- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ১১ জনের হাতে

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলায় ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ঐ ব্যবসায় মহিলারাও জড়িয়ে পড়ছে। এক বছর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খাতায় সদর উপজেলার চিনাউড়া গ্রামের আবেদ আলীর নাম কেবল ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে উল্লেখ ছিল। এখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবের খাতায় ১১ জনের নাম রয়েছে। কিন্তু বেসরকারী তথ্য মোতাবেক এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২ জন নারী ইয়াবা ব্যবসায়ীও রয়েছে। এরা  পাইকারী ব্যবসায়ী। গত ৬ মাসে পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ৩৯৯৫ পিস ইয়াবাসহ ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে ইয়াবা আসে সরাসরি চট্রগ্রাম থেকে গাড়ীযোগে। কোন কোন ব্যবসায়ী নিজেরা আবার কোন কোন সময় বহনকারীরাই নানা কায়দায় সুনামগঞ্জ পর্যন্ত ইয়াবা পৌঁছায়। আবার ভৈরব থেকে নৌ-পথে তাহিরপুর-বাদাঘাট হয়েও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পৌঁছে যায়। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতের ফলের খাঁচায়, মাছের খাঁচায়, ডিমের খাঁচায়, কাপড়ের পেকেটেসহ নানা কায়দায় খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয় ইয়াবা। খুচরা বিক্রেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের ‘হোমসার্ভিস’ দেয় বলে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে ৩৩৯০ পিস ইয়াবা ও ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ও র‌্যাব-৯ এর অভিযানে তাদেরকে সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক দক্ষিণপাড়া থেকে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের সিজল মিয়া (৫৫), হাদিস মিয়া (৪৫) ও কাদির মিয়া     (৩৫)। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, গত ৬ মাসে  ৩৯৯৫  পিস ইয়াবাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন তাঁরা। এর মধ্যে গত ৯ অক্টোবর জগন্নাথপুরের পশ্চিম ভবানীপুরের সজিব মিয়াকে ১৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
১৪ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সর্দারপুরের কবীর হোসেনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
৬ জুলাই ১৭০ পিস ইয়াবাসহ দোয়ারাবাজার উপজেলার ইদনপুরের মো. হান্নান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৪ এপ্রিল ১১০ পিস ইয়াবাসহ সদর উপজেলার ডলুরার মোছাম্মৎ জ্যো¯œা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১১ এপ্রিল শহরের হাসননগরের রেজান মিয়া ৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়।
১০ এপ্রিল সদর উপজেলার ডলুরা এলাকার মোছাম্মৎ সুফিয়া আক্তার ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা ছাড়াও অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা আইন-শৃঙ্খলা বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ইয়াবা গডফাদাররা হলো- সদর উপজেলার ডলুরার জোৎ¯œা বেগম ও সুফিয়া আক্তার, ছাতকের রেলওয়ে কলোনীর মামুনুর রশিদ, সদর উপজেলার চিনাউড়ার আবেদ আলী ও হুসেন আলী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবেড়ের কালা মিয়া, জয়নগরের পাপ্পু ( কারাগারে আছে), জামালগঞ্জের রামনগরের নূর আলম ও নূর ইসলাম (দুজনেই কারাগারে), জগন্নাথপুরের পশ্চিম ভবানীপুরের সজিব মিয়া ও দোয়ারাবাজারের ইদনপুরের মো. হান্নান মিয়া (দুজনেই কারাগারে)। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পুরান গোদিগাঁওয়ের মো. ইউনুস আলী এবং বিশ্বম্ভরপুরের সলুকাবাদের বিল্লাল মিয়ার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. সুয়েব আহমদ বলেন,‘বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে গত ৮ আগস্ট তারা নিজেরাই চট্রগ্রাম থেকে ইয়াবা নিয়ে আসে।’ তিনি জানান, এই পর্যন্ত তাঁদের অভিযান ও অনুসন্ধানে ১১ জন ইয়াবা বিক্রেতার সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই কারাগারে আছে। এরা পাইকারী বিক্রেতা। তাঁর মতে সুনামগঞ্জের মাদকাসক্তদের মধ্যে এখন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ইয়াবা আসক্ত।

  • [১]