হাফিজ আতাউর রহমান লস্কর
মাহে রবিউল আওয়াল রসুল (সাঃ) এর জন্মের মাস এবং ওফাতেরও মাস। রসুল (সাঃ) এর জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন ৮, কেউ বলেছেন ৯, কেউ বলেছেন ১২ রবিউল আওয়াল। তবে ১২তারিখ বেশি প্রসিদ্ধি পেয়েছে, যদিও ৯ তারিখে অনেক বিজ্ঞ আলেম প্রাধান্য দিয়েছেন আর রসুল (সাঃ) এর ওফাতের তারিখ সম্পর্কে অধিকাংশ আলেম বলেছেন, ১২ রবিউল আওয়াল।
রসুল (সাঃ) এর জন্ম তারিখ প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ১২ রবিউল আওয়াল হওয়ায় এ দিনটিকে অনেকে মিলাদুন নবী (সাঃ) রূপে পালন করেন। আবার কেউ সিরাতুন নবী (সাঃ) উৎযাপন করেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক কোনটি? যারা এ দিনটি ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ) পালন করেন, তারা বলেন, ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ) অর্থ নবীজি (সাঃ) এর জন্মে খুশি হওয়া। কোন মুসলামান আছে কি যে, রসুল (সাঃ) এর জন্মে খুশি না হয়ে পারেন? তাই তারা এ দিন রসুল (সাঃ) এর জন্মদিন হিসাবে ঈদ পালন করেন। পক্ষান্তরে যারা এর বিরোধিতা করেন তারা বলেন, রসুল (সাঃ) এর এরশাদ অনুযায়ী ইসলামে ঈদ দুটি, ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আযহা। সুতরাং ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ) নামে তৃতীয় আরেকটি ঈদের উদ্ভাবন বিদাত হবে। সবাই যার যার মতের পক্ষে যুক্তি পেশ করেছেন। সুস্থ ও সঠিক চিন্তা করার বিচারে এ যুক্তিগুলো নিরীক্ষণ করে দেখতে হবে। যারা এ দিন ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ) পালন করেন, তারা পারিপার্শ্বিক অর্থে তা পালন করেন না। তাই দুই ঈদের মতো পালন করা হয় না বরং তারা তা শাব্দিক অর্থে পালন করেন। যার অর্থ রসুলুল্লাহর জন্মে খুশি হওয়া। রসুল (সাঃ) এর মুবারক জন্মে খুশি হওয়া অত্যন্ত প্রসংশনীয় বিষয়। তা সকল মুসলমানেরই কর্তব্য এবং এটা ঈমানের দাবি। তবে রসুল (সাঃ) এর জন্মে খুশি হওয়া, সব সময় কর্তব্য। এটা শুধু নির্দিষ্ট সময়ের সাথে খাছ হতে পারে না। যেমন রূপে বার্ষিক ঈদগুলো নির্দিষ্ট দিনের সাথে খাছ হয়ে থাকে। যেমন বলা হয়ে থাকে মাহে রমজান শেষ হওয়ার পরদিন, তথা ০১ সাওয়াল ঈদ উল ফিতর। তাতে প্রতীয়মান হয় সাওয়ালের ০২, ০৪ বা ০৫ তারিখ অথবা অন্য কোনদিন ঈদ উল ফিতর নয়। সে রকমভাবে যদি বলা হয় ১২ রবিউল আওয়াল ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ), তাতে অর্থ দাঁড়ায় রবিউল আওয়ালের ১৩ বা ১৪ তারিখ কিংবা অন্য কোন দিন ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ) অর্থাৎ রসুল (সাঃ) এর জন্মে খুশির দিন নয় (নাউজুবিল্লাহ)।
দ্বিতীয়ত, ১২ রবিউল আওয়াল, ঈদ এ মিলাদুন নবী (সাঃ) অর্থাৎ রসুল (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করা হয়ে যায়। যেমন করে খৃষ্টানগণ ২৫ ডিসেম্বর বড় দিনের নামে ঈসা (আঃ) এর জন্মদিন পালন করেন অথচ ইসলামে কারো জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালন করার বৈধতা নেই। তা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের তরিকা।
তৃতীয়ত, ১২ রবিউল আওয়াল রসুল (সাঃ) এর ওফাত দিবসও সুতরাং কেউ কি তার প্রিয়জনের ওফাত দিবসে খুশি উৎযাপন করতে পারে? নিশ্চয়ই না।
অপরদিকে এ দিনটিকে রসুল (সাঃ) এর ওফাত দিবস হিসাবে পালন করার ও অবকাশ নেই। কেননা ইসলামে কারও জন্ম দিবস পালন করার যেমন বৈধতা নেই, তেমনি মৃত্যুদিবস পালন করার বৈধতা ও নেই। সে সব বিধর্মীয় ও বিজাতীয় রীতিনীতি।
সুতরাং শুধু নির্দিষ্ট এক দিন কে মিলাদুন নবী (সাঃ) রূপে পালনের নামে ইসলাম পরিপন্থি বিষয়ের অবতারণা না করে সিরাতুন নবী (সাঃ) কে আমাদের সার্বিক জীবনে ধারণ করে ইহ ও পরকালে সাফল্য লাভই আমাদের কর্তব্য আর রসুল (সাঃ) এর প্রতি আমাদের সারা বছরই খুশি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রসুল (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা মহান আদর্শ ও অনুসরণের পাশাপাশি মহব্বত প্রকাশ করে। বৎসরের প্রতিটি দিন অধিক পরিমাণে রসুল (সাঃ) এর উপর দুরদ ও সালাম পাঠ করা আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। আল্লাহ সকলকে সঠিকভাবে রসুল (সাঃ) এর জীবনীর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন।
লেখক-ইমাম খালেকাবাদ জামে মসজিদ, সুনামগঞ্জ।