- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

লিপসন আহমদ
পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা। ঠিকমত বেতন না পেয়েও এমনকি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় নানা সমস্যার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মরত ৬ জন শিক্ষিকা।
বুধবার সরজমিনে বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় যে, বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে ফ্যান থাকলেও ব্যবহার করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। কারণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গরমের দিনে কষ্ট হয় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।
শুধু তাই নয় নানান ধরনের অবকাঠামো সংকটের মধ্যে ভুগছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।   বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার জন্য নেই নলকূপ। নেই ভাল একটা বাথরুম; শ্রেণী কক্ষের দেয়ালও রয়েছে স্যাতস্যাতে অবস্থায়।
বছরের শুরুতে সব বিদ্যালয়ে খেলাধুলা হলেও এই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন খেলা-ধুলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের পাশের সব কয়টি স্কুলে বছরের শুরুতে খেলাধুলা হয় কিন্তু তাাদের স্কুলে কোন খেলা-ধুলা হয় না।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৯৮ সালে। চালু হওয়ার পর ভাল ভাবেই চলছিল; কিন্তু এখন প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছে সেটি। বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫ জন, ২য় শ্রেণীর ৩৫জন, ৩য় শ্রেণীর ২৫ জন, ৪র্থ শ্রেণীর ২০ জন, ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০ জন সহ-মোট শিক্ষার্থী ১৩৫ জন।
প্রধান শিক্ষিকা আসমা বেগম বলেন,‘ স্কুল যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকে এই স্কুলে কর্মরত আছি।             
 এই স্কুলের সবকিছু আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে। কারণ স্কুল শিক্ষার্থীরা আমাদের মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের মায়ায় নিজের কাছ থেকে রিক্সা ভাড়া দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের এসে ক্লাস করিয়ে যাই। বেতন না পেলেও কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিজের  সন্তান মনে করে স্কুলে থাকা আরো ৫ জন শিক্ষিকা মিলে আমরা স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় আমাদেরকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এলাকার পৌর কাউন্সিলর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হবেন। কিন্তু তিনি আমাদের কথার গুরুত্ব দেননি। নানান সংকটের কারণে স্কুলে খেলাধুলার আয়োজন করতে পারি না। আর যখন পরীক্ষা আসে তখন আমাদেরকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা দরিদ্র তারা ঠিক মতো পরীক্ষার ফি দিতে পারে না। তখন আমরা টাকা তুলে তাদের পরীক্ষার ফি’র ঘাটতি পূরণ করি। আমাদের শিক্ষকদের জোর দাবি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে স্কুলের এই সমস্যাগুলো নতুন বছরের আগে সমাধান করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবাবিল নুর বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি এই বিষয়ে মেয়র সাহেবের সাথে কথা বলেছি। তিনি কয়েকদিন আগে তাদের ২ মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন । এখন থেকে প্রতিমাসের বেতনের সাথে বকেয়া ১ মাসের বেতন দেওয়া হবে। এই সপ্তাহের ভিতরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। আশা করি বিদ্যালয়ে যেসব সমস্যা আছে তা দ্রুত সমাধান হবে।’

  • [১]