স্টাফ রিপোর্টার
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি বলেছেন, সুনামগঞ্জে ২ লক্ষ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো’র চাষাবাদ হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে মাত্র ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান। এটা কোনো পারসেন্টিজে আসে না। ক্ষতি যাদের হয়েছে, তাদের পাশে সরকার রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ আসছে, সকলে মিলে তা মোকাবেলা করতে হবে। এই সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। গণমাধ্যমকর্মীরা ফুলিয়ে ফাপিয়ে রিপোর্ট প্রচার করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যশস্যের দাম বাড়িয়ে দেবে।
বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনের আগে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত কমিটি হয়েছে, সেই তদন্ত কমিটি সরেজমিনে হাওর ঘুরে গেছেন, ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দেবার কথা। দুই-তিনদিন পরেই তারা হয়তো রিপোর্ট দেবেন। ২০১৭ সালেও দুর্নীতির দায়ে ৮ জন প্রকৌশলীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো, এবারও সেরকম হলে শাস্তি পেতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেলে খাদ্যশস্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই। দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মওজুদ আছে।
হাওর পরিদর্শনের সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম প্রমুখ সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে, উজানে (মেঘালয়- চেরাপুঞ্জি) ও সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি একই উচ্চতায় রয়েছে। বুধবার বিকাল ৩ টায়ও পানি হাওরের বিপৎসীমার মাত্র ১৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে অর্থাৎ ৫.৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল। একারণে হাওরের সবকয়টি ফসল রক্ষা বাঁধও হুমকির মধ্যে রয়েছে। গত কয়েকদিনে ১৭ টি হাওরে পানি ঢুকে পাঁচ হাজার ৫৬০ হেক্টর ফসল ডুবেছে।