- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

উপসর্গধারীদের নমুনা পরীক্ষায় ভোগান্তি

বিশেষ প্রতিনিধি
বুধবার ১১ টা ১০ মিনিটে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়েছি, দায়িত্বশীলরা জানালেন ১১ টার পর করোনার নমুনা সংগ্রহ হয় না, পরিচিত এক কর্মকর্তাকে অনুরোধ করার পর তিনি এগিয়ে এসে অনুরোধ করায় নমুনা নিতে রাজি হলেন টেকনিশিয়ান, আমরা ২০ জনের মতো ছিলাম, ১৩ জনের নমুনা নেবার পর বলা হলো কীট নেই, পরে ডাক্তারকে গিয়ে জানানোর পর কীট দেওয়া হলো, এখানে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে রেপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করালাম, অ্যান্টিজেন টেস্টে নেগেটিভ হবার পর পিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখানকার অব্যবস্থাপনা দেখে আমি ফিরে এসেছি, আমি দাঁড়ানো অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা ১২-১৩ জন নমুনা না দিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে। কথাগুলো বলছিলেন সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ সুজাদুল হক।
একই সময়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে গিয়েছিলেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহযোগি অধ্যাপক আব্দুর রকিব তারেক। বললেন, নমুন পরীক্ষা করতে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনায় পড়তে হচ্ছে করোনা উপসর্গধারীদের, উপসর্গ নিয়ে আসা লোকজন ফরম পূরণ করার ফরম পায় নি, আমি তিন মহিলাকে ফটোকপি করে ফরম আনিয়ে দিয়েছি, ওপেন স্পেসে রোগী এসে চলাচল সড়কের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, শেড নেই, ফরম ফিলআপ করতে হচ্ছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কোন শৃঙ্খলা নেই, আমরা নমুনা দিয়ে কয়েকজন মিলে নিজেরা কে- কার পরে ঠিক করে লিখে দিয়েছি। অ্যান্টিজেন টেস্টে পজিটিভ হলে ব্যবস্থাপত্র দেবারও কেউ নেই, কী করতে হবে, সেটাও বলে দেওয়া হচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে কোভিড ডেটিকেডেট পরামর্শ বুথ থাকা জরুরি বলে দাবি করলেন আব্দুর রকিব তারেক।
সোনালী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা মারূপ আহমেদ মান্নাও অব্যবস্থাপনার কথা জানালেন। বললেন, ওখানে গিয়ে মনে হয়েছে, রোগী না হলেও ওখান গেলে করোনা নিয়ে আসবে যে কেউ।
কেবল এই তিনজনই নয়। উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা নমুনা পরীক্ষায় ঝামেলা পোহাচ্ছেন নির্ধারিত স্থানগুলোয়। করোনার সক্রমণ যতই বাড়ছে নমুনা পরীক্ষায়ও চাপ বাড়ছে। বাড়ছে অব্যবস্থাপনাও। সংশ্লিষ্টরা বললেন, সংক্রমণ বাড়ায় চারজনের কাজ একজন করতে হচ্ছে এই কারণে ভিড় বাড়ছে, সময়ও বেশি লাগছে, এই কারণে উপসর্গধারীরা বিরক্ত হচ্ছেন।
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. মঈনুদ্দিন আলমগীর বললেন, সংক্রমণ বাড়ায় নমুনা পরীক্ষার চাপও বাড়ছে। মঙ্গলবার ১১ জন এসেছিলেন নমুনা পরীক্ষা করতে, বুধবার আরও বেশি লোকজন উপসর্গ নিয়ে এসেছেন নমুনা পরীক্ষা করাতে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টায় জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কামিনিপুরের নূর জাহান বেগম (৫৫) উপসর্গ নিয়ে আসেন নমুনা পরীক্ষা করতে। নমুনা পরীক্ষার এক ঘণ্টা পর হাসপাতালেই তিনি মারা যান।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বললেন, করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য ২ জন টেকনিশিয়ান ছিলেন। একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে চলে গেছেন। এখন একজন কাজ করছেন এবং উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাকের একজন টেকনিশিয়ান খণ্ডকালীন কাজ করেন। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নমুনা দিতে আসা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে সময়ও বেশি লাগে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০-২৫ জনের বেশি নমুনা নেওয়া যায় না। এছাড়া হোম কালেকশনও কিছু আছে। আবার বিকাল ৫ টার মধ্যে নমুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পৌঁছানোও লাগে। সব মিলিয়ে আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন শামছ উদ্দিন আহমেদ বললেন, কীটের কোন সংকট কোথাও নেই। জনবলের কমতি আছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরে উপসর্গ নিয়ে করোনা পরীক্ষা করতে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। শহরে তিনটি নমুনা পরীক্ষার বুথ আছে। এগুলো হচ্ছে নবীনগরের টিবি হাসপাতাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কার্যালয় এবং সদর হাসপাতাল। উপসর্গ যাদের আছে, তারা সবাই এক জায়গায় ভিড় না করে তিনটি স্থানে গেলে ঝামেলা কম হবে।

  • [১]