সকল প্রোভাইডারদের মধ্যে অলিখিত সমঝোতা তৈরি হয়ে আছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগানের স্বার্থকতার জন্য অবশ্যই ইন্টারনেট সেবার গতি ও মান বাড়ানো সহ একে সুলভ করতে হবে। এই জায়গায় সবকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর ছেড়ে দিলে চলবে না। সরকারের হস্তক্ষেপ ভিন্ন মুনাফাখোর নেট ব্যবসায়ীদের থামানো সম্ভব নয়। কিন্তু এই জায়গায়ও সরকারের উদ্যোগ একেবারেই সীমিত বলে আমাদের মনে হয়। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জায়গায় প্রত্যাশিত গতি থেকে আমরা এখন অনেক পিছিয়ে রয়েছি। কেন ইন্টারনেটের গতি কম বা কবে এর গতি বাড়বে প্রোভাইডাররা গ্রাহকদের এ নিয়ে কিছুই অবহিত করেন না। একজন হয়তো তিন দিনের প্যাকেজ কিনলেন আর ওই তিন দিনই তিনি নেটের গতি পেলেন না। সেক্ষেত্রে গ্রাহকের টাকা ঠিকই গচ্চা গেল। সেবা না দেয়ার জন্য প্রোভাইডার গ্রাহককে তিন দিনের প্যাকেজটি নতুন করে আরও তিন দিনের জন্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন না। এইভাবে এরা প্রতি সেকেন্ডে বাংলাদেশের মানুষের গলা কেটে চলেছে। মোবাইল বা ইন্টারেনেট ব্যবসায়ীদের মুনাফাখেকো মনোবৃত্তি সব ধরনের বেনিয়া ছলচাতুরিকে ছাড়িয়ে গেছে বলে সকলেই বলাবলি করেন। এমন অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই। ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রচলিত দীর্ঘলম্ফ পদ্ধতির অবসানের লক্ষে সরকারের আশু দৃষ্টি কামনা করি।