শাহ-নজর
আশরাফ আহমদ
ওর একটাই কাজ
আমার দিকে তার দৃষ্টি ছুঁড়ে
বিদ্ধ বিধ্বস্ত করা।
ফাঁকা করে দেয়া, হতবুদ্ধি
নতমুখে অপরাধী করা।
আগে মনে হতো-শিশুটিকে একা পেয়ে
মজা করছে, লজ্জা মাপছে।
ঘাবড়ানো বিহ্বলতা দেখে
ভেতরে ভেতরে হাসছে।
কিন্তু এই সোনামুখি সুই এফোঁড় ওফোঁড় করে
তবুও ভাঙে না, তারমানে, ইয়ার্কি মারছে না,
জীবনের অধিক কাল তার শাহ নজর
আমাকেই তাক করে আছে।
কোন প্রত্যাশায় সে যে নিয়োজিত বিপক্ষে আমার,
আর এই না জানার ভুলে,
আমাকে দাঁড় করিয়ে, তীর ছুঁড়ে, গেঁথে
ঝুলিয়ে দিয়েছে শূন্যে।
প্রশ্নহীন নিথর চোখ, গলায় শব্দ নেই।
মরে যাচ্ছি নাকি?
বহুকষ্টে শেষবার সামান্য তাকাই দেখি-
নিদারুণ, নির্বিকার, মহাদূরবর্তিনীটি
অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছে মুখ!
তাহলে কি আমিই নির্নিমেষ চিরবোকা,
ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছি?
স্বপ্নরাজ
রোকেস লেইস
কোটি কোটি মানুষ নিমগ্ন ঘুমঘোরে
আলোকের অহং মাড়িয়ে
সুতীব্র গতির গড়িমায়
অবলীলায় পৌছে যায় স্বপ্ন-দ্রাঘিমায়।
আহা, স্বপ্নরা শুধুই অধরা বিলাস
বুঝি এক ঝাক মূর্ত কুসুম
পত্র পল্লবে একরাশ রঙধনু রঙ
পাপড়ির পেলবতায় প্রগাঢ় পরাগ মাখা।
এতো যে প্রশান্তি সবই অলীক, হতাশা।
স্বপ্নবাজ মানুষেরা স্বপ্ন বুনে
দূর দৃষ্টির অব্যর্থ ধ্যানে
প্রতি পদক্ষেপে নিগুঢ় নিশ্চিত
আলপনা আঁকে প্রত্যয় দীপ্ত,
স্বপ্ন সারথি হয়ে আগামীর
সূর্যের সৌর্য্যের অদম্য প্রজ্ঞায়
অতন্দ্র অহংকারে চির উন্নত
সামনে দাঁড়ায় সদা জাগ্রত,
বিরল বৈভবে বিস্ময় বিশ্বাসে, অবিরত।
স্বপ্নবাজ স্বপ্নরাজ হাজারো কোটি নয়
হাজারো কোটি মাঝে এক জনই হয়।
২৩০৭১৬
নকশি কাঁথার বাসা
তুষার কর
ভালো কোথায়, ভালো কোথায়
ভোর মেলেছে পুচ্ছ তার
ঘরের চালে, ধবল পালে
সোনার মেঘের গুচ্ছ হার।
এমন ছবি হয় যে আঁকা
লতাপাতার বুক জুড়ে
বৃষ্টি-বাতাস, নদী, আকাশ
দূর থেকে ওই যায় দূরে।
ভালোকে চায়, ভালোকে চায়
কোথায় যাবে কার কাছে
দিনের শেষে গন্ধরাজের
গন্ধুটুকু যার আছে।
সেই গন্ধের মানুষ হব
চাঁদের আলো সঙ্গী আজ
দেখলো চেয়ে, চরের পাখি
বকের পাঁতি পক্ষিরাজ।
ভালো ছড়াক আলোর আলো
জোনাকিদের তা-ই আশা
ভালো থাকে জড়িয়ে মাকে
নকশিকাঁথার ওই বাসা।
তোমারেই ভালবাসি প্রিয়া
ডা.মুরশেদ আলম
দূর হতে হৃদয় চোখে
শুধু তোমারেই আমি
দেখিব প্রিয়া !
কাছে আসব না
হৃদয়ের মাঝেই শুধু তোমারে
রাখিব ধরিয়া !
