- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

উৎসব নিয়ে দুই বিশিষ্টজনের দুই মত

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের বিখ্যাত রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে আবারও দুই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করছেন দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি। এরা দু’জন হচ্ছেন সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন) জাফর সিদ্দিকী এবং সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা) আসনের দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন।
টাঙ্গুয়ার হাওড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি জাফর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুক স্টেটাসে উল্লেখ করেছেন-‘টাঙ্গুয়ায় জোৎ¯œা উৎসবের সংবাদটি পড়ে আমি খুবই নিরুৎসাহিত হয়েছি। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য এটি কী ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে উদ্যোক্তাদের কেউ তা ঘুণাক্ষরেও উপলব্ধি করতে পারছে বলে আমার মনে হয় নি। অথচ এ জলাভুমিটির পরিবেশ পূনরুদ্ধারে আমরা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন অনেক কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করেছিলাম। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের অনন্য প্রতিবেশ ব্যবস্থাটি তৈরি করতে প্রকৃতির হাজার হাজার বছর সময় লেগেছে। সেখানে এটি বিনষ্ট করতে এ ধরণের কতিপয় উদ্যোগই যথেষ্ট হতে পারে। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে শুধু রাতের বেলায় নয়। দিনের বেলাতেও সেখানে কোন নৌ-যান চলাচল করতে দেওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে অসংখ্য নৌ-যান চালিয়ে ভাসমান সাউন্ড সিস্টেমে রাতভর গান-বাদ্যসহ উৎসব উদযাপনের জন্য লোক সমাগমের এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে একটি ভয়বহ আত্মহনন পরিকল্পনা।
সাবেক সাংসদ নজির হোসেন টাঙ্গুয়ার হাওড়ের গত ১৩ বছরের রক্ষণাবেক্ষণকে অকার্যকর উল্লেখ করে শুক্রবার বিকালে এ প্রতিবেদককে বলেছেন-‘টাঙ্গুয়ার হাওড় ইতিপূর্বে যে ব্যবস্থার মধ্যে ছিল বা আছে, এটি কাজে আসেনি। মাছের উৎপাদন বিনষ্ট হয়েছে। গাছ লাগানো হয়নি। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে অথচ মাছ ৯০ ভাগ, গাছ ৮০ ভাগ, পাখি ৭০ ভাগ কমেছে। বছরে ৫০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হবার কথা, হয়েছে এক কোটি টাকার’। উৎসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘এটি টাঙ্গুয়ার সম্ভাবনাকে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। এখন পাখি মৌসুম নয়। এর ফলে হাওড়ের কোন ক্ষতি হবার আশংকা নেই’।

  • [১]