- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও মুক্তিযুদ্ধোত্তর যুদ্ধ

ইকবাল কাগজী
মঙ্গলবার। ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬। ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। বিকেল ৪টার আগেই উপস্থিত হলাম সুনামগঞ্জ শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারে বিশেষ আগ্রহের আতিশয্যে আক্রান্ত হয়ে। দু’তলায় মিলনায়তনে উঠে দেখলাম, তখনও তেমন কেউ আসেননি। অনুষ্ঠান ৪টার দিকে শুরু হবে। এই অনুষ্ঠানটি মামুলি কোন অনুষ্ঠান নয়। কারও কারও কাছে মনে হতে পারে এটা আমার অতিশয়োক্তি, তবুও মুখ ফুটে বলে রাখি এটি ছিলো সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চর্চার বস্তুনিষ্ট, নির্মোহ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির সাহসী অভিযাত্রা। সুনামগঞ্জের ইতিহাসে এই দিনটি ইতিহাস ঐতিহ্য অনুসন্ধানের সূচনাবিন্দু রূপে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।
আজ এখানে একটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে। সত্যিকার অর্থে এমন অন্যরকম ব্যগ্রতা অতীতে অন্যকোনও অনুষ্ঠানের প্রক্কালে অনুভব করিনি। এর একটি কারণ বোধ করি বইটির লেখক একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বইটির বিষয়বস্তু মুক্তিযুদ্ধ, আর যতদূর জানি লেখক কখনও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি গ্রামান্তরে ঘুরে ঘুরে ১৯৭১ এর বিপন্ন সময় অর্থাৎ যুদ্ধকালকে আবিষ্কারের নেশায় নিমগ্ন হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জের ইতিহাসে এই প্রথম এরকম প্রচেষ্টায় ফসল আমরা অর্জন করতে যাচ্ছি আজ। ইতিহাস অনুসন্ধানের এই অগ্রযাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালের সহযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর অদম্য। অন্য কারণটি হতে পারে এই দুই মুক্তিযোদ্ধাই আমার সতীর্থ, বন্ধু সুহৃদ।
যে বইটির মোড়ক উন্মোচন হবে সেটির নাম ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ; গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য’। সম্ভবত সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা এটি ৫ম বই। এটি কিছুটা ব্যতিক্রমী ও ইতিহাস অনুসন্ধানকার্যে অবিস্মরণীয় স্মরকফলক। বিশেষ করে রচনার করণকৌশলের বাস্তবতার জন্য। মোড়ক উন্মোচনের জন্য ৬ ডিসেম্বর দিনটি          
নির্বাচন করার তাৎপর্য এই যে, ১৯৭১ সালের এই দিনে সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়েছিল।
সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গ্রন্থবদ্ধ করার প্রথম প্রয়াসটি বিভিন্ন কারণে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট বিদগ্ধজন কর্তৃক প্রথ্যাখ্যাত হয়ে এসেছে বরাবরের মতো। এতদঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রাজনীতিবিদ আলফাত উদ্দিন মুক্তার (মুক্তার সাব) এই বইটির কঠোর সমালোচক ছিলেন। অর্থাৎ তথ্য বিভ্রাট বিকৃতি ও বস্তুনিষ্ট নিরপেক্ষতার অভাবসহ সম্পাদকের নিজস্ব কল্পনা দোষে দুষ্ট হয়ে পড়েছে বইটি। ইতিহাসের ধারাভাষ্য বর্ণনায় এমন বিভ্রান্তি করাও কাম্য হতে পারে না।
একাত্তরের পর বাংলাদেশে প্রায় প্রতিষ্ঠানের নামই পাল্টে ফেলা হয়। নতুন নামকরণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে। একটি সদ্য স্বাধীন দেশের ক্ষেত্রে সেটাই স্বাভাবিক। একাত্তর পূর্ব সময়ে সুনামগঞ্জের একটি পুস্তকালয়ের নাম ছিল ‘পাকিস্তান লাইব্রেরী’। বাংলাদেশ হয়ে যাওয়ার পর সে নামটা তো আর থাকতে পারে না। নাম অবশ্যম্ভাবিভাবে পাল্টে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। যেমন পাকিস্তান রেডিও পাল্টে হয়েছিল বাংলাদেশ বেতার। ‘রেডিও এলান’ বদলে রাখা হয়েছিল ‘বেতার বাংলা’। এমনটা স্বাধীন বাংলাদেশে নাম পাল্টে ফেলার একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সুনামগঞ্জের কিছু প্রতিষ্ঠানের নতুন নামকরণ করা হয়। সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার করা হয়। আশেপাশের আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম হয়তো নতুন করে রাখা হয়েছিল। তা হতেই পারে। ইতিহাস স্বাক্ষী, ১৯৭৫ য়ের পট পরিবর্তনের পর এই সব প্রতিষ্ঠানের পুরনো নামে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ফিরে যেতে চেয়েছে পাকিস্তানের স্বর্গরাজ্যে। যদিও তারা বাংলাদেশ নামটি পরিবর্ত করতে পারেনি। তবে খোলনলচে সব পাল্টে দিতে চেষ্টার কোনও কসুর করেনি। নতুন বোতলে পুরানো মদ ভরার কাজে তারা সর্বত্র সর্বসময় থেকেছে সচেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও মিথ্যা  বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করে বিকৃত করে দিতে চেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা লেখক বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু  মোড়ক উন্মোচন সভায় প্রদত্ত তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, ১৯৭৫ এর পর প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের পূর্বনাম প্রতিস্থাপিত করা হয়। জিয়া-এরশাদীয় স্বৈরশাসনের অবসানের অবকাশে ‘সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরী’ নামটি পুনরায় পাল্টে সুনামগঞ্জ ‘ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার’ নামকরণ করা সম্ভব হয়েছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুক্তিযুদ্ধানুরাগী ছিলেন বলে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের যুক্তি ছিল  একজন হিন্দুর নামে লাইব্রেরীর নাম হতে পারে না। তিনি আরোও উল্লেখ করেন যে, জামালগঞ্জের সাচনা বাজারের নাম শহিদ সিরাজুল ইসলামের নামে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই নামটি প্রত্যাহার করা হয়। এ সম্পর্কে আবু সুফিয়ান তাঁর ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ; গণহত্যা, নারীনির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য’ গ্রন্থে বলেন, ‘এই অকুতোভয় শহীদের নামে স্বাধীনতার পর সাচনা বাজারের নামকরণ করা হয়েছিল ‘সিরাজনগর’। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সময়ে এই নাম মুছে ফেলা হয়। শহীদ সিরাজের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এখনই উপযুক্ত ভূমিকা নেওয়ার জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।’ (পৃষ্ঠা ১৬৬-৬৭)
প্রকৃতপ্রস্তাবে এতসব প্রসঙ্গের অবতারণার তাৎপর্য একটাই বলতে চাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল চিহ্ন সচেতন প্রচেষ্টায় মুছে ফেলতে বিকৃত করতে শুরু করেছিল মুক্তযুদ্ধ বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে নিহত করার সঙ্গে সঙ্গেই। এই শত্রুশক্তি  বঙ্গবন্ধুর কোন ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না, আর বঙ্গবন্ধুও তখন ইতিহাসের এমন এক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করেছিলেন যখন তিনি কোনও সাধারণ ব্যক্তি বিশেষ ছিলেন না, ব্যক্তি হিসেবে তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক বিশাল এক যুদ্ধজয়ী স্বাধীন দেশের চিরন্তন প্রতীক। একটি জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের তূর্যবাদক। এই স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পবিত্র ইতিহাসকে কবর দিতেই তারা হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আর প্রতিনিয়ত সচেষ্ট ছিল স্বাধীন দেশের বাস্তবতার অনিবার্য ফল এইসব নামকরণকে পাল্টে দিয়ে পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তনের কাজে। সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনতাত্তোর কালে রাখা নামগুলো পাল্টে দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা তাদের স্বপ্নরাজ্যে ফিরে যাবার একটি রাজনীতিক সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং সে প্রচেষ্টা বর্তমানেও বলবৎ আছে। যে প্রচেষ্টার কেবল একটাই অর্থ হতে পারে, আর সেটা হলো একটি জাতিকে তার ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে জাতিটিতে পঙ্গু করে দেওয়ার দুরভিসন্ধি। কারণ কোনও জাতিকে তার জাতিগত ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারলে সে জাতিকে দাস বানানো যায় না।
এ দেশে এমন কোনও কোনও মুক্তিযোদ্ধা আছেন যিনি মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য বিকৃতির কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে বড় বেশি পছন্দ করেন। শোনা যায় কেউ কেউ ইতিহাসের কেউকেটা বলতে শহিদ জগৎজ্যোতি দাসের যুদ্ধাবদানকে ম্লান করে দেওয়ার বাসনায় নিজের বিজয়ধ্বজা উড়ানোর গালগল্পে বিভোর মশগুল থাকেন এখানে সেখানে। তিনি হয়তো ভুলে থাকতে পছন্দ করেন যে সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ‘দাসপার্টি’ নামে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় ইতোমধ্যে অমরত্ব লাভ করেছ্।ে এই দাসপার্টি জগৎজ্যোতি দাসের নামেই হয়েছে। অন্য কারও নামে নয়। আর সব চেয়ে বড় কথা হলো দেশের জন্য প্রাণটি গেছে জগৎজ্যোতি দাসেরই অন্য কারও নয়। মনে রাখতে হবে। দূরভিসন্ধির কথা উঠেছে। এই দুরভিসন্ধি একটা বিশাল ঐতিহাসিক ব্যাপার। বাংলাদেশের সমগ্র সংস্কৃতির মধ্যে ব্যপ্ত একটা জটিল বিষয়।   
মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে মুছে দিয়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র প্রথমত বঙ্গবন্ধু সহ চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছে। সে হত্যা প্রচেষ্টা প্রলম্বিত হলো অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া পর্যন্ত। এখানেই শেষ নয় এই ষড়যন্ত্রের জাল ২১শে আগস্টের বোমা হামলাও। মনে হয় গত কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিমানের নাটবল্টু ঢিলে করে রাখা পর্যন্ত বিস্তৃত। স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের বহুমুখী প্রচেষ্টার একটা দিক হলো রাজনীতিক হত্যাকা- পরিচালনা।  আর একটি দিক হলো ১৯৭১ য়ের পর নামকরণকৃত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে পাকিস্তানি ভাবাদশর্কে সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। বাংলাদেশ বেতারকে বাংলাদেশ রেডিও করা কিংবা জয় বাংলা না বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলা ইত্যাদি।
শুধু তাই নয়। সে দিনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দাস পার্টির খোঁজে: মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক উপাখ্যান গ্রন্থের লেখক হাসান মোর্শেদ বলেন, আমেরিকা ও পাকিস্তানের অর্থায়নে কোন এক ভারতীয় নাগরিক শর্মিলা বসু গবেষণা করে প্রতিপন্ন করতে প্রয়াস পেয়েছেন যে, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মাত্র ২৫ হাজার লোকক্ষয় হয়েছে।  ১৯৭১ য়ে নয় মাস ব্যাপী কোনও যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, এখানে বিহারি ও বাঙালির মধ্যে একটি জাতিগত দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল মাত্র। এরপর সহজেই বোধগম্য হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরে বাহিরে এখনও সমান তালে অব্যাহত আছে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এককথায় ১৯৭৫য়ের পর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের প্রধান ও রাজনীতিক একমাত্র কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করা। কেউ কেউ মনে করেন এই কর্তব্যকর্মেরই একটি অংশ ছিল সর্বমহলে বিতর্কিত অন্তত এখনও পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জীবিতজনরা মনে করেন বইটিতে ইতিহাসের যথার্থতা নিরপেক্ষতা বস্তুনিষ্ঠতা প্রতিফলিত হয়নি। তারই প্রতিধ্বনি পাই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু প্রদত্ত ভাষণে। তিনি বলেন, যে ১৯৭৫ য়ের পর মুক্তিযুদ্ধের যথাযথ ইতিহাস চর্চার রাজনীতিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ বজায় থাকেনি বা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ চর্চার একটি অচলায়তন সৃষ্টি হয়েছিল।
আবু সুফিয়ান সেই অচলায়তন ভেঙে দিয়েছেন। ইতিহাস রচনায় বিদ্যমান এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক অতিক্রম করতে পেরেছেন তিনি। তাঁর কাজটি আগেই বলেছি ব্যতিক্রমী। ব্যতিক্রমী এ জন্য যে, তিনি একটি শব্দ লিখতে গিয়ে অন্তত: দুই পা হেঁটেছেন ইতিহাসের সন্ধানে অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সংশ্লিষ্ট স্থান, ব্যক্তি সংগঠন ও ঘটনার বিবরণ অনুসন্ধানের সুদীর্ঘ পথে। তা কাজটি অনেকটা উৎখননধর্মী। হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে আবিস্কার করতে প্রতœতাত্ত্বিকরা মাটি খনন করে ইতিহাসের দ্বারোৎঘাটন করেন। পুরনো নিদর্শনগুলো থেকে পাঠোদ্ধার করেন অতীতের। ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ : গণহত্যা, নারীনির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য’ বইয়ের লেখক ইতিহাসের উৎখননের কাজ করেছেন। তিনি সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উৎখননকর্মী। লেখক হিসেবে তিনি যতটা লঘু ইতিহাসের উৎখননকর্মী হিসেবে অতোটার চেয়েও লক্ষগুণ গুরু। এখানেই তিনি বিরলপ্রজন্ম ও মহৎ। তাঁর এই ইচ্চতা চূড়ান্তস্পর্শী। তিনি প্রকৃতপ্রস্তাবে ইতিহাসচর্চার যাত্রাপথে অনন্য এক অগ্রনায়ক ও পথিকৃত।
এই কর্মে তিনি অবশ্য একা নন। তিনি তাঁর ভাষণে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ স্বীকার করেছেন খননসঙ্গী মালেক হুসেন পীর অদম্যের কথা। তিনি বলেছেন, তার সম্পন্ন করার কাজ তুলনায় একশত ভাগের পাঁচ ভাগ মাত্র। বাকী রয়ে গেছে আর আরও ৯৫ ভাগ। সেই ৯৫ ভাগ ইতিহাস উৎখননের কাজে তিনি যতোটা সম্ভব নিয়োজিত থাকবেন এই আমাদের একমাত্র আশা, কামনাও বটে।

  • [১]