বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি এই মাসেই হতে পারে। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র দায়িত্বশীল নেতারা এমন মন্তব্য করেছেন। তবে জেলা বিএনপি’র দায়িত্বশীল এক নেতা বলেছেন ‘এই মাসে সম্মেলনের কোন উদ্যোগ নেই তাদের। এই বিষয়ে কেন্দ্রের কোন নির্দেশনাও নেই।’
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
গত পৌনে ৩ বছরে জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১৩ টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ৩ টি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন নিয়ে কোন কোন ইউনিটে মতভিন্নতা এখনো রয়েছে। দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দিয়ে প্রথম সদস্য অ্যাড. আব্দুল হককে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়। জেলা বিএনপি অবশ্য বিশ্বম্ভপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
তবে জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক, বর্তমানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থকরা জেলা বিএনপি’র গঠিত ১৩ ইউনিটই এক তরফা হয়েছে এবং ত্যাগিরা বাদ পড়েছে বলে দাবি জানিয়ে আসছে। এই অবস্থায় দুই বলয়কে সমন্বয় করতে একাধিকবার কেন্দ্রীয় বিএনপি উদ্যোগ নিলেও জেলাজুড়ে বিএনপি’র গ্রুপিং দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।
গত ৬ নভেম্বর সিলেটে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিমের বাসভবনে সুনামগঞ্জের দুই পক্ষকে নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ সহ সাংগঠনিক
সম্পাদক। এই বৈঠকে তেমন কোন ফল হয়নি। গত ৫ জানুয়ারি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ সুনামগঞ্জে পৃথক পৃথকভাবে পালন করেছে দলটির নেতা কর্মীরা।
জেলা সম্মেলন ও কমিটি গঠন সম্পর্কে ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থক হিসাবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন,‘গত ৬ নভেম্বর এবং এর আগেও কয়েক দফায় আমরা কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের জানিয়েছি সুনামগঞ্জের ইউনিট কমিটিগুলো একতরফা হয়েছে। কমিটি পুনর্গঠন না করে সম্মেলন করা হলে আমরা সম্মেলন বর্জন করার কথাও জানিয়ে দিয়েছি। আমরা শুনেছি একতরফা করা ইউনিট কমিটি ও জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক সঙ্গেই ঠিক করে দেবেন’।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন,‘জেলা বিএনপি’র সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা কোন তারিখ দেননি। এই মুহূর্তে কোন উদ্যোগও আমরা নেইনি’।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান বলেন,‘সুনামগঞ্জের নেতাদের উপর সম্মেলন করার চাপ রয়েছে। জেলা বিএনপি’র প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন উমরা হজ্ব পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন। এজন্য কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে। তবে এই মাসেই (জানুয়ারি মাসের মধ্যেই) সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন করা হবে। সম্মেলন না হলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’।