এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
চলছে মাহে রমজান। কয়েকদিন পরেই ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে তাহিরপুর সীমান্ত সহ উপজেলা জুড়ে এখন মাদকের ছড়াছড়ি। ঈদকে ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তাহিরপুর সীমান্তের বিভিন্ন স্পট দিয়ে প্রতিদিনেই আসছে মাদকদ্রব্য। মদ, ইয়াবা, গাঁজা, হিরোইন সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এখন সীমান্ত এলাকা সহ উপজেলা জুড়ে সয়লাব।
জানা গেছে, মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে তাহিরপুর সীমান্তের বাগলী, লামাকাট, জঙ্গলবাড়ী, ছাড়াগাঁও, বাঁশতলা, লালঘাট, লাকমা, টেকেরেঘাট, বড়ছড়া, রজনী লাইন, চাঁনপুর, বারেকটিলা, লাউড়েরগড়ের সায়েদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ওপাড় থেকে এপাড়ে আসছে মাদক। পরে এসব মাদক উপজেলার বাদাঘাট, কাউকান্দি, বালিয়াঘাট, দুধের আউটা, শ্রীপুর, আনোয়ারপুর, বালিজুড়ি, একতা, জনতা বাজার সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করছে মাদককারবারীরা।
এলাকাবাসী জানায়, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ছোট খাটো মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করলেও কয়েকদিন পর জামিনে ফিরে এসে আবারও পুরনো ব্যবসায় সক্রিয় হচ্ছে এরা। এবার ঈদকে সামনে রেখে তাদের ব্যবসার ধরণ পরিবর্তন করেছে। এলাকা ভিত্তিক গ্রুপ করে মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করে মাদক বিক্রি করছে তারা। মাদক বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী, শিশু, মোটরসাইকেল চালক ও অসহায়দের। অল্প বয়সি তরুণরা ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে দিনদিন।
স্কুল শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সবুল জানান, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা প্রতিদিনই নতুন নতুন কৌশলে তরুণ সমাজের মধ্যে এগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব মাদকদ্রব্য দ্রুত বন্ধ করা উচিত, না হলে উপজেলার যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। গতকাল ২ কেজি গাঁজা সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জেল হাজতে পাঠিয়েছে। প্রায় সময়ই পুলিশ মাদক জব্ধ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করছে।