- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হলো ‘বাঘের শিন্নি’

স্টাফ রিপোর্টার
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও রঙ্গালয় সুনামগঞ্জের ৩য় বছরে পর্দাপণ উপলক্ষে ৪দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
রবিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসনরাজা মিলনায়তনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামসুল আবেদিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, প্রথমআলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাড. খলিল রহমান।
উদ্বেধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনটিভির জেলা প্রতিনিধি ও থিয়েটার সুনামগঞ্জের দলপ্রধান দেওয়ান গিয়াস।
উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘বাঘের শিন্নি’। বিলুপ্ত প্রায় গ্রাম্য এই সংস্কৃতিকে উপজীব্য করে নির্মাণ করা হয়েছে এই নাটকটি। বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চল বিশেষত সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং ভারতের আসাম অঞ্চলে এক সময় বাঘের শিন্নির গানের বেশ প্রচলন ছিল। বিশেষত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়ের গড় এলাকার শাহ আরেফিনের মাজারকে কেন্দ্র করে এ সংস্কৃতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গ্রামের জমিদার বা গৃহস্থ তাদের ঘরে ঘরে রাখাল রাখতো। রাখলরা গরু চড়ানোর পাশাপাশি ধান কাটাসহ যাবতীয় কাজ করে দিত।
মাঘ-ফাল্গুন মাসে শীতের সময় আশে পাশের জঙ্গল থেকে বাঘ প্রজাতির পশুরা গ্রামে হানা দিত। সেই বাঘের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাখালরা রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিত। বড় শিন্নি আয়োজনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতো। তখন হতো বাঘের শিন্নির গান।
ভবতোষ রায় বর্মণ’র রচনা ও নির্দেশনায় নাটকে অভিনয় করেছেন সিলেট শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সূত্রধর-শামসুল হুদা মুস্তফা, রাখাল সরদার-ফয়সাল খলিলুর রহমান, মেম্বার- আবুল হাসনাত স্বপন, কালাচান-আলি রেজা হাসিব, করম আলী-বুরহান উদ্দিন, মোরল-আদনান সামী নাহিয়ান, রাখাল চরিত্রে মেহেদী ফারুকি, অপু খাইরুল, আসীম সরকার, প্রান্ত ধর, জাহিদ হাসান সাগর, সাগর দেবনাথ, মৌলা শাহ, বিশ্বজিত কুমার দেব, ফুলি-জাওয়াতা আফনান রোজা, ফুলির মা-সৈয়দা বিথি, সাংবাদিক-সুমনা দেব কেয়া, আগন্তুক-তৈয়োবুর রহমান। এছাড়াও আবৃত্তি করেন অসুশুয়া বিশারদ অতসী ও কারিগরী সহযোগীতায় ছিলেন সাইফুল আল রাফি।

  • [১]