বিশেষ প্রতিনিধি ও আবু হানিফ
অপেক্ষাকৃত রাজনৈতিক সচেতন, প্রয়াত রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের শহর হিসাবে পরিচিত দিরাই পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা জমে ওঠেছে। পুরো শহর ছেয়ে গেছে পোস্টারে-পোস্টারে। প্রার্থীদের প্রচারণার মাইক, বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোট প্রার্থনার প্রতিযোগিতা চলছে শহরজুড়ে। চায়ের কাপে ঝড় ওঠেছে নির্বাচনী আলাপচারিতার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন তাদের সমর্থকরাও।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচনে দিরাই-শাল্লার ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন সকলে। এখানে ভোট হয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই। আগামী ২৮ ডিসেম্বর দিরাই পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৮, কাউন্সিলর পদে ৩৯, সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন লড়ছেন। মেয়র পদে দিরাই পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বিশ^জিৎ রায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী করেছে উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মোশারফ মিয়া, দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কদ্দুছ মিয়ার ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হাফিজ লোকমান আহমদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অনন্ত মল্লিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিক মিয়া ও রশিদ মিয়া ভোটে লড়ছেন।
পৌর এলাকার ভোটার অশোক রায় বললেন, পৌরসভার ড্রেনেজ সমস্যা, অনেক নতুন সড়ক পাকাকরণ, মহল্লায় মহল্লায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, মাদকমুক্ত পৌরসভা গঠন যার দ্বারা হবে, তাকেই ভোট দেবেন তাঁরা। একই মন্তব্য করলেন, গণমাধ্যম কর্মী জাকারিয়া আহমদ।
পৌর এলাকার ভোটার নারায়ণ রায় জানালেন, শিক্ষিত ও রাজনৈতিক সচেতন প্রার্থীকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা বিশ^জিৎ রায় বললেন, নির্বাচিত হলে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর পাশপাশি, মাটির সড়ক পাকাকরণ, সুসম উন্নয়ন, পৌর শহরে কবরস্তান এবং শশ্মাশঘাট নির্মাণ করবেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ইঙ্গিত করে বললেন, তারা উন্নয়ন করে নি। নিজের উন্নয়ন করেছে। তাঁদের কারো কারো বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আছে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র মোশারফ মিয়া দিরাই পৌরসভার ড্রেন ও নতুন নতুন সড়ক পাকাকরণের বর্ণনা দিয়ে বললেন, বিএনপি সরকারের শাসনামলে দিরাই পৌরসভায় কোন উন্নয়ন হয় নি। উন্নয়ন যা হয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়কালেই। নির্বাচিত হলে দিরাই পৌরসভাকে বদলে দেবার কথা জানালেন তিনি। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ তাঁকে কেন বহিস্কার করা হবে না মর্মে শোকজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শোকজের চিঠি পাই নি। পেলে জবাব দেব।
উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাপার লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চাইছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অনন্ত মল্লিকও।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও দিরাই পৌরসভার নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বললেন, পৌরসভার ২১ হাজার ৩৭৯ জন ভোটারই ২৮ ডিসেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেবেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন তাঁরা।