- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ঊর্ধ্বমুখী আদার দাম/ ১ মাসে বেড়েছে ১২০ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার
নিত্যপণ্যের পাশাপাশি দ্রুতগতিতে বেড়েই চলেছে আদার দামও। এক মাস আগে বাজারে চীনা আদার বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকায়। সেই আদা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়। চীনা আদা ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা আদার দামও বেড়েছে কেজিতে ১০০-১২০ টাকা পর্যন্ত। আর দেশি আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে আমদানি নির্ভর এই পণ্যটির সরবরাহ এখন কম। অন্য বছরগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে যে পরিমাণ আদা উৎপাদিত হয়, সেটাও এবার কমেছে। এসব কারণে আদার দাম ঊর্ধ্বমুখী।
রবিবার সুনামগঞ্জের ওয়েজখালী বাজারের প্রভাত স্টোরের প্রভাত পাল বলেন, আদা প্রতি কেজি ২৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বাইরে থেকে আদা আসছে না।
এদিন শহরের আড়ৎদার পট্টিতে পাইকারি বিক্রেতা মখলিছুর রহমান মোল্লা বলেন, আমরা বর্তমানে প্রতি কেজি আদা ২৪০ টাকা করে পাইকারি দরে বিক্রি করছি। খুচরা বিক্রেতারা ২৮০-৩০০ টাকা করে বিক্রি করছে।
আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, দেশে এ বছর আদার উৎপাদন কম হয়েছে, আমদানিও কম হয়েছে। এজন্যই দাম বেশি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের লায়েক মিয়া বলেন, বাড়িতে মেয়ে ও মেয়ের জামাই এসেছে। একটি পোল্ট্রি মোরগী কিনেছি ৪৫০ টাকা ও আলু কিনেছি এক কেজি ৩৫ টাকায়। আদা, গরম মসলাও কিনেছি। আদা ১০০ গ্রাম ৩০ টাকা নিছে। আমি জীবনেও এত দামে আদা কিনি নাই। জিনিসপত্রের দাম দিনদিন বাড়ছে। কেমনে চলব চিন্তা কইরা পাই না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, জেলায় আদা-হলুদের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বছর সুনামগঞ্জে ৩০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদর্শনী স্থাপন করে আদা উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি। যে সমস্ত এলাকায় আদা চাষ উপযোগী সেই সমস্ত এলাকায় আদা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছি।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, সারা দেশেই ঈদকে টার্গেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। সুনামগঞ্জেও এমনটা হচ্ছে, আদার দামটা বেড়েছে। আমরা তদারকি করছি, অনিয়ম পেলে আইন প্রয়োগ করব।

  • [১]