- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

উন্নয়নের মহারথী এমএ মান্নানকে দরকার, তবে…

ইয়াকুব শাহরিয়ার
এক.
হারিকেনের আলোয় মানুষ কতটুকু পথ চলতে পারে?
এখানে নেই কেনো অন্ধকারে পথ দেখানোর মতো উজ্জল টর্চ লাইট?
লাইন দুটিতে সুনামগঞ্জের উচ্চ শিক্ষার নিদারুণ চিত্র তুলে ধরেছিলাম বছর পাঁচেক আগে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা ‘মাননীয় সরকার’ শিরোনামে লেখা একটি কবিতার শেষ পঙক্তিগুলোর মাঝে দুটি চরণ। তখন আমাদের সুনামগঞ্জের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ। আমার আক্ষেপের সুরে লেখা এ কবিতাটি যে অতিদ্রুত বাস্তবায়ন হয়ে যাবে তা কল্পনাও করিনি। নামমাত্র সময়ের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ এখন শিক্ষায় উর্বরভূমি হতে চলেছে। মদনপুর-দিরাই রাস্তার মুখে ৫শ শয্যা বিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্বে টেক্সটাইল কলেজের মতো বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠান হতে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো যখন স্থাপন হবে তখন সুনামগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থার চেহারাই বদলে যাবে হয়তো। আমরা স্বপ্ন দেখি সুনামগঞ্জ একটি উন্নত জেলায় পরিণত হবে। এ স্বপ্ন আমরা প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে যে দেখে আসছি তা কিন্তু নয় কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আবদুস সামাদ আজাদ বা রাজনীতির কবি খ্যাত প্রয়াত সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও আমাদের দেখাতে পারেন নি। আমরা এখন স্বপ্ন দেখি না, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের আগামী প্রজন্ম হবে স্বনির্ভর, সেই স্বপ্নে চোখমুখ উজ্জল হয়ে উঠে। এটা সম্ভব হয়েছে রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ ৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের জন্য। তাঁর হাত ধরে সুনামগঞ্জ জেলায় ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
দুই.
রাজনীতির উঠোনজুড়ে এখন কাদামাখা খেলা চলছে। এখন ভাল রাজনীতিকেরা অবসরে যাচ্ছেন, গত হচ্ছেন আর ‘অরাজনীতিকেরা’ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লাফাচ্ছেন। রাজনীতি সাধারণ কোনো বিষয় নয়, এটা একটা বিজ্ঞান। এ বিজ্ঞান মানুষের অধিকার আদায়ের বিজ্ঞান। মানুষের পক্ষে কথা বলার বিজ্ঞান। সুতরাং রাজনীতিকে কখনো কোনো অরাজনীতিকের হাতে যেমন তুলে দেওয়া যাবে না, ঠিক তেমনি নেতৃত্ব থেকেও বিজ্ঞদের অবসরে দেওয়া ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে প্রজ্ঞাবান একজন রাজনীতিকই একটি জাতিকে উদ্ধারের জন্য যথেষ্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখে আমরা এ শিক্ষা নিতে পারি। বর্তমান সময়ে সুনামগঞ্জ তথা সারা দেশের রাজনীতিকদের মাঝে এমএ মান্নান একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক। তার দ্বারা সুনামগঞ্জবাসী যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে তাঁর সফলতার জন্য তিনিই একমাত্র তুলনাযোগ্য। সুনামগঞ্জের উন্নয়নে     যে মানুষটি সাধনা করে যাচ্ছেন সেই মানুষকে হাওরের রাজধানীর জন্য আবার নেতৃত্বে আনা জরুরী। সুনামগঞ্জের উন্নয়নে তাঁকে খুব বেশি দরকার বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। তাঁকে পুনরায় নির্বাচিত করার পক্ষে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।
তিন.
