- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এই গৌরবের অংশীদার সুনামগঞ্জবাসীও

ইকবাল কাগজী
যদিও এই দেশেই কেউ কেউ আছেন, যাঁরা কোনও পদক-পদবী-পুরস্কার প্রত্যাশা করেন না, কারও কাছ থেকেই। তাঁদের স্বভাটাই এমন ব্যতিক্রমী। তাঁরা বাংলা একাডেমিসহ যে-কোনও সরকারি পদক-পদবী কিংবা সম্মাননার প্রতি যৎকিঞ্চিতও আগ্রহী নন, বরং এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। এতদসত্ত্বেও সহজ সত্য এই যে, বাংলা একাডেমি কিংবা একুশে পদক প্রাপ্তি যারপরনাই প্রত্যাশিত যে-কোনও লেখকের কাছেই, এদের সংখ্যাই সমাজে সবচেয়ে বেশি।
বর্তমান সমাজসংস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পদকপ্রদানের মূল্যায়নটা মাঝেমাজেই বিতর্কের সৃষ্টি করে, সার্বিক বিবেচনায় ধরা পড়ে অনুপযুক্তের কণ্ঠে যখন ঝুলিয়ে দেওয়া হয় পুরস্কারের মালা। আমাদের সুনামগঞ্জের ধ্রুব এষ তেমন কোনও অনুপযুক্ত কেউ নয়, সে সত্যিকার অর্থেই গুণী একজন শিল্পী, পুরস্কার-পদকের আশায় শিল্পসাধনায় নিমজ্জিত আছে, তেমনটা হতেই পারে না। এসব পুরস্কারের ধার সে ধারে না। পদক পেয়ে সে হয়তো মনে মনে বলছে, ‘আমার নামটা ওখানে কে আবার দিল।’ নিভৃত ও একাকিত্বের পরিসরে যাপিতজীবনের উদাসী মানুষ এই শিল্পসাধক একটি পদক জিতে নিয়েছে বলা যাবে নাÑ কোনও বিবেচেনায়ই। বিপরীতে এটাই সত্যি যে, তাকে সেটা দেওয়া হয়েছে। তার এই ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে পদকটির সঙ্গে আলাদা একটি মর্যাদার পালক সন্নিবেশিত হয়েছে, বলা যায় এবং সেটা তাকে বিশেষভাবে গৌরবাণি¦ত করেছে। এই মর্যাদা, এই গৌরব তার একার নয়। এই মর্যাদার এই গৌরবের আংশীদার আমরা সুনামগঞ্জবাসীও।
পদক-পুরস্কার শিল্পী কিংবা লেখকের প্রতিবাদী চেতনার ধার কমায়। অথচ দুর্নীতির পঙ্কে নিমজ্জিত আমাদের এই সমাজকে উদ্ধারের লক্ষ্যে, এই দুর্বৃত্ত, উদ্বৃত্তচোর ও আত্মসাৎপ্রবণ সমাজসংস্থিতিকে জনগণের কল্যাণের পথে অভিযাত্রী করার অভিপ্রায়ে লেখক-শিল্পীর প্রতিবাদী চেতনার শৈল্পিক অভিঘাত অত্যন্ত প্রত্যাসিত একটি অনুষঙ্গ। আমরা আশা করবো আমাদের ধ্রুব এষ বদলে যাবে না, প্রতিবাদী চেতনার শৈল্পিক অভিঘাতকে তার লেখায় ও শিল্পকর্মে ধারণ করেই সে আদি অকৃত্রিম ধ্রুব এষই থেকে যাবে, সুনামগঞ্জের ধ্রুব এষ হয়েই সে থাকবে চিরদিন। ট্রাফিক পয়েন্টের বুছাদাকে যার খুব ভালো লাগে।
পরিশেষে একটি কথা না বললেই নয়। বাংলা একাডেমিকে সুনামগঞ্জের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই,,ধ্রুব এষকে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পদক দেওয়ার জন্যে।

  • [১]