কিছু চাইবো না, দিয়ে যাবো সবি
প্রেম-ভালবাসা যা আছে মোর
নিঃশ্বাসের স্পন্দনে বিলাইয়া দেবো সুখ
সুরে সুরে ভাঙাইবো ঘুম তোমারি
চুপিসারে কানে কানে ডাকিয়া !
তোমারে রাখিব ধরিয়া
সাধ্যি নাহি মোর
শুধু মরু-তরঙ্গে ছড়াইবে সুর
বিবাগী চিত্ত আমার !
সমুদ্রের ওপাড় থেকে
বিরহী আমি, গাহিব বিরহেরি গান
বেদনারি সুর বহিবে সে গানে
কাঁদিব আমি, হয়তো কাঁদিবে
তোমারো প্রাণ !
না বাসো ভালো আমারে
আমি তো বেসেছি ভালো তোমারে
যদি কখনো একাকি হও
শূন্য মনে কর্মের অবসরে
হয়তো পড়িবে দীর্ঘশ্বাস
আমারে ভাবিয়া !
দূর হতে শুধু তোমারেই
আমি ভালবাসি প্রিয়া !!
১৪.০৭.১৬
নীলস্বপ্ন
মাহবুবুল হাছান শাহীন
আমি তোমাকে শুনাতে চাইনি মান ভাঙানো পদ্ম,
অস্ফুটস্বরে গাইতে চাইনি ভালোবাসার গান।
বাস্তবতার কষ্টে সৃষ্ট ভালোবাসা,
জাগাতে চেয়েছি অন্তরে।
এতকালের পরও যখন হেরে গেছি
জীবনের আলোর রেখায়
অন্ধকার না পাওয়ার বেদনা
আর মনে মনে হেসেছি
অনেক মমতায় যখন হিসেবের খাতা মেলাতে চেষ্টা করি,
মনে হয় সবকিছু আমার না পাওয়ার স্মৃতি সম্ভার
হাত দূর থেকে …..না ছোঁয়ার বেদনা
দূর থেকে কারো অট্টহাসির শব্দ শোনা
সবকিছু যেন এক নীল স্বপ্ন ?
৩০/০৭/২০১৬
হে মৃত্যুঞ্জয়ী ক্ষীপ্র সুন্দর
মানবেন্দ্র কর
যে ভয় নিয়ে মানবকূলের জন্ম,
সে ভয় আজ অনেকটা কাটিয়ে
উঠেছে আশরাফুল মাখলুকাত।
মৃত্যু আজ আর নদীর ওপার
থেকে ভেসে আসা কোন
ডাক নয়, যে নির্দিষ্ট সময়
শেষে আসবে
মৃত্যু আজ দিকে দিকে !!
তুমি হোটেলে গেছো
তোমার পিছে পিছে চলে আসবে মৃত্যু
গলাকেটে রক্তে রক্তে ভিজিয়ে যাবে
মোজাইক করা ফ্লোর, সবুজ ঘাস, হলুদ আলো
আর্টিজান’ -তোমাকে ধন্যবাদ ।
হয়তো তুমি গেছো বাস্তিল উৎসবে
আতশবাজির বর্ণিল মেলায়
রাস্তার যন্ত্র দানব এসে
মুহূর্তেই তোমার মগজ মিশিয়ে দেবে
ঝকঝকে সব রাস্তায় রাস্তায়।
তোমার জরুরী অবস্থা আর কখনো
তুমি কাটিয়ে উঠতে পারবে না ..ফ্রান্স !!
মৃত্যু আজ দিকে দিকে …অজেয়
জীবনের কাছে !
সুন্দরের কাছে !