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর অর্থাৎ সুনামগঞ্জ সংসদীয় এ আসনটির আওয়ামী রাজনীতিতে এখন বিভেদের সুর প্রবলভাবে বইছে। এখানে রাজনীতির মাঠের প্রকৃত খবর হচ্ছে জগন্নাথপুরে সামাদ আজাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি প্রতীক না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার খবরও চাওড় হচ্ছে। জগন্নাথপুরে ইতোমধ্যে তাকে নিয়ে একটা বলয় ও এমএ মান্নানকে নিয়ে একটি বলয় তৈরী হয়েছে। যেখানে নৌকার ভোট একটি বক্সে বন্দি হওয়ার কথা সেখানে আওয়ামীলীগের দুই বলয় বলে বাক্স দুইটা হয়ে যায় কি না সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। আর দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে মন্ত্রী এম এ মান্নানের বাইরে আরেকটি পক্ষ আছে যাদেরকে একেবারে গৌণ করে দেখা যাবে না। নিজস্ব কিছু ভোট ব্যাংক নিয়ে নিজেই এমএ মান্নান বিরোধী আরেকটি বলয় গড়ে তুলেছেন একসময় এম এ মান্নানের আশির্বাদপুষ্ট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম। মাঠে মাঠে, গ্রামে গ্রামে, উঠোনে উঠোনে ঘুরে নিজের পক্ষে জনমত গঠন করে চলেছেন তিনিও। তবে তাঁর মূল খুটির জোড় যে আজিজুস সামাদ ডন তা সহজেই অনুমেয়। বিভিন্ন সভা সেমিনার, বৈঠক ও প্রচারণায় দুজনকে একসাথে দেখা যাচ্ছে। এদিকে সদর এলাকার কয়েজন বিজ্ঞ রাজনীতিকও তাঁদের সমর্থন করেছেন। আবুল কালামের রাজনীতির শুরু যদিও আবদুস সামাদ আজাদের হাত ধরে। তিনি গত হওয়ার পর নেতা শূন্য থাকতে হয়নি তাকে। এম এ মান্নানকে সমর্থন করেন তিনি। এখন আবার সামাদ পুত্রের সাথে কাজ করছেন। অনেকে এটাকে রাজনীতির পালাবদল বললেও অনেকে সমালোচনা করে বলছেন, ঘাট বদল। ঘাট হোক আর পালা বদলই হোক একটা পোক্ত অবস্থান যে দক্ষিণে তার আছে সেটা স্বীকার্য।
শেষ.
একটি বিষয় পরিষ্কার যে, সুনামগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনের আওয়ামী রাজনীতিকগণ ৩ অংশে বিভক্ত। এটা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর তথা সমস্ত সুনামগঞ্জের জন্য অশনি সংকেত। কারণ সাধারণ মানুষেরা মনে করেন যে, যদি সুনামগঞ্জ জেলার আরো বেশি উন্নয়ন দেখতে চাই তাহলে সজ্জন রাজনীতিক এমএ মান্নানকে আরেকবার দরকার। কারণ তিনি উন্নয়নের মহারথী। ভবিষ্যৎ অর্থমন্ত্রীও মনে করছেন অনেকে। আমাদের প্রয়োজনে তাঁকে আমাদের দরকার। তাই বলে একথা শুনার পর এম এ মান্নান সমর্থকেরা হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। দরকার সমন্বয়। চা স্টলের রাজনীতি বিশেষকেরা মনে করেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের মাঝে এম এ মান্নান, আজিজুস সামাদ আজাদ ডন ও আবুল কালামের মাঝে যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে এম এ মান্নানকে শেষ জীবনে এসে নির্বাচনে তিক্ততার স্বাদ গ্রহণ করতে হতে পারে। এমনটা নিশ্চয়ই প্রকৃত আওয়ামীলীগাররা কখনো চাইবেন না। আর যারা বিরোধীতা করবেন বা করছেন তারা তাদের সর্বস্ব দিয়ে নিজেদের জয় ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করবে। তাই আগে থেকে প্রজ্ঞাবান এ রাজনীতিককে সচেতন করে দিতেই সাধারণ মানুষ আলোচনা তুলেছেন। আমি মনে করি টেলিভিশনের টক শো থেকে গুরুত্বপূর্ণ টক শো হচ্ছে চা স্টলের টক শো। এখানে যে আলোচনা হচ্ছে সেটা আমলে নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি বোধ করি। নিজের প্রচেষ্টায়, সুনামগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদেরাঝে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর একটা উদ্যোগ শিগগির গৃহীত হবে সেই প্রত্যাশা সকলের।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

  • [১]