বিন্দু তালুকদার
দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ রোধে জেলা উপজেলায় সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি বিরোধী কমিটি গঠনের নিদের্শনা এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। গত জুলাই মাসে এ নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা-উপজেলায় এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও উপজেলা পর্যায়ে ওই কমিটি কোন সভা বা সমাবেশ করেন নি। শুধু কাগজে-কলমেই চলছে এসব কমিটির কার্যক্রম।
যাদের দিয়ে কমিটি গঠন করার কথা তাদের অনেকেই এ বিষয়টি না জানার কথা বলেছেন । কমিটি গঠন হয়েছে কি না বিষয়টি তারা অবগত নয়। এ প্রতিবেদকের কাছ থেকে এই প্রথম শুনলেন উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলায় কমিটি গঠনের পর গত জুলাই মাসের শেষ দিকে উপজেলা পর্যায়ে সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মুখ্য উপদেষ্টা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি, উপজেলা পরিষদের দুই ভাইস চেয়ারম্যানকে সদস্য, থানার ওসিকে সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাকে সদস্য রেখে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে স্থানীয় সকল সাংবাদিককে সদস্য রাখা হয়।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে তারাও শুধু কাগজে কলমে সদস্য হয়েছেন। এই কমিটি কি কাজ তারা জানেন না। কমিটি গঠনের এক মাস পেরিয়ে গেলে আজ পর্যন্ত কোন সভা-সমাবেশ করতে পারেনি উপজেলা কমিটিগুলো। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন,‘আমাদের উপজেলায় সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, এছাড়া আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। উপজেলা পর্যায়ে এই কমিটির সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নানা ঝামেলার কারণে ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ে সেরকম সভা-সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। তবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিছ বলেন,‘ উপজেলা পর্যায়ে সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি বিরোধী কমিটি গঠনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এধরনের কোন কমিটি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমাকে কোন চিঠিপত্র দেয়া হয়নি এবং ওই কমিটি উপজেলায় কোন সভা-সমাবেশ করতে দেখি নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও পদাধিকার বলে ওই কমিটির সদস্য মুক্তাদির আহমদ মুক্তা বলেন,‘ এধরনের কোন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এই প্রথম শুনলাম উপজেলা পর্যায়ে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন সভা-সমাবেশে হয়েছে বলে মনে হয় না।’
জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন,‘উপজেলা কমিটিতে আমাকে ও সাধারণ সম্পাদককে রাখা হয়েছে বলে শুধু একটি চিঠি পেয়েছি। এই কমিটিকে কি কাজ কি করতে হবে এ ধরনের কোন নির্দেশনা পাইনি আমরা। আজ পর্যন্ত ওই কমিটির সভা-সমাবেশ হয়েছে বলে জানা নেই।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন,‘সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি দমনে আমরা সদা তৎপর আছি। আমরা বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি দমন সভা করেছি। উপজেলায় কোন কমিটি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এধরনের কোন কমিটির কাগজপত্র আমার হাতে পৌঁছেনি। তবে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি বিরোধী কমিটির উপদেষ্টা অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন,‘ আমরা নিয়মিত সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী সভা সমাবেশ করে যাচ্ছি। আমাদের কমিটির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা সারা উপজেলায় ২০-৩০টি কর্মসূচি পালন করেছি।’
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘ উপজেলা সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি বিরোধী কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য গ্রাম পর্যায়ে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জঙ্গি তৎপরতা রুখতে সমাজের সবাইকে সচেতন করা। জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কমিটি গঠনের পর যদি এসব কাজকর্ম না হয় তাহলে সরকার ও রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শুধু কাগজে কলমেই থাকবে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের কোন কাজে আসবে না এসব কমিটি।