এনামুল হক, ধর্মপাশা
ঘরের সামনের অংশ নিচু থাকায় ঘরে প্রবেশ কিংবা ঘর থেকে বাইরে যেতে গেলে প্রায়ই মাথায় আঘাত লাগে। ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে মাটি আর পাটশলার তৈরি বেড়া ভেঙে গেছে অনেক আগেই। কনকনে শীতে ঠান্ডা বাতাসে এক অসহায় দম্পতির প্রতিটি রাত কাটছে দুর্বিসহ যন্ত্রণায়। বহুকষ্টে যোগাড় করা একটি কাঠের চৌকিতে তেল চিটচিটে বালিশ আর কাঁথা কম্বলে কোনো রকমে রাত পার করে দিতে পারাই যেন যুদ্ধ জয়ের মতো ঘটনা। ঘরের চালায় জরাজীর্ণ অন্যের দেওয়া পুরনো টিনগুলো ফুটো হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় বৃষ্টি আর শীতে কুয়াশার পানিতে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগের। ভাঙা ঘরে জায়গা কম থাকায় এবং ভরণপোষণ করতে না পারায় ওই দম্পতি নিজের একমাত্র মেয়েকেও পাঠিয়ে দিয়েছেন সিলেটে এক আত্মীয়র বাসায়। খাসজমিতে ৮/১০ হাত দৈর্ঘ্যের জরাজীর্ণ ঘরে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে এভাবেই জীবন যাপন করছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের হরিপুর নতুন হাটি গ্রামের বাবুল তালুকদার ও শেফালী তালুকদার নামের ওই দম্পতি।
ষাটোর্ধ বাবুল তালুকদার বর্ষায় কলমি শাক ও কচু লতা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির পর যে টাকা আয় করেন তাতে কোনো রকমে সংসার চলে। বৈশাখে হাওরে কৃষকের ধান মাড়াইয়ের পর খড়ের সাথে জড়িয়ে থাকা ধান ঝেড়ে সংগ্রহ করেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে। সংগৃহীত ধান প্রক্রিয়া করে খাবার উপযোগী করে তুলেন। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় দিনমজুরের কাজ করতে পারেন না ভালো করে। মাঝে মধ্যে কোথাও কাজে গেলে ভালোভাবে কাজ হয়নি এমন অজুহাতে মজুরী না দিয়েই বিদায় করা হয় তাকে। সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাবুলের গ্রামে ছয়টি গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণের কাজ চলছে। অসহায় বাবুল দম্পতি ভেবেছিলেন তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি ঘর পাবেন আর বেঁচে যাবেন দীর্ঘ বছরের দুর্ভোগ থেকে। তাই ঘরের সামনের অংশে মাটি ফেলে জায়গাও প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাবুল দম্পতির জন্য কোনো ঘর বরাদ্দ হয়নি।
বাবুল তালুকদার বলেন, ‘সইল্যের (শরীর) অবস্থা ভালা নাই দেইখ্যা কাম কাজও করতাহারিনা। আমরার গেরামও (গ্রাম) ঘর দিতাছে দেইখ্যা মনে করছিলাম আমিও ঘর হাইয়াম (পাবো)। কিন্তু আমরার ভাগ্যে ঘর নাই।’
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, ‘বাবুল তালুকদারের মতো ব্যক্তিরা যদি ঘর না পায় তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পাওয়ার জন্য ওই দম্পতি অবশ্যই উপযুক্ত। তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’