১৫/০৭/২০১৬
শুভাকাঙ্খী
শ্যামল রায়
পাশে থেকে জেগেছিলে জননী
তাই শুধু নয়
জাগিয়ে রেখেছিলে সবে
প্রস্তুত হবে
এগিয়ে যেতে হবে তবে
বিশ্ব করে জয়
আলী সিদ্দিক
যোগ বিয়োগ
কবিতা লিখা রইল বাকি
তাই লিখছি
কম দিনে গর্ভপাত হবে বলে
দশ মাস দশ দিনের বদলে
বছরের পর বছর পেটে ধরেছি আরমান
প্রসব করেছি মৃত কলংক
সঞ্চয়ের পাল্লা ভারি হতে হতে
বদ্ধমুষ্টি আলগা করে দেখি খালি।
সু. খবর
নির্ম্মল আচার্য্য
দিনের বেলায় সূর্য যেমন
রাতের বেলায় চন্দ্র তেমন
চতু’রঙ্গে খেলা যখন
চার বৎসরের যুদ্ধ এখন,
অসুরদ্বয় বিনাশ করে
পঞ্চ বৎসর শুরু করে
সুরের মালা গলায় পরে
রাঙিয়ে দিব মানব কূলে
পাঠক মনে স্বস্তি এলে
জাতির কাছে দর্পন হবে
জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দিবে
কুড়িয়ে লও তাই।
সকল বাধা অতিক্রম করে
পঞ্চ-পান্ডবের বিরত্ব রেখে
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে
দ্বিধা কন্ঠে বলে যাব,
আগামী দিনেও তাই।
সত্যকে ডাকছে দু’হাত তুলে
মিথ্যা দেয় না সাড়া
আকুল কন্ঠে বলছে সত্য
মিথ্যা থাকে ঢাকা।
হাসছে সত্য, কাঁদছে মিথ্যা
সকল শাস্ত্রে ইহাই লিখা,
পুরান-কোরান যাহাই বল
যুগ যুগ ধরে ইহাই সত্য।
চাওয়া
অমিত বর্মন
একজন রাজনীতিবিদকে যদি বলা হয়,
তোমার কি চাহিদা?
তখন সে নিশ্চয় বলবে রাষ্ট্রক্ষমতা।
নদী কে যদি বলা হয়
তোমার কি চাহিদা?
নদী বলবে আমি সাগরের মতো বিশাল হতে চাই।
বৃক্ষকে যদি বলা হয়,
তোমার কি চাহিদা?
বৃক্ষ বলবে আমি শত হাজার বছর বেঁচে থাকতে চাই।
একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যদি বলা হয়,
তোমার কি চাহিদা?
সে নিশ্চয় বলবে দেশ স্বাধীন করেছি,
স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।
আমাকে যদি বলা হয়
তোমার কি চাহিদা?
আমি দৃপ্ত স্বরে বলবো দেশ মাতৃকার কথা।
প্রত্যাশা
এড. সবিতা চক্রবর্ত্তী
নিংড়ানো ভালোবাসা আর
মুক্ত অবয়ব
এরই মধ্যে তোমার বনবাসÑ
আন্দেলিত হচ্ছে প্রতিদিন।
অথচ হারাবার ভয় প্রতিনিয়ত
স্বচ্ছ স্বপ্নীল জলাধার মধ্যে যে
ভাসমান ভেলা,
সেখানে একাকী সম্পূর্ণ একা আমি
নির্বাসিত হচ্ছি
ফের আঁখি ফেরাও
নতুবা নিমজ্জিত হব ক্ষণিকেই ভাবনার তলদেশে।
অসীম নয়নের সীমা পরে
আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী,
জেলা কালচারাল অফিসার, সুনামগঞ্জ
ফেনিল সাগরের জলবুদবুদে
অন্তরীক্ষের তরঙ্গ মালায়
অরণ্য পাহাড়ে গিরি গুহায়
গৃহে আস্তাবলে কারণে অকারণে
মাকড়শার জালবুনে
মহাবিশ্বের চক্রাবর্তে ঘূর্ণায়মান মানুষ।
নিজেই নিজেকে ভুলে অপরকে ভুলায়।
আবার ভুলে জড়িয়ে ভুলাতে গিয়ে
স্মরণে আসে দুঃখী বাউলের।
দুঃখের পারাপারে দুঃখের ভেলায়
আসা যাওয়ায়
চলে নিত্য ধরে পথ চিত্ত।
ধূলি কণায় তৃণ লতায়
জড়ায় কি মায়ায় বন্ধনে।
বাঁধে রাখি কাজলে আঁখি রাঙায় সুখে।
নিত্য যে চলে খেলা ধরণীর চরে
দেখিবার পায় অন্ধ যে জন
নয়নের ডোরে। অন্ধ সে তো নয়
অন্ধ বলে লোকে যে জন অন্ধ
সেইতো দেখে অসীম নয়নের সীমা পরে।
