ছাতক প্রতিনিধি
ছাতক নদীবন্দর উন্মুক্ত দরপত্র বা ই-টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে ইজারা প্রদানের দাবিতে পৃথক ৩টি আবেদন দেয়া হয়েছে। গত ২৯ জুন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে শহরের বাগবাড়ী এলাকার জামাল আহমদ চৌধুরী, চরেরবন্দ এলাকার শাহ নেওয়াজ চৌধুরী ও কালারুকা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা কাওসার আহমদ।
আবেদনে বলা হয়েছে, ইজারার নীতিমালা উপেক্ষা করে ছাতক নদীবন্দর ইজারা দেয়া হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমে আগ্রহী ইজারাদারগণ আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কে বা কারা অতি গোপনীয়তা অবলম্বন করে ছাতক নদীবন্দর ২০২০-২০২১ ইং অর্থ বছরের জন্য নবায়ন মূলে ইজারা প্রদান করেছে। সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী নবায়ন মূলে নদী বন্দর ইজারা প্রদান সম্পূর্ণ বে-আইনী ও ইজারা নীতিমালা পরিপন্থি।
বাংলাদেশ হাটবাজার ২০১১ এর ৩.৬ এবং ৪.৭ অনুচ্ছেদের উধৃতি দিয়ে এ বিষয়ে আবেদন আরো উল্লেখ করা হয়, কোন কারণে ইজারা প্রদান
না করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই সময়ের টাকা হারাহারি ভাবে ফেরত প্রদান করবেন। সেখানে ইজারা নবায়নের কোন সুযোগ নেই। এ ছাড়া বে-আইনী কোন কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য দুদক এর পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। ভুয়া ইজারা বা নবায়ন মূলে ইজারা বাতিল করে নতুনভাবে উনা¥ুক্ত দরপত্র আহবান করা হলে ছাতক নদী বন্দর বর্তমান মূল্যের চেয়ে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ বেশী মূল্য দিয়ে ইজারা গ্রহণে আবেদনকারীরা প্রস্তুত রয়েছেন। অন্যথায় সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে।
১০১৫ইং সালে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের মাধ্যমে ছাতক নদীবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার এক নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। এ সময় ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারতার আখাংকায় এখানের ব্যবসায়ীদেরে মধ্যে সৃষ্টি হয় নতুন উদ্যম ও উৎসাহ। এখানের নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে নৌ-চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম ছাড়া সবই এখানের মানুষের কল্যাণে চলছিল। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ছাতক নদীবন্দর নবায়ন মূলে ইজারা প্রদানের বিষয়টি ব্যবসায়ী ও ইজারা গ্রহীতাদের করেছে হতাশা।
জানা যায়, আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার অধীনস্থ ছাতক নদীবন্দর উদ্বোধনের পর থেকেই দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ইজারা প্রদান কার্যক্রম চলে আসছে। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ এর অজুহাতে নবায়ন মূলে নামমাত্র মুল্যবৃদ্ধি দেখিয়ে পূর্বের ইজারাদারদের কাছেই এ নদীবন্দর ইজারা দিয়েছেন। যা প্রাইভেট প্রোকুরমেন্ট আইন বা ক্রয়-বিক্রয় নীতমালা ৬৫(২) ধারা পরিপন্থি। নবায়ন মূলে বা টেন্ডার ছাড়া নদীবন্দর ইজারা বিষয়টি নিয়ে জুনের প্রথম দিকে জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে সংবাদও প্রকাশিত হয়। এরকটি জাতীয় দৈনিকে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ইজারা নীতিমালা সংশোধনের কথা বলে কমডোর গোলাম সাদেক জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে নৌপথে যাত্রী চলাচল ও মাল পরিবহন কমেছে।
এছাড়া প্রায় দু’মাস লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ইজারাদারগণ ক্ষতিপূরণ চাচ্ছেন। এমন জটিল পরিস্থিতিতে শুধু এক বছরের জন্য নিজ নিজ ঘাট নবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ বোর্ড। এ ক্ষেত্রে প্রাক্কালিন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের নীতিমালা সংশোধনের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে এখানের ব্যবাসয়ী ও ইজারা আগ্রহীরা জানান, নীতিমালা সংশোধনের বিষয়টি সরকারের। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষে নীদিমালা সংশোধনের এখতিয়ার নেই। রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে ভূয়া ইজারা বাতিল করে ছাতক নদীবন্দর উন্মুক্ত দরপত্র আহবানের মধ্যদিয়ে ইজারা প্রদানের দাবি জানান আবেদনকারীরা।