- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

উচ্চ আদালতে রিট করেও কাজ হয়নি- সরকারিকরণ হচ্ছে বাদাঘাট কলেজ ও বাদশাগঞ্জ হাইস্কুল

বিন্দু তালুকদার
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর জেলার তাহিপুর উপজেলার বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ ও ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ওই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ হওয়াকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে রিট করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুইটি সরকারিকরণ হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণে উচ্চ আদালতে রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে উচ্চ আদালতে দুইজন রিটকারীর দাবি তাঁরা এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করেন নি, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রিট করেছেন।
বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রিটকারীকে কোন ধরনের দোষারোপ না করলেও বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি; উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে বাধা দিয়ে মহৎ কাজে বিলম্ব ও অন্যায়ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
জানা যায়, বর্তমান সরকারের আমলে জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী তাহিরপুরের বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ ও ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের লক্ষ্যে তালিকাভূক্ত করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে। নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন এলাকার অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তাহিরপুরের বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণ বিষয়টি দেখিয়ে উচ্চ আদালতে (হাই কোর্ট) রিট করেন তাহিরপুরের জয়নাল আবেদীন কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নুরুজ আলী। এদিকে ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের বিষয়ে একইভাবে আরো একটি রিট করেন একই উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল মনাফ। কিন্তু উচ্চ আদালত বাদী পক্ষের রিট গ্রহণ করলেও ওই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ প্রক্রিয়ায় কোন নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ প্রদান করেন নি। ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাহিরপুরের বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ ও ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণে আর কোন বাধা নেই। যদিও জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল মনাফ প্রথম রিট খারিজের পর রিট টু আপিল করেছিলেন; কিন্তু উচ্চ আদালত রিট টু আপিলও খারিজ করে দেন বলে জানিয়েছেন বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ।
জানা যায়, বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ ১৯৯৪ সালে বাদাঘাট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৬ সালে বোর্ডের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানের শিক্ষক সংখ্যা ২৩ জন, কর্মচারী ১৩ জন ও ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২ হাজার জন। বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৫০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৫২ সালে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা ১৯ জন, কর্মচারী রয়েছে ৪ জন, ছাত্র-ছাত্রী ১৫৮৬ জন।
ধর্মপাশার জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল মনাফ বলেন,‘ আমরা বাদশাগঞ্জ স্কুল সরকারিকরণে কোন ধরনের আপত্তি বা বাধা দেইনি। আমরা উচ্চ আদালতে রিট করে বলেছিলাম সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা সদরের স্কুলকে বাদ দিয়ে কেন দূরের স্কুল সরকারিকরণ করা হচ্ছে। গত রবিবার রায় হয়েছে; রায়ে বলা হয়েছে দুইটিই সরকারিকরণ করা হবে। আমরা রিট একটিই করেছি; দুইটি রিট করি নি বা আমাদের রিট খারিজ করা হয়নি।’
বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাল উদ্দিন বলেন,‘ অহেতুক মিথ্যা তথ্য দিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করে আমাদের সময় ও অর্থের অপচয় করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বিদ্যালয়েক সরকারিকরণের তালিকাভুক্ত করা হলে অন্যায়ভাবে বাধা দেয়া হয়েছিল। কারণ আমাদের বিদ্যালয়টি অনেক আগের প্রতিষ্ঠা। তাদের বিদ্যালয় অনেক পরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাধাদানকারীদের প্রথম রিট ও পরের রিট  টু আপিলও খারিজ হয়ে গেছে। এখন আমাদের বিদ্যালয়েকে সরকারিকরণ করতে আর কোন ধরনের আপত্তি বা বাধা নেই। আমরা বিদ্যালয়ের সম্পদ হস্তান্তরের চুক্তি করেছি। বিদ্যালয় সরকারিকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব স্বাক্ষর করেছেন। এখন শুধু সরকারিকরণের ঘোষণার অপেক্ষা। ’
উচ্চ আদালতে রিট করার প্রতিক্রিয়ায় বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন,‘ আমরা চাই এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সরকারিকরণ হোক। জয়নাল আবেদীন কলেজ সরকারিকরণ হোক তা আমরাও চাই। কিন্তু বাদাঘাট কলেজের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। রিটের ঘটনা সরকারের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও উচ্চ শিক্ষা প্রসারে অন্তরায় বলে মনে করি।’
তাহিরপুরের জয়নাল আবেদীন কলেজের পক্ষে রিটকারী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নুরুজ আলী বলেন,‘ আমরা বাদাঘাট কলেজ সরকারিকরণের বিরুদ্ধে নই; আমাদের কোন আপত্তিও নেই। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপজেলা সদর এলাকার কলেজকে বাদ দিয়ে ১৪ কিলোমিটার দূরের কলেজকে সরকারিকরণ করায় আমরা নিজেদের অধিকার বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে রিট করেছি। আদালত শিক্ষা সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন। তবে রিটের চূড়ান্ত আদেশ এখনও হয়নি। আমরা আদালতের চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় আছি।’
বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জুনাব আলী বলেন,‘ উচ্চ আদালতে রিটের কারণে আমাদের কোন ক্ষতি হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে রিটের কারণে আমাদের কলেজের সমস্যা হবে না। তবে ওই রিটে নিজেদের স্বার্থে আমরা পক্ষ হয়েছি; আমরা আমাদের জবাব দেয়ার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত একটা আদেশ হবে এবং আমাদের কলেজ সরকারিকরণ হবে। ’

  • [১]