- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

একজন পিতৃতুল্য মানুষের চিরবিদায়

ডা. অতনু ভট্টাচার্য্য
কিছু মানুষের সাথে কথা বললেই অনেক আপন মনে হয়। ডা. আব্দুন নূর স্যার ছিলেন তেমনই এক মানুষ। দেখা হলেই হাসি দিয়ে আপন করে কথা বলতেন। এ যেন অনাত্মীয় হয়েও আত্মীয়। আসর জমিয়ে গল্প করতে খুব কম মানুষই পারে। স্যার ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন। স্যারের গল্পের আসর ছেড়ে উঠা দায় ছিল। মুগ্ধ হয়ে শুনতে চাইত মন। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় চাকরির সুবাদে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছিল পরিচিতি। রুগীদের কখনও টাকার জন্য ফেরত যেতে হয়নি। চেম্বার ছাড়াও শ্রীপুর গ্রামের বাড়িতে প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী ফ্রী দেখে দিতেন। চাকুরী থেকে অবসর নেবার পর আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও ডায়াবেটিসে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে যুগোপযোগী করেছিলেন মানুষের সেবা করার জন্য। বলতেন আমার সুনামগঞ্জের মানুষ যদি প্রতিদিন আমার কাছ থেকে একটু সেবা পায় তবেই সৃস্টিকতার দেয়া এ জীবন সফল।
তিনি ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির অনুসারী। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, সুনামগঞ্জ শাখার সভাপতি হিসেবে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। চিকিৎসক সহ সর্বোপরি মানুষের কল্যাণ ছিল মুখ্য। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে পারতেন না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সিলেটি টানে মজার মজার বক্তৃতা দিতেন। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতাম আর খেয়াল করতাম হাসতে হাসতেই আসল কথাটা ঠিকই বলে দিয়েছেন।
খেতে ভালবাসতেন খুব। বিভিন্ন সময় বাসার অনুষ্ঠান, পূজোয় নিমন্ত্রণ করলে তাঁকে খাইয়ে খুব তৃপ্তি পেতেন আমার মা। রান্না যেমনই হোক তার খাওয়া দেখলে মনে হত কি অমৃত না জানি খাচ্ছেন। খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি শরীর ফিট রাখতে পছন্দ করতেন। এইতো গত শীতের সময়ও ব্যাডমিন্টন খেলেছেন নিয়মিত। সবসময় বলতেন আমি মারা গেলে হঠাৎ করে যাব। দীর্ঘদিন রোগে ভোগে যাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। সবইতো ঠিক ছিল স্যার। তবে এত তাড়াতাড়ি কেন গেলেন। এই ফিটনেস নিয়ে আরও কিছু বছর মানুষের সেবা করলে কি এমন ক্ষতি হতো ?

  • [১]