- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এই দিনে ভয়াবহ বন্যায় ডুবেছিল জগন্নাথপুর, আষাঢ়ের ঢলে ফের শঙ্কা

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গেল বছর এই দিনে পুরো উপজেলা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়েছিল। পানি বন্দি মানুষ জীবন বাঁচাতে এক বিভিষিকাময় দিন কাটিয়েছিলেন। বন্যার প্রবল ¯্রােতে শত শত বাড়িঘর, ধান, চাল, গবাদিপশু, হাঁস-মোরগ ভেসে যায়। ঘটেছে কয়েকজনের প্রাণহানি। শুকনো জায়গা না পেয়ে অনেকে লাশ পানিতে ভাসিয়েছেন। সেই ভয়ঙ্কর দিনের কথা মনে হলে এখনো আঁতকে উঠেন লোকজন। তবে এবার বর্ষার ভরা মৌসুমে পানি নেই। জ্যৈষ্ঠ মাসে পানির দেখা না মিললেও আষাঢের শুরুতেই ভাটির মানুষ পানি দেখছেন। তবে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও শঙ্কা আছে তাদের মনে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ৮ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় গত বছর অব্যাহত বৃষ্টিপাতে ও পাহাড়ি ঢলে ১৬ জুন থেকে উপজেলার নি¤œাঞ্চলের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েন। ১৭ জুন ভোররাতে ভারী বর্ষণ ও অব্যাহত উজানের ঢলে সমগ্র উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়। পানিতে তলিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। হাটবাজার, রাস্তা-ঘাট। বন্যায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়া ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে অচল হয়ে যায় জগন্নাথপুর। বাসা-বাড়িতে উরু ও বুক সমান পানি উঠে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে ভিড় জমান। চারদিকে থৈ থৈ পানিতে জনশূন্য হয়ে পড়ে অনেক গ্রাম। সেই সঙ্গে দেখা দেয় ডাকাত আতঙ্ক।
ত্রাণের জন্য বন্যার্তদের মধ্যে দেখা দেয় হাহাকার। সেইদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি আজও ভুলতে পারেননি এখানকার লোকজন।
জগন্নাথপুর পৌরসভার শেরপুরের বাসিন্দা রিকশা চালক আব্দুস সাত্তার জানান, সেইদিনের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কথা আজও ভুলিনি। ভোররাতে ভয়াবহ ঢলে বসতঘরে ঊরু সমান পানি ওঠে। অনেক কষ্টে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে উঠি। সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল ব্যাটারি চালিত রিকশা। সেটাও বন্যায় অচল হয়ে পড়ে। বিধ্বস্ত হয় বসতবাড়ি। মানুষের সহায়তায় এক মাস আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। সেই ভয়ানক চিত্র আজও চোখে ভেসে উঠে।
নলুয়া হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, গেল বন্যায় ভাটির এই হাওরাঞ্চলের মানুষ এক কঠিন সময় পার করেছিলেন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কেটেছে মানুষের জীবন। সেই বন্যায় অনেকের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। তবে এবার এই সময়ে পানি কম থাকলেও আষাঢ়ের শুরুতেই অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বন্যার শঙ্কা কিছুটা দেখা দিয়েছে। ভাটির জনপদে বর্ষা মৌসুমে সাধারণত বন্যা হয়। এজন্যে শঙ্কা থাকে।
উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পিআইও শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া জানান, গেল বন্যায় জগন্নাথপুর উপজেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

  • [১]