- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ঈদযাত্রায় ২৬৫ মৃত্যু যোগাযোগ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা প্রমাণ করে

এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ২৬৫ তাজা প্রাণ ঝরে পড়েছে বলে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক সংবাদ থেকে জানা যায়। প্রাণহানির পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৬ জন।  দুর্ঘটনার ৯২% ই বিভিন্ন সড়কপথে ঘটেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তৈরি করা তথ্য মতে ৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর মাত্র ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত দুর্ঘটনার উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) এর মতে সড়ক দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশ কারণ হলো-অতিরিক্ত গতি, চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং করা। ওই প্রতিবেদনে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, রেল ও নৌপথের তুলনায় সারা বিশ্বেই দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। ঈদ মৌসুমে উৎসবের আনন্দে শামিল হওয়ার জন্য ঘরে ফিরতে যাওয়া এতগুলো লোকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় আমরা দারুণ মর্মাহত। আহত-নিহতদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। এত অধিক দুর্ঘটনা আমাদের যোগাযোগ খাতের ভঙ্গুর ও অকার্যকর ব্যবস্থার দিকটি সকলের সামনে নিয়ে আসে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অসম বিন্যাসেরও পরিচয় বহন করে। দেখা যাচ্ছে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৯০ ভাগই হয়েছে সড়ক পথে। নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে কম। অনেকে বলবেন, সড়কে যানবাহন চলাচল করে বেশি, তাই সড়কেই দুর্ঘটনা বেশি ঘটবে। পরিসংখ্যানের এই সব ফন্দিফিকির মাথায় রেখেই আমরা বলতে চাই, সড়ক পথের উপর অত্যধিক চাপ কমানোর জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কেন আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি না? বিশেষভাবে বলা দরকার, সারা বিশ্বে গণপরিবহন হিসাবে রেলপথই প্রথম পছন্দ। দূর ও স্বল্প পাল্লার নানা ধরনের রেল চলাচলকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয় বিশ্বের সকল দেশে। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতের রেল ব্যবস্থার প্রশংসা শোনা যায় ওই দেশে বেড়িয়ে আসা অনেকের মুখে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের রেলপথকে সবসময় বিমাতাসুলভ আচরণের সন্মুখীন হতে হয়েছে। অন্যদিকে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ অবকাঠামোকেও ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে। সড়ক, নৌ ও রেল-এই তিন গণযোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে সরকার কেবলমাত্র সড়ককেই যেন সমাধানের একমাত্র উপায় নির্ধারণ করেছেন। ফলে সড়কে মানুষ ও যানবাহনের পরিমাণ বাড়ছে। পাশাপাশি সড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো সড়ক আইন না মেনে বেপরোয়া স্বভাব প্রর্দশন করে চলেছে। এরকম একটি বাস্তবতায় সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেতে হলে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি যোগাযোগের অন্য মাধ্যমগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে রেল নেটওয়ার্ক বাড়ানো এবং যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসাবে রেলওয়েকে প্রথম পছন্দ হিসাবে নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে মানুষ যেমন সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন তেমনি দুর্ঘটনার মাত্রাও হ্রাস পাবে।
সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে সড়ক আইন মেনে চলায় কঠোরভাবে বাধ্য করতে হবে। বেপরোয়া গতি, অবৈধ ওভারটেকিং রোধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার, দক্ষ চালক দিয়ে যানবাহন চালানো, সড়কের মানোন্নয়ন এসব দিকে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখা দরকার মানুষ স্থানান্তরে গমন করে নিজের প্রয়োজনে। এই প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা দেয়া কোন উন্নত যোগাযোগ পরিসেবার বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আমাদের সবকিছু জবাবদিহিতার বাইরে। তাই মাত্র ১২ দিনে ২৬৫ টি নির্মম মৃত্যু ঘটলেও এজন্য একজন চালক কিংবা মালিকের শাস্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায় না। সড়কপথে যেকোন দুর্ঘটনাকে এমন দায়মুক্তি দেয়াও দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ।   
 

  • [১]