স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের উত্তর নতুনপাড়া হয়ে বাঁধনপাড়া যাওয়ার সংযোগ সড়কের ড্রেনের কাজ তিন মাসেও শেষ হয়নি। ড্রেনের কাজ অসমাপ্ত থাকায় এবড়ো থেবড়ো হয়ে আছে সড়ক। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ কারণে সংযোগ সড়কের দুপাশের বাসিন্দাসহ পথচারীরা পড়েন বিপাকে। সামনে দুর্গাপূজার আগে ড্রেনের কাজ শেষ না হলে ভোগান্তি বাড়বে স্থানীয়দের।
সরজমিনে উত্তর নতুন পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেনের কাজ চলছে। সড়কের পুরোনো আরসিসি ঢালাই ভেঙে একপাশ ধরে ড্রেনের কাজ করছেন সাত থেকে আটজন শ্রমিক। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড্রেনের কাজ করতে দু’রকমের কাজ করতে হয় তাদের। প্রথমে সড়কের পাশে আরসিসি ঢালাই ভেঙে খনন করতে হয়। খনন হয়ে গেলে কংক্রিট দিয়ে ড্রেনের কাঠামো তৈরি করা হয়। এই দু’ধরনের কাজের মধ্যে পুরোনো আরসিসি সড়ক ভাঙতে সময় বেশি লাগে। এই কাজে শ্রমিক কম হওয়ায় শেষ করতে সময় বেশি লাগছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এছাড়াও নির্মাণাধীন এলাকায় সর্তক সাইন থাকার কথা থাকলেও পুরো এলাকায় এর লেস মাত্রও চিহ্ন নেই। এতে নতুন কেউ মোটরসাইকেল, রিকশা নিয়ে গলিতে ঢুকে পড়তে হয় বিপাকে। নির্মাণ কাজের দীর্ঘ সূত্রতার কারণেও উত্তর নতুনপাড়ার বাসিন্দাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঈদের পরের দিন থেকে ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছিলো। প্রায় ৩ মাসেও শেষ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বলছেন, ড্রেনের কাজে পর্যাপ্ত শ্রমিক যুক্ত করা হচ্ছে না। এছাড়াও প্রায়ই কাজ বন্ধ থাকে। একারণেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না। এছাড়াও আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এই দুর্গাপূজার আগে ড্রেন ও সড়কের কাজ শেষ না হলে ভোগান্তি বাড়বে মানুষের।
উত্তর নতুনপাড়ার বাসিন্দা অনিশ তালুকদার বাপ্পি বলেন, বৃহত্তর নতুনপাড়ার সকল শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এই কয়েকমাস ধরে ড্রেনের কাজ করায় আমাদের থেকে শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় বেশি পড়তে হয়েছে। এছাড়াও সামনে দূর্গাপূজা। এই নতুনপাড়ায় ৬ টি জায়গায় পূজোম-প হয়। পূজার প্রত্যেকদিন হাজারও মানুষের সমাগম হয়। এর আগে এই সড়ক যদি ঠিক না করা হয়, তাহলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। খানাখন্দ’র কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটবে।
পশ্চিম নতুনপাড়ার বাসিন্দা সবিতা রানী দাস বললেন, রিকশা তো দূরে থাক, হেঁটেই চলাচল করা যায় না। এদিকে না আসলে কালীবাড়ি হয়ে যেতে হবে। এতে সময় অর্থ দুইও নষ্ট হবে। তাই ঝুঁকি জেনেও এই সংযোগ সড়কটি ব্যবহার করি।
উকিলপাড়ার বাসিন্দা নিবারণ সরকার বললেন, পূর্ব নতুনপাড়া যেতে চাইছিলাম। বাঁধনপাড়া হয়ে অনেকটা পথ এসে দেখি সামনে সড়কের কাজ হচ্ছে। এখানে প্রবেশের আগেই যদি উন্নয়নমূলক কাজের সাইন দেয়া থাকতো, তাহলে আসতাম না।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রাপ্তি এন্ট্রারপ্রাইজের মালিক বিপ্রেশ দাস বাপ্পী বললেন, আমরা জুন মাস থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। ২৯ লাখ টাকার কাজ এটা। আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত কাজের সময়সীমা রয়েছে। তবে আগামী ১০ দিনের ভেতর আমরা কাজ শেষ করবো। সামনে দুর্গাপূজার আগেই কাজ শেষ করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করে দেয়া হবে।
পৌর মেয়র নাদের বখ্ত বললেন, দুর্গাপূজার আগে